বরগুনায় ‘আনসারুল্লাহ বাংলা’র জসীমসহ ৩১ জন কারাগারে

বরগুনায় জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতারকৃত আহলে হাদিস বাংলাদেশের প্রধান মুফতি জসিমউদ্দীন রহমানীসহ ৩১জনকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। সোমবার বিকালে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে বিচারক মাসুম বিল্লাহ তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার সকালে একই আদালতে গ্রেফতারকৃত আবুল কালামের (তিনি একজন আইনজীবীর সহকারী হিসেবে কর্মরত) জামিনের আবেদন করা হলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে আগামী ২১ আগস্ট পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে শহরের উপকণ্ঠে দক্ষিণ খাজুরতলা এলাকার একটি বাড়িতে বৈঠককালে আহলে হাদিস বাংলাদেশের প্রধান মুফতি জসিমউদ্দীন রহমানীসহ ৩১জনকে আটক করে বরগুনা থানা পুলিশ। তাদের কাছ থেকে কিছু জিহাদী বই ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়েছে। বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মুফতি জসীমউদ্দিন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, আহলে হাদিসসহ অনেকগুলো সংগঠনের সঙ্গে সমপৃক্ত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ধর্মীয় উগ্র মতবাদ প্রচারের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি আরও বলেন, জসীমউদ্দীনকে জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) ও হরকাতুল জিহাদের প্রধান হওয়ার আমন্ত্রণ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। এছাড়াও মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের পক্ষে যুদ্ধে অংশ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ থেকে লোক পাঠানোর কাজ করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। মুফতি জসীমউদ্দীন রহমানীর সাথে গ্রেফতারকৃত সবার বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। গ্রেফতারের পর কয়েকজন জানান, তারা সবাই মুফতি জসীমউদ্দিনের ভক্ত। তার আহবানে ও তার কথা শোনার জন্যই তারা ঐ বাড়িতে সমবেত হয়েছেন। পুলিশ আরো জানায়, জসীমউদ্দিন বরগুনা সদর উপজেলার দক্ষিণ হেউলিবুনিয়া গ্রামের মৃত নূর হাওলাদারের ছেলে। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে চতুর্থ জসীমউদ্দিন বরগুনা শহরের ইসলামিয়া হাফেজিয়া মাদরাসা থেকে হাফেজি পাস করেন। পরে ঢাকার মোহাম্মদপুরে শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক প্রতিষ্ঠিত জামেয়া রাহমানিয়া মাদরাসায় ভর্তি হন। সেখান থেকে তিনি দাওরা পাস করেন। এরপর তিনি ভারতের দেওবন্দে পড়াশোনা করেন এবং পরবর্তী সময়ে হায়দরাবাদের সাবেলুস সালাম মাদরাসা থেকে মুফতি পাস করেন। তারপর তিনি ঢাকার জামেয়া রাহমানিয়া মাদরাসায় ও বরিশালের মাহমুদিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। ২০০৪ সালে তিনি বরগুনা সদরঘাট মসজিদের প্রধান খতিব হিসেবে চাকরি করেন। পরে তিনি সৌদি আরবের মদিনায় লিসানস বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এরপর দেশে ফিরে প্রথমে ধানমন্ডির হাতেমবাগ মসজিদের খতিব ছিলেন। বর্তমানে মুফতি জসীমউদ্দিন মারকাজুল উলুম আল ইসলামিয়া নামে একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। এই মারকাজুলের অধীনে তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকায় একটি মাদরাসা ও একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেখান থেকেই দীর্ঘদিন ধরে তিনি ওয়াজ, জুমার নামাজের খুতবা, পুস্তিকা ছাপিয়ে ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে উগ্র ইসলামী মতবাদ প্রচার এবং তরুণদের জিহাদে উদ্বুদ্ধ করে আসছেন। একই সঙ্গে তিনি গোপনে জঙ্গি তত্পরতা চালিয়ে আসছেন বলে পুলিশের ঐ সূত্রটি দাবি করেছে। অন্যদিকে, গ্রেফতারের সময় মুফতি জসিমউদ্দীন রহমানী বলেন, তার কোনো নির্দিষ্ট সংগঠন নেই। তিনি সহি ইসলাম প্রচারক। বরগুনা সদর থানার ওসি শীল মনি চাকমা জানান, গ্রেফতাকৃতদের বিরুদ্ধে সোমবার বিকালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় একটি মামলা করা হয়েছে। এছাড়া মুফতি জসীমউদ্দীনের বিরুদ্ধে ঢাকায় পল্লবী ও উত্তরা পশ্চিম থানায় আরও দুটি মামলা রয়েছে। বরগুনার পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ জানিয়েছেন, মুফতি জসীমউদ্দিন একজন উগ্রপন্থী ইসলামী নেতা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। রিমান্ডে এনে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।