বঙ্গবন্ধুর প্রথম শাহাদাত বার্ষিকী
ভৈরবে পালন করতে
গিয়ে গ্রেফতার
হন ২২ জন
মো. তুহিন মোল্লা, ভৈরব সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪১
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম শাহাদত্ বার্ষিকী ভৈরবে পালন করতে আমরা মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছিলাম। আমার সঙ্গে ছিল আরো ২১ জন স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী। এ ঘটনার খবরে সামরিক শাসকের নির্দেশে ভৈরব থানা পুলিশ সেদিন মিলাদের আয়োজন পণ্ড করে আয়োজকদের গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়। কথাগুলো বলছিলেন ভৈরবে বঙ্গবন্ধুর প্রথম শাহাদত্ বার্ষিকী পালনের প্রধান আয়োজক তত্কালীন ভৈরব থানা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট ফখরুল আলম আক্কাছ।
সেদিন গ্রেফতার হয়েছিলেন—অ্যাডভোকেট ফখরুল আলম আক্কাছ (সাবেক মেয়র), আসাদুজ্জামান ফারুক (সাংবাদিক), রুহুল আমিন, মাহাবুর রহমান, মতিউর রহমান, মফিজুর রহমান, মোশারফ হোসেন ওরফে জজ মিয়া (মৃত), জিল্লুর রহমান (মৃত), আসাদ মিয়া, আতাউর রহমান, আসাদুল হক শিশু, দিলীপ চন্দ্র সাহা, দিজেন্দ্র চন্দ্র সাহা, ফজলুর রহমান, আব্দুল হামিদ, মো. ইদ্রিস, মো. শাহ জালাল, ফিরোজ মিয়া, রসরাজ সাহা, মাহাবুব আলম, সুবল চন্দ্র কর (মৃত) ও আজমল ভুঁইয়া।
ফখরুল আলম আক্কাছ বলেন, ১৯৭৬ সালে ১৫ আগস্ট ভৈরবের হাজী আসমত কলেজের শহীদ আশুরঞ্জন ছাত্রাবাসে (বর্তমান শৈবাল আবাসিক হোটেল) বঙ্গবন্ধুর প্রথম শাহাদত্ বার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল ও কোরআন খতমের ব্যবস্থা করা হয়। কথা ছিল আসর নামাজের পর মিলাদ পড়ানো হবে। কিন্তু ইতিমধ্যে এ খবর পৌঁছে যায় সামরিক সরকারের উচ্চপর্যায়ে। তখনই ভৈরব থানা পুলিশের কাছে নির্দেশ আসে মিলাদের আয়োজন পণ্ড করে আয়োজকদের গ্রেফতার করতে। পুলিশ আসর নামাজের আগে আয়োজন পণ্ড করে ১৫ জন মৌলভীসহ ৩৭ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ১৫ জন মৌলভীকে মুচলেকা দিয়ে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। বাকি আটকৃতদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদি হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করে। কিন্তু অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় দীর্ঘদিন কারাভোগের পর একে একে সবাই মামলা থেকে খালাস পান। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, আমার দুঃখ একটাই যারা বঙ্গবন্ধুর প্রথম শাহাদত্ বার্ষিকীতে চুপ করে ঘরে বসেছিল তারাই আজ ভৈরবের আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে রয়েছে।