একতরফা প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা দেননি আদিলুর

‘অধিকারে’র সাধারণ সম্পাদক আদিলুর রহমানের কাছে গত ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ পরবর্তী সহিংসতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। অধিকার দাবি করেছে ওই রাতে ৬১ জন হেফাজত কর্মী নিহত হয়েছে। ডিবি কর্মকর্তারা তার কাছে নিহতদের তালিকা ও পরিচয় জানতে চেয়েছে। কিসের ভিত্তিতে এবং কোন সূত্র থেকে তার সংস্থা ওই প্রতিবেদন তৈরি করেছে তাও জানতে চেয়েছে ডিবি। তবে এ ব্যাপারে আদিলুর রহমান কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেনি। গ্রেফতারের পর থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ডিবি কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ওই ঘটনায় হেফাজতের ব্যানারে মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় ব্যাংক ও বিভিন্ন অফিসে অগ্নিসংযোগসহ ব্যাপক ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চলে। উপ-পুলিশ কমিশনারের (ট্রাফিক পূর্ব জোন) কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয় ও তার অফিসের ফাইল-পত্র এবং বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ওই সময়ে অফিসে আটকা পড়ে এক পুলিশ সদস্য অগ্নিদগ্ধ হয়। তাকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় এয়ার এম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। বায়তুল মোকাররমে হামলা, পবিত্র কোরআন শরীফ পুড়িয়ে দেয়া, রাস্তার পাশে বইপত্রের দোকানে অগ্নিসংযোগ এবং আশপাশের অফিস-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগসহ স্মরণকালের ভয়াবহ তাণ্ডব চালানো হয়। ন্যায় বিচারের স্বার্থে নিরপেক্ষভাবে ভয়াবহ তাণ্ডবলীলার ঘটনাবলী অধিকারের ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি কেন, ডিবির কর্মকর্তাদের এ প্রশ্নের জবাবে আদিলুর রহমান বলেন, আমার যেটুকু দরকার সেটুকু রিপোর্ট আমি তৈরি করেছি। ডিবির এক কর্মকর্তা জানতে চান, পুলিশসহ বহু সাধারণ মানুষ ওই রাতে হতাহত হয়। ব্যাংকের কোটি কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত এবং লুটপাট হলেও এ সকল ঘটনা কি মানবাধিকারের মধ্যে পড়ে না? এ প্রসঙ্গটিও এড়িয়ে যান আদিলুর রহমান। ৬১ জন হেফাজতের কর্মী নিহতের তালিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সঠিক কোন উত্তর না দিয়ে বলেন, তার কাছে কোন তালিকা নেই। এটি বর্তমানে হংকংয়ে রয়েছে বলে জানান। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, আদিলুর রহমান রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে ৬১ জন কর্মী নিহত হওয়ার ভুয়া তালিকা করেছেন। তিনি জিজ্ঞাসাবাদে কোন সঠিক তথ্য দিতে পারেননি। তার সংগঠনের আর্থিক উত্স সম্পর্কে জানিয়েছেন যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ফিনল্যান্ড থেকে তিনি অনুদান পেয়ে থাকেন। এদিকে গতকাল আদিলুর রহমানকে আদালতে হাজির করা হয়। আদিলুর রহমানের বাসা ও অফিস থেকে জব্দকৃত ল্যাপটপ ও সিপিইউ যাচাই করার জন্য সিআইডিতে প্রেরণ করা হবে বলে ডিবির কর্মকর্তারা জানান। এদিকে আমাদের কোর্ট রিপোর্টার জানান, মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগে আদিলুর রহমান খানের ৫ দিনের রিমান্ড হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত হওয়ায় তাকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। আদিলুর রহমান ডিবি পুলিশের পরিদর্শক আশরাফুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকার সিএমএম আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তফা শাহরিয়ার খান এ আদেশ দেন। গত সোমবার হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ এক আবেদনের শুনানি শেষে সিএমএম আদালতের মঞ্জুরকৃত পাঁচদিনের রিমান্ড স্থগিত করে আদিলুরকে অবিলম্বে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদেশে প্রয়োজনে তাকে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা বলা হয়েছে।