চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার জট পণ্য পরিবহন ব্যাহত
সালাহউদ্দিন মো. রেজা, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০১৩, ২২:৩৫
চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনারের স্তূপ পড়েছে। ঈদের ছুটি হরতালসহ সাপ্তাহিক ছুটির কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের বিশাল এলাকায় কন্টেইনারের জটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে কন্টেইনার পরিবহনসহ বন্দরের ভিতরে পণ্য পরিবহন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরে গতকাল বুধবারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২৯ হাজার ৫০০টি ইইউএস কন্টেইনার রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে বন্দরের জেটি ইয়ার্ড এলাকাসমূহে গড়ে ২৫ হাজারটি ইইউএস কন্টেইনার থাকে। তবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ফরহাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, ঈদের ছুটি ও হরতালের কারণে বন্দরে কন্টেইনারের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। এতে করে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং কিংবা কাজে কোন ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে না।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার ধারণ ক্ষমতা প্রায় ৩১ হাজারটি ইইউএস। সে হিসেবে এখনও ইয়ার্ডসমূহে কন্টেইনার রাখার খালি জায়গা রয়েছে। কিন্তু বন্দরের বাস্তব অবস্থায় দেখা যায়, বিভিন্ন ইয়ার্ডের সংস্কারের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি এবং অনেক ইয়ার্ড এক প্রকার ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় বন্দরের কন্টেইনার ধারণ ক্ষমতা কমে গেছে। বন্দরের পুরকৌশল বিভাগ থেকে জানা যায়, একাধিক ইয়ার্ডের সংস্কার কাজ চলার কারণে কন্টেইনারসহ পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। জানা যায়, বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের দ্রুত তাদের পণ্যবাহী কন্টেইনারসমূহ ডেলিভারি নেয়ার জন্য তাগাদা দেয়া হচ্ছে।
গতকাল বুধবার ১ হাজার ৭শ’ কন্টেইনার খালাস নেয়ার জন্য ইন্ডেন্ট দেয়া হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে এবং বহির্নোঙ্গরে ৩০টি জাহাজে পণ্য লোডিং ও আনলোডিং-এর কাজ চলছে। এর মধ্যে ১৪টি জাহাজ বন্দরের ভিতরে বিভিন্ন জেটিতে এবং বাকি ১৬টি বহির্নোঙ্গর এলাকায় রয়েছে। এছাড়া গতকাল বন্দর থেকে ১০টি জাহাজ ছেড়ে গেছে এবং ৮টি জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য খালাসের দায়িত্বে নিয়োজিত সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকে এখনও কর্মস্থলে না পৌঁছানোর কারণেও পণ্য খালাস ধীরগতিতে হচ্ছে। সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ জানান, আগামী রবিবার থেকে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসের কাজ পুরো মাত্রায় চলবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে বলা হয়, বন্দরে বর্তমানে যে পরিমাণ কন্টেইনার রয়েছে তাতে তারা কোনভাবেই উদ্বিগ্ন নয়। তারা মনে করে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এ অবস্থা স্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছাবে।