নম্বরবিহীন মোটর সাইকেলে
ভরে গেছে সুনামগঞ্জ
আলম সাব্বির, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০১৩, ২১:৪৪
জেলার ১১ উপজেলার গ্রামীণ সড়কে ভাড়ায় চালিত প্রায় ৩ হাজার মোটর সাইকেল রেজিস্ট্রেশনবিহীন রয়েছে। সাম্প্রতিককালে শহরে ছিনতাই ও চুরির কাজেও এসব রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটর সাইকেলের ব্যবহার হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমার উত্তরপাড়ের মনিপুর হাটি থেকে বিশ্বম্ভরপুরের বিভিন্ন এলাকার যুবকরা যাত্রী পরিবহনের কাজে এক হাজারেরও বেশি মোটর সাইকেল চালায়। এসব মোটর সাইকেলের ৯৫ ভাগই রেজিস্ট্রেশনবিহীন। উত্তর সুরমা মোটর সাইকেল বহুমুখী চালক সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি আয়ুব আলী বলেন, ‘৫ বছর আগেই তাদের সমিতির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। ঐ সময়ই তাদের সমিতির ৩১১টি মোটর সাইকেল ছিল। এখন এই সংখ্যা ৩/৪ গুণ বেড়েছে, তবে সমিতির কার্যক্রম এখন আর নেই।’
আয়ুব আলী বলেন, ‘যারা মোটর সাইকেল ভাড়ায় চালায় তারা ঋণ করে মোটর সাইকেল কিনে। অনেক সময় কিস্তিতে মোটর সাইকেল কিনে কিস্তি পরিশোধও করতে পারে না। কিছু টাকা রোজগার করে সাইকেল বিক্রি করে দেয়, অর্থাত্ হাত বদল হয় বার বার। তিনি বলেন, ‘সমিতি শক্তিশালী থাকলে এবং প্রশাসন সহায়তা করলে সমিতির মাধ্যমেও নম্বরবিহীন মোটর সাইকেলকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।’
ধর্মপাশা উপজেলা মোটর সাইকেল চালক সমবায় সমিতি লি.-এর সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জানান, রেজিস্ট্রেশনবিহীন অনেক মোটর সাইকেল সীমান্তের ওপার থেকে মাদক আনা, নারী পাচার, ছিনতাই ও চুরির কাজেও ব্যবহূত হয়। তার মতে প্রশাসন যুক্ত থাকলে এবং সেবার মানসিকতা নিয়ে সমিতি করলে, সমিতির মাধ্যমেই অনেক অপরাধ কমানো সম্ভব।
শুল্ক বন্দর বড় ছড়ায় দুর্জয় মোটর সাইকেল চালক কল্যাণ সমবায় সমিতি লি.-এর ২৭ সদস্যের ২৭টি মোটর সাইকেল ছাড়াও বড় ছড়া এলাকায় আরো এক-দেড়শ মোটর সাইকেল রয়েছে। এগুলোর বেশির ভাগেরই রেজিস্ট্রেশন নেই বলে স্বীকার করেন ঐ সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম।
জামালগঞ্জের উদয়ন যুব সংঘ সমবায় সমিতির ভাড়ায় চালিত প্রায় ১শ মোটর সাইকেল রয়েছে। এর বাইরে আরো ১শর বেশি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটর সাইকেল রয়েছে। সমিতির সভাপতি বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘সবগুলো মোটর সাইকেল রেজিস্ট্রেশন করানোর চেষ্টা করছেন তারা।
টিআইবির সচেতন নাগরিক কমিটি, সুনামগঞ্জের সভাপতি শিক্ষাবিদ পরিমল কান্তি দে বলেন, ‘সুরমার উত্তরপাড়ে অনেক অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালক আমি দেখেছি। রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটর সাইকেল অপ্রাপ্ত বয়স্করা ভাড়ায় চালায় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ৩ জন যাত্রী সাইকেলে তুলে অর্থাত্ এক মোটর সাইকেলে ৪ জন চলে। এসব রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটর সাইকেল নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন।’
পৌরসভার মেয়র আইয়ুব বখত জগলুল বলেন, সপ্তাহখানেক আগে ‘ছিনতাই কাজে ব্যবহূত একটি মোটর সাইকেল আটক করার পরও এর মালিক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ বলেছে, সাইকেলটি একাধিক হাত ঘুরেছে এবং সুরমার উত্তর পাড়ের একজনের কাছ থেকে ৪ ঘণ্টার জন্য ঐ মোটর সাইকেল ভাড়া আনা হয়েছিল। এতেই বুঝা যায়, নম্বরবিহীন বা রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটর সাইকেল অপরাধের কাজে ব্যবহূত হচ্ছে। এসব মোটর সাইকেলকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে।’
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল হোসেন বলেন, রেজিস্ট্রেশনবিহীন বা জেলার অন্য এলাকার নম্বরবিহীন মোটর সাইকেলগুলোর বিষয়ে সকলের সঙ্গে কথা বলে এর সংখ্যা কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।’