রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

১৫ই আগস্ট উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী আলাদা আলাদা বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা শোককে শক্তিতে রূপান্তর করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ জাতির পিতাকে হারানোর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে দেশ গড়ায় আত্মনিয়োগ করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বুধবার এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি বাণীতে বলেন, ‘আজ ১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস। বাঙালি জাতির শোকাবহ দিন। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৮তম শাহাদাত বার্ষিকী আজ। তিনি বাণীতে এ দিনে শোকাহত চিত্তে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।’ তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। দেশের স্বাধীনতা বিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে ঘাতকচক্রের হাতে ধানমন্ডির নিজ বাসভবনে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান শহীদ হন। এ ঘটনা কেবল বাঙালির ইতিহাসে নয়, পৃথিবীর ইতিহাসেও বিরল। আবদুল হামিদ বলেন, ‘আমাদের জাতীয় ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর অবদান অপরিসীম। তারই নেতৃত্বে বাঙালি জাতি বহু কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা অর্জন করে। ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ‘৭০ এর সাধারণ নির্বাচনসহ এ দেশের গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে তিনি এই জাতিকে নেতৃত্ব দেন। এ জন্য তাকে বহুবার কারাবরণসহ অমানসিক নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৫ আগস্টের শোককে শক্তিতে পরিণত করে জাতির জনকের স্বপ্ন সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বুধবার এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বাণীতে বলেন, ‘ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ, অসামপ্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার এ সংগ্রামে আমাদের অবশ্যই জয়ী হতে হবে। তিনি বলেন, ‘ঘাতকচক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তার স্বপ্ন ও আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ ও তিতিক্ষার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনাদর্শ বাঙালি জাতির অন্তরে লিপিবদ্ধ হয়ে আছে।’ প্রধানমন্ত্রী জাতীয় শোক দিবসে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী, সাহসী এবং ঐন্দ্রজালিক নেতৃত্বে বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য। বাঙালি পেয়েছে স্বাধীন রাষ্ট্র, নিজস্ব পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীত। তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের পর থেকেই এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত স্বাধীনতাবিরোধী চক্র হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করে। ইনডেমনিটি অর্ডিনেন্স জারি করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ বন্ধ করে দেয়। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে। মার্শাল ল’ জারির মাধ্যমে গণতন্ত্র হত্যা করে। সংবিধান ক্ষত-বিক্ষত করে। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করে। দূতাবাসে চাকরি দেয়। স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধীদের নাগরিকত্ব দেয়। রাষ্ট্রক্ষমতার অংশীদার করে। রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে পুনর্বাসিত করে। পরবর্তীকালে বিএনপি-জামায়াত সরকারও একই পথ অনুসরণ করে। আমরা গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর। কোনো ষড়যন্ত্রই আমাদের সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না।’ বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি জেপি’র শ্রদ্ধা নিবেদন জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম শোকাবহ ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে গতকাল বুধবার বিবৃতি প্রদান করেছেন। বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেছেন, ৭৫ এর ১৫ আগস্ট কালরাত্রে ঘাতকের বুলেট কেড়ে নেয় বাঙালি জাতির পিতা, বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রাণ। কিন্তু ঘাতকরা তখন জানতো না যে, মুজিব আদর্শ মৃত্যুঞ্জয়ী এবং যতদিন বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন এই মহামানব ও তার আদর্শ বাঙালি জাতিকে পথ দেখাবে। বিবৃতিতে জেপি নেতৃদ্বয় বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্ট রাত্রে তার পরিবারের যে সকল সদস্য নিহত হয়েছেন এবং সেনাবাহিনীর কর্নেল জামিলসহ ১৫ আগস্টে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন। বিবৃতিতে জেপি নেতৃদ্বয় বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অপরিসীম ত্যাগ, অপূর্ব সাংগঠনিক ক্ষমতা, বিষ্ময়কর বাগ্মিতা এবং জন মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা তাকে আমাদের ইতিহাসের মহানায়কে পরিণত করেছে। আজকের এই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর সবচাইতে বড় অর্জন। বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মাধ্যমে ইতিহাসের এই মহান নায়কের নেতৃত্বেই বাঙালি জাতি ১৯৭১ এর রক্তক্ষয়ী গৌরবময় মুক্তিসংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছিল। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সবচাইতে বড় ও কার্যকর অনুপ্রেরণা দাতা। তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জনগণের প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং দেশপ্রেম আজকের নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। জাতিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে যখন একটি সুখী সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়ার পথে বঙ্গবন্ধু অগ্রসর হয়েছিলেন, তখন ঘাতক এই নরপশুরা পৃথিবীর ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে কেড়ে নেয় বঙ্গবন্ধুর প্রাণ। জাতি আজও তাই এই দিনে গভীর শোকের সঙ্গে স্মরণ করে জাতির পিতাকে এবং ঘৃণার বিষবাষ্পে দগ্ধ করে ঘাতকদের। আমরা সেই ১৫ আগস্টের শাহাদাতবরণকারী বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর তিন পুত্র কামাল, জামাল, রাসেল এবং দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মনি ও তার স্ত্রী আরজু মনি এবং কর্নেল জামিলসহ ১৫ আগস্টে সকল শহীদদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি এবং তাদের রূহের মাগফিরাত কামনা করি।