রাজত্ব ফিরে পেলেন পোলভোল্টের রাণী

পড়তি বেলায় আবার জ্বলে উঠলেন মেয়েদের পোলভোল্টের ইতিহাসে সবচাইতে সফল অ্যাথলিট ইয়েলিনা ইসিনবায়েভা। গত মঙ্গলবার রাতে রাশিয়ার এই পোস্টার কন্যা নিজের গড়া বিশ্ব রেকর্ড ভাঙ্গতে না পারলেও চার বছরের মধ্যে নিজের সেরা উচ্চতায় লাফিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্ব শিরোপা জিতলেন। একই সাথে জাগিয়ে তুললেন রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে অনুষ্ঠানরত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপটিকেও। কেননা তার এই সাফল্যের প্রত্যাশায় রুশিরা অ্যাথলেটিক্সের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপটিতে উত্সাহী হয়ে বিপুল সংখ্যায় গ্যালারিতে এসে বসেন। পোলভল্টের রাণীও তাদের তৃপ্তিতে ভাসান। ইসিনবায়েভা এই রাতে ৫.০৭ মিটারে লাফিয়ে বিশ্ব রেকর্ড ভাঙ্গার চেষ্টা চালালেও পারেননি। পারলে এটি হতো তার ২৯তম বিশ্ব রেকর্ড। তবে তার সান্ত্বনা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা পুনরুদ্ধার। ৩১ বছরের এই রুশ কন্যা লুজনিকি স্টেডিয়ামে ৪.৮৯ মিটার লাফিয়ে বর্তমান অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের জেনিফার সুহর ও আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী কিউবার ইয়ারিসলি সিলভাকে পরাস্ত করেন। সুহর সিলভার ও সিলভা ব্রোঞ্জ জেতেন। এই জেনিফারের কাছেই লন্ডনে সোনা হাতছাড়া করেছিলেন ইসিনবায়েভা। তিনি এর আগে ২০০৫ ও ২০০৭ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের পাশাপাশি ২০০৪ ও ২০০৮ অলিম্পিকেও এই ইভেন্টে সোনা জেতেন। দীর্ঘদিন পর কোন শিরোপা জয়ের কারণে আনন্দে আত্মহারা ইসিনবায়েভা বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া মাত্রই প্রথমে কোচ ইয়েভগেনি ট্রোফিমভকে আনন্দে জড়িয়ে ধরেন। লন্ডন অলিম্পিকের আগে তার তরুণী বয়সের এই কোচই এগিয়ে আসেন ইসিনবায়েভার ক্যারিয়ার পুনরুজ্জীবনের জন্য। এরপর তিনি ছুট লাগান দর্শক গ্যালারির দিকে। দর্শকরাও তাকে জড়িয়ে ধরে আত্মহারা হন। তার সাম্প্রতিক পারফর্মেন্স অবশ্য নিম্নমুখী ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার দেগুতে দুই বছর আগের আসরটিতেই তিনি ষষ্ঠ হয়ে সবাইকে হতাশ করেন। এমনকি গত বছরের লন্ডন অলিম্পিকেও তাকে ব্রোঞ্জ জিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল। সব মিলিয়ে এবারের আসরেও তাকে ঘিরে বিশ্বের ক্রীড়ামোদীদের খুব বেশি আশাবাদ ছিল না। তিনি নিজেও জানিয়ে রেখেছিলেন এই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের পর বিদায় নেবেন। সম্প্রতি অবশ্য সেই ঘোষণা থেকে সরে এসে বলেছিলেন বিয়ে সেরে মা হয়ে আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামবেন তিনি। এ জয়ের পর খোদ রুশ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদব তাকে খেলা চালিয়ে যেতে অনুরোধ জানান। কিউবান সিলভা সোনাজয়ী রুশিটিকে নিয়ে বলেন,‘কালের সেরা কারো কাছ থেকে সবসময় এরকম কিছুই আশা করা উচিত। কখনোই তাদের বাতিল করে দেবেন না।’ রুশিটি বলেন, ‘আমি আবেগ আক্রান্ত। তা কেবল বাড়বে, উধাও হবে না। আমি বিশ্বরেকর্ড উচ্চতায় লাফাতে পারিনি। রেকর্ড গড়তে পারলে সেটা হতো বোনাস। তবে আমি ৪.৮২ মিটার লাফিয়েই উত্তেজনায় থর থর করতে থাকি। ৪.৮৯ মিটারের পর আমি নিজের সব অবরুদ্ধ আবেগকে বেরিয়ে আসতে দেই। আমি ক্লান্ত ছিলাম বলে ৫.০৭ মিটারে পারিনি। তবে টেকনিক্যাল দিক থেকে সে প্রয়াসটি ভাল ছিল। এ মৌসুমে আরো দুটি প্রতিযোগিতা আছে, সেগুলোতে রেকর্ড ভাঙ্গতে আবার চেষ্টা চালাবো। এখন আমি খুশি। আমিই হলাম পোলভল্টের রাণী, এই শিরোপা আমার।’ ইসিনবায়েভা আপাতত কিছুদিন ঘর সংসার করবেন। তারপর আবার ফিরবেন ট্র্যাকে। এমনকি তার বড় লক্ষ্য হতে পারে ২০১৬ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠেয় অলিম্পিক আসরটি।