ভোলা ১ ও ২ আসনে শুধু নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়েছে
এম ফারুকুর রহমান, ভোলা থেকে
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪৭
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে যা একটু উত্তাপ ছড়িয়েছে তা শুধু ভোলা-১ ও ২ আসনেই। ভোলার বাকি দুইটি আসনে সে অর্থে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়নি। আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা তোফায়েল আহমেদ গত দেড় মাস ধরে চষে বেড়াচ্ছেন ভোলা সদর ও বোরহানুদ্দিন-দৌলতখান এলাকা। চালাচ্ছেন গণসংযোগ। বলছেন আওয়ামী লীগের সাফল্যের কথা। ভোলা সদর আসনের বর্তমান এমপি ১৮ দলীয় জোটের শরিক বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ। শোনা যাচ্ছে এবার এই আসনে আওয়ামী লীগের পক্ষে লড়বেন বর্তমানে ভোলা-২ আসনের এমপি তোফায়েল আহমেদ।
এই আসনে আওয়ামী লীগে চরম কোন্দল রয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ভোলা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল কাদের মজনু মোল্লার সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আবদুল মমিন টুলুর অনেক দিন ধরেই গ্রুপিং চলছে। এর প্রভাব পড়ছে দলের তৃণমূলেও। আবদুল মমিন টুলুকে সমর্থন দিচ্ছেন তেফায়েল আহমেদ। আর মজনু মোল্লার পেছনে আছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসূফ হোসেন হুমায়ুন।মজনু মোল্লাও এই আসন থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। রূপালী ব্যাংকের পরিচালক ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহবুবুর রহমান হিরণও মনোনয়নের জন্য প্রচার-প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। শুধু গরিবদের মধ্যে শাড়ি, লুঙ্গি আর টাকা বিতরণই নয়, তিনি বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ করে বেড়াচ্ছেন সমানতালে। ভোলার বিভিন্ন প্রান্তে শোভা পাচ্ছে তার ছবি সম্বলিত ডিজিটাল ব্যানার ও বিলবোর্ড।
তবে জেলার সাধারণ লোকজন বলছেন, এই আসনে তোফায়েল আহমেদের বিকল্প নেই। বর্তমান এমপি আন্দালিব রহমান পার্থ এখনও প্রচারণায় নামেননি। জোট কাকে মনোনয়ন দিবে তাই হয়তো দেখতে চাচ্ছেন তিনি।
জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীরও এখানে বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন। তিনি বিএনপি দলীয় সাবেক মন্ত্রী মরহুম মোশারফ হোসেন শাজাহানের ছোট ভাই। ভোলায় বিএনপিকে শক্ত অবস্থান এনে দেন মোশারফ হোসেন শাজাহান। গত বছর তার মৃত্যুর পর গোলাম নবী আলমগীর দলের হাল ধরে দলের অবস্থান আরো মজবুত করেন। গোলাম নবী আলমগীরকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী তা মেনে নেবে কিনা সেটাই প্রশ্ন।
বোরহানুদ্দিন-দৌলতখান নিয়ে ভোলা-২ আসন। আগামী নির্বাচনে তোফায়েল আহমেদ এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলে সেখানে আওয়ামী লীগের তেমন শক্তিশালী প্রার্থী পাওয়া যাবে না। যদিও তোফায়েল আহমেদ এই আসনেও ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন সেক্ষেত্রে এই আসনে আওয়ামী লীগ থেকে সারওয়ার জাহান তুহিন চৌধুরী, রফিকুল ইসলাম মমিন কিংবা বর্তমান পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন। এই আসনে সাবেক এমপি হাফিজ ইব্রাহিম বিএনপির মনোনয়ন পাবেন এটা নিশ্চিত।
লালমোহন-তজুমদ্দিন এলাকা নিয়ে ভোলা-৩ আসন। বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের নূর নবী চৌধুরী শাওন। শাওন আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন চাইবেনই। এছাড়া আওয়ামী লীগের হয়ে আরো দুইজন মনোনয়ন চাইতে পারেন। তারা হলেন সাবেক এমপি মেজর (অব.) জসিম উদ্দিন ও মোবাশ্বির আলী স্বপন। এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে মোকাবিলা করতে হবে বিএনপির একমাত্র প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমকে।
চরফ্যাশন-মনপুরা নিয়ে ভোলা-৪ আসন। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রার্থী হবেন আওয়ামী লীগ দলীয় বর্তমান এমপি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব। বিএনপি থেকে সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন আলম প্রার্থী হবেন। ব্যবসায়ী লায়ন নজরুল ইসলামও বিএনপির মনোনয়ন চাইতে পারেন।