আর্জেন্টিনার জয়ের রাতে ব্রাজিলের আত্মঘাতী হার

দানি আলভেজের আত্মঘাতী গোলে কনফেডারেশন কাপ জয়ী ব্রাজিল সুইজারল্যান্ডে হেরে গেলেও লিওনেল মেসিহীন আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে হারালো আরেক সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে। আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রাক্কালে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচের রাতে দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছিল সফল। প্যারাগুয়ে এর বড় উদাহরণ। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা দেশটির চূড়ান্ত পর্বে যাওয়ার কোন আশা নেই বললেই চলে। এরকম একটি দলের কাছে জার্মানি ৩-৩ গোলে ড্র করতে বাধ্য হয়েছে। নতুন কোচ ভিক্টর জেনেসের অভিষেক ম্যাচেই এ কৃতিত্ব দেখায় প্যারাগুয়ে। এছাড়া অন্যান্য প্রীতি ম্যাচে জয় পেয়েছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন, ইংল্যান্ড, উরুগুয়ে ও ইরাক। ড্র হয়েছে পর্তুগাল-নেদারল্যান্ড ও ফ্রান্স-বেলজিয়ামের ম্যাচ দুটি। উরুগুয়ে ৪-২ গোলে জাপানকে ও ইরাক ৬-০ গোলে চিলিকে হারায়। অপরদিকে নেদারল্যান্ডের সাথে ১-১ গোলে ড্র করে পর্তুগাল এবং বেলজিয়ামের সাথে গোলশূন্য ড্র করে ফ্রান্স। এর বাইরে বিশ্বকাপের একমাত্র বাছাই খেলায় উত্তর আয়ারল্যান্ডের কাছে এক গোলে হেরে রাশিয়া পর্তুগালকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ হারায়। আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের শেষ দুই ম্যাচে ড্র করে আত্মবিশ্বাসের দিক দিয়ে কিছুটা নড়বড়ে হয়ে পড়েছিল। সেই সাথে যোগ হয়েছিল উরুর ইনজুরির কারণে ইতালির বিপক্ষে নিয়মিত অধিনায়ক মেসির খেলতে না পারার নেতিবাচক খবরটিও। তাই প্রতিপক্ষের চাইতে নিজেদের দুর্ভাবনায় বড় হয়ে দেখা দেয় ইতালির মাঠে খেলতে নামার আগে। খেলা শুরু হবার পর অবশ্য আর্জেন্টাইনদের খেলায় সেরকম কিছু দেখা যায়নি। কারণ গোলের জন্য প্রতিপক্ষের রক্ষণদুর্গে ফাটল ধরাতে উন্মুখ হয়ে ওঠেন গঞ্জালো হিগুইয়েন ও অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ারা। ফলে ২১ মিনিটেই স্ট্রাইকার হিগুইয়েনের গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। হিগুয়েনের এটি ছিল জাতীয় দলের হয়ে ৩৪তম খেলায় ২১তম গোল। গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার স্বার্থক উত্তরসূরির সুবাদে খেলায় চটজলদি অগ্রগামিতা পাওয়ার পরও গোলের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রাখে আর্জেন্টিনা। ১২ বছরের মধ্যে এই প্রথম ইতালির বিরুদ্ধে খেলতে নেমে আক্রমণের ধারা অব্যাহত রাখে দলটি। এরপর ৩০তম মিনিটে মধ্যমাঠ থেকে ডি মারিয়ার বাড়ানো বল আয়ত্তে নিয়েও তা ইতালির জালে পাঠাতে না পারায় হিগুইয়েন নিজের ব্যবধান দ্বিগুণ করতে ব্যর্থ হন। এই অর্ধে আর্জেন্টিনার আক্রমণ সামলাতেই ব্যস্ত ছিল ইতালি। ইতালি প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার আক্রমণগুলো ভালভাবে প্রতিহতের চেষ্টা চালালেও বিরতির পর এই মানসিকতা ধরে রাখতে পারেনি। এ কারণেই দ্বিতীয়ার্ধের চতুর্থ মিনিটে মিডফিল্ডার ইভার বানিগার সুবাদে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেলে আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয় গোল হজমের পরই যেন ঘুম ভাঙ্গে ইতালির এবং ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠে দলটি। ফলে দ্রুতই মধ্যমাঠের দখল নিয়ে আর্জেন্টিনার সীমানায় আক্রমণ শানাতে থাকে স্বাগতিকরা। এরই সুবাদে ৭৭ মিনিটে ইতালিকে গোলের আনন্দে ভাসান উইঙ্গার লরিনজো ইনসিগনে। এরপর বাকী সময়ে আর কোন গোল না হলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। আগামী বছরের বিশ্বকাপের স্বাগতিক ব্রাজিল এই রাতে বার্নে স্বাগতিক সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে হতাশ হয়। কেননা দলটি ৪৮ মিনিটে দানি আলভেজের আত্মঘাতী গোলটিতে পিছিয়ে পড়ার পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ব্রাজিল কোচ লুই ফিলিপ স্কোলারি অবশ্য এই হারে বিচলিত নন। কেননা তার মতে ব্রাজিল বেশি সুযোগ পেয়েছিল এবং দ্বিতীয়ার্ধে ভাগ্যের ফেরে পেনাল্টি পায়নি। তিনি এও দাবি করেন যে বছরের মাঝামাঝিতে মৌসুমহীন পরিস্থিতিতে সুইসদের তুলনায় তার দলের প্রস্তুতি কম ছিল। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে এই হার কতটা প্রভাব ফেলবে জানতে চাইলে স্কোলারি বলেন,‘এটা কোন সমস্যা নয়। আমরা শারীরিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম না। আমার কাছে মনে হয় আগামী বছরটি গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্যই আমরা এর চাইতে বেশি জয় চেয়েছিলাম। কিন্তু আমরা শ্রেয়তর কন্ডিশনের একটা দলের বিরুদ্ধে খেলেছি, কাজেই এই ফল স্বাভাবিক।’ স্পেন মূলত নিরীক্ষাধর্মী দলকে ইকুয়েডোরে খেলিয়ে ২-০ গোলের জয় তুলে নেয়। আলভারো নেগরেডো ও সান্তি ক্যাজোরলা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হয়ে গোল দুটি করেন। বিশ্বকাপে এখনো নিশ্চিত হতে না পারা ইংল্যান্ড অবশ্য এই রাতে ওয়েম্বলিতে স্কটল্যান্ডের সাথে দুই দফা পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে জয়ী হয়। ১৯৯৯ সালের পর এটাই ছিল দুদলের প্রথম মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা। বাসস/সকারওয়ে