দেশি জাতের ফল

বাংলাদেশের মৌসুমি ফল গুণে-মানে সর্বোত্কৃষ্ট এবং পুষ্টিকর- একথা সর্বজনবিদিত। প্রতি বছর দেশে প্রচুর মৌসুমি ফলের উত্পাদন হয়ে থাকে। আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা, লটকন, আনারস এবং অন্য বিভিন্ন প্রকার মৌসুমি ফল কোনোক্রমইে বিদেশি ফলের চেয়ে গুণেমানে কম নয়। কিন্তু প্রতি বছর পত্রিকান্তরে দেখা যায় যে বিপণন, পরিবহন, কোল্ডস্টোরেজ এবং সংরক্ষণের অভাবে উত্পাদিত ফলের উল্লেখযোগ্য অংশ পচে নষ্ট হয়ে যায়। সম্প্রতি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে যে, বাজারজাত না করতে পারায় কাঁঠাল চাষিরা তাঁদের উত্পাদিত কাঁঠাল নিয়ে বিপাকে পড়েন। অবিক্রীত কাঁঠাল পরে গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহূত হয়। এই অপচয় সত্যিই দুঃখজনক। মৌসুমে উত্পাদিত ফলের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পচে নষ্ট হয়ে যায়। দেশি জাতের এই ফল সংরক্ষণ এবং টিনজাত করে অমৌসুমে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করার সুযোগ আছে। ফল সংরক্ষণ এবং টিনজাত করার জন্য ফল উত্পাদিত অঞ্চলসমূহে ছোট কৃষিশিল্প এবং কোল্ডস্টোরেজ গড়ে তোলার জন্য উদ্যোক্তাদের কৃষিঋণ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারলে সম্ভাবনাময় এই শিল্পটি দেশের অর্থনৈতিক খাতে অবদান রাখতে পারে। অতএব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বিভাগ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আশা করি। মাহতাব আলী, মিরপুর, ঢাকা