আইনি লড়াই শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে ইসি
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০১৩, ২২:৩৮
হাইকোর্টের রায়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ হলেও নির্বাচন কমিশন এখনই কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) জাবেদ আলী। তার মতে, জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করা হলেও তাদেরকে আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাই বিষয়টির চূড়ান্ত নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কমিশন অপেক্ষা করবে।
গতকাল বুধবার নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে কমিশনার জাবেদ আলী সাংবাদিকদের আরো জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ (আরপিও)-এর ৯০ (এইচ) ধারা অনুযায়ী নিবন্ধিত কোন রাজনৈতিক দলকে সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে কমিশন তার নিবন্ধন বাতিল করতে পারে। অন্যথায় কমিশনের পক্ষে কোন দলের নিবন্ধন বাতিলের প্রক্রিয়া অনেক জটিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০০৮ সালে শর্ত সাপেক্ষে জামায়াতকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছিল। সেই নিবন্ধন আদালত বাতিল করলে তারা পুনরায় শর্তপূরণ সাপেক্ষে কমিশনে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারে। এতে কোন বাঁধা নেই।
২০০৮ সালে শর্ত সাপেক্ষে বিতর্কিত এই রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দেয় নির্বাচন কমিশন। এরপরে একাধিকবার কমিশন থেকে জামায়াতকে শর্ত পূরণের তাগিদ দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়। সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে কমিশনে সংশোধিত গঠনতন্ত্র জমা দিয়েছিল জামায়াত। এ প্রসঙ্গে গতকাল জাবেদ আলী সাংবাদিকদের বলেন, জামায়াতের দেওয়া সংশোধিত গঠনতন্ত্র নিয়ে কমিশন বিশ্লেষণে বসেছিল। কিন্তু আদালতে দায়েরকৃত রীট মামলাটি সামনে চলে আসায় কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিরত থাকে। আদালতের চূড়ান্ত আদেশের দিকেই কমিশন এখন তাকিয়ে আছে বলে জানান তিনি।
দলটির নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, কমিশন দলটির নিবন্ধন দিয়েছিল। তবে এতে শর্ত ছিল দলটি তাদের গঠনতন্ত্র থেকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো বাদ দেবে। আগের কমিশন এ বিষয়ে তাদের বারবার চিঠি দিয়েছে। বর্তমান কমিশন থেকেও তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারাও তাদের জবাব দিয়েছে। জাবেদ আলী বলেন, আদালত যদি দলটির নিবন্ধন বাতিল করে তবেই তারা আবার নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবে।
উল্লেখ্য, ১ আগস্ট জামায়াতকে দেওয়া নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধন অবৈধ বলে রায় দেয় হাইকোর্ট। রায়ের পরপরই প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, আদালতের রায় হাতে পেলেই রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নিবন্ধন থাকবে কি না তা জানা যাবে। এ ক্ষেত্রে রায়ের নির্দেশনা বিবেচ্য হবে। তবে গতকাল পর্যন্ত আদালতের রায়ের কপি কমিশন পায়নি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার জাবেদ আলী।