নয় জনের হিসাব
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৩, ২১:৫৩
সংবাদ সম্মেলন শেষ হতে পারল না, তার আগেই শুরু হয়ে গেল সবার হিসাব মেলানো। কেউ কেউ কাগজ-কলম নিয়ে তালিকা করতে শুরু করেও ফেললেন। কারো কারো হিসাব এলোমেলো হয়ে সংখ্যাটা ১১-১২ হয়ে গেল!
কিন্তু ১১-১২ বা অন্য কোনো সংখ্যা নয়, সবাই কাল সারাটা বিকেল জুড়ে একটা সংখ্যাই মেলাতে চাইলেন—৯!
সোজা ভাষায়, আইসিসি কোন্ নয় জনকে অভিযুক্ত করলো? কারা পেলেন আইসিসির অভিযোগপত্র?
যেহেতু আইসিসি ও বিসিবি সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইন মেনে তারা কোনো অভিযুক্তর নাম প্রকাশ করবে না; তাই কারো নাম সরাসরি জানার কোনো উপায়ই রইল না। আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসন মেনে নিলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে অনুমান-প্রবণতা বাড়বে, ‘হ্যাঁ, আমরা আপনাদের অবস্থাটা বুঝতে পারি। এর ফলে অনুমানের প্রবণতা হয়তো বাড়বে। কিন্তু আমাদের আইন মেনেই চলতে হবে।’
সেই অনুমানের প্রথম পর্বেই এলো মোহাম্মদ আশরাফুলের নাম।
আশরাফুলের নামটা অবশ্য আর অনুমান করতে হল না। জাতীয় দলের এই তারকা নিজেই স্বীকার করে নিলেন, তিনি আইসিসির অভিযোগপত্র হোটেলে গিয়ে নিয়ে এসেছেন। ফলে আসলে অনুমান করতে হচ্ছে আট জনের নাম।
এই আট জনের মধ্যে আরও একজনের নাম অনুমান করা সহজ হয়ে গেল—মোহাম্মদ রফিক। হোটেল ও বিসিবির বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করলো দেশের কিংবদন্তী এই সাবেক স্পিনার ও আলোচ্য বিপিএল কেলেঙ্কারির সময় ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের বোলিং কোচ থাকা মোহাম্মদ রফিক এসে অভিযোগপত্র নিয়ে গেছেন।
বিসিবির একটি সূত্রই নিশ্চিত করলো যে, হোটেলে সকালে এসেছিলেন খুলনা রয়েল বেঙ্গলসের উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুনও। কিন্তু মিঠুন আদৌ অভিযোগপত্র নিয়েছেন, নাকি অন্য কোনো কাজে এসেছিলেন; সেটা কেউ নিশ্চিত করতে পারলো না।
এর বাইরে আলোচনায় আগে থেকেই ছিলেন ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের দুই খেলোয়াড় মাহবুবুল আলম রবিন ও মোশাররফ হোসেন রুবেল। এই দু’জনের নামে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে কিনা বা তারা আদৌ এই নয় জনের মধ্যে আছেন কিনা; সেটা জানা গেল না।
গুঞ্জন আকারেই জানা গেল আরও দুটো নাম। বিসিবির একটি সূত্র বললো, ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের মালিক সেলিম চৌধুরী ও তার ছেলে শিহাব চৌধুরীর নাম আছে এই তালিকায়। অবশ্য একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাত্কারে কোনোরকম অভিযোগপত্র পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন সেলিম চৌধুরী।
এই নামগুলোর বাইরে দেশের দুই তরুণ তারকার নাম উড়ছিল বাতাসে। এরা দু’জনই সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার বলে পরিচিত। এদের মধ্যে একজন ইতিমধ্যে জাতীয় দলের হয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। আরেকজন ডাক পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।
জানা গেল, ইংল্যান্ড সফরে থাকা বাংলাদেশের দুটি দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে দুই, তিন জন থাকতে পারেন এই তালিকায়। তাদের দ্রুততম সময়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলেও জানা গেছে।
তবে নয় জন খেলোয়াড়ের সবাই যে দেশি খেলোয়াড় বা বর্তমান খেলোয়াড়; এমন কোনো কথা নেই। আইসিসির পক্ষ থেকেই বলা হয়েছে, কোচ-কর্মকর্তা-অন্য স্টাফ যে কেউ থাকতে পারেন এই তালিকায়। তাই বাংলাদেশের আরও একজন সাবেক ক্রিকেটার এবং নিউজিল্যান্ডের একজন বর্তমান ক্রিকেটারের নামও খুব আলোচনায় থাকলো।
কিন্তু কথা ওই একটাই—আশরাফুল ছাড়া নিশ্চিত যে কেউই নন!