অভিযোগপত্র পেলেন যারা

আইসিসি ও বিসিবির যৌথ সংবাদ সম্মেলনের পর থেকেই সম্ভাব্য নয় অভিযুক্তর নাম অনুমানের চেষ্টা চলছে। নয় জনই না হলেও গতকাল পর্যন্ত সাত জন অভিযুক্ত নিজে বা তার সংশ্লিষ্ট কেউ স্বীকার করেছেন অভিযোগ পাওয়ার কথা। বিপিএল দ্বিতীয় আসরে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের দায়ে এবং ফিক্সিং কথা জেনেও না জানানোর অপরাধে অভিযোগপত্র পাওয়া সর্বশেষ সেই সাত জন— মোহাম্মদ আশরাফুল ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক, ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স প্রথম দিনেই আশরাফুল নিজে স্বীকার করেছিলেন, তিনি আইসিসির অভিযোগপত্র পেয়েছেন। তাকে ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন নিজের অপরাধ আগেই প্রকাশ্যে স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া দেশের সাবেক এই তারকা ব্যাটসম্যান। তিনি জানিয়েছেন, আইনজীবীর মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের কাছে কম শাস্তির জন্য আবেদন করবেন। মোশাররফ হোসেন রুবেল স্পিনার, ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স রুবেল এখন ইংল্যান্ড সফরে আছেন। সেখান থেকে নিশ্চিত করেছেন, তাকে অভিযুক্ত করেছে আইসিসি। একই সঙ্গে তাকে আপাতত সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দূরে রাখা হয়েছে বলে মাইনর কাউন্টির খেলা রেখে দেশে ফিরে আসতে হচ্ছে এ বাহাতি স্পিনারকে। তবে একটি ইংরেজি দৈনিককে রুবেল বলেছেন, তিনি আইনি লড়াই লড়বেন। কারণ, তার ধারণা তাকে ফাসানো হচ্ছে। মাহবুবুল আলম রবিন পেসার, ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বসেই জাতীয় দলের সাবেক এ পেসার বলেছেন, তিনি অভিযোগপত্র পেয়েছেন। যথারীতি তিনি এখনো অভিযোগ অস্বীকার করছেন। রবিন এখনো মনে করেন, তার আলোচ্য নো-বলটি খেলারই অংশ ছিল। যদিও রবিন জানিয়েছেন, তার অভিযোগপত্রে অপরাধটা পরিষ্কার উল্লেখ করা নেই। তিনি মনে করেন, একেবারে বিনাকারণেই তার নাম যোগ করা হয়েছে। সেলিম চৌধুরী মালিক, ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স প্রথম দিনে অভিযোগপত্র পাওয়ার কথা জানাননি। গতকাল ফোনে বললেন, তিনি অভিযোগপত্র পেয়েছেন। ম্যাচ ছেড়ে দেয়ার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে তাকে। তবে সেলিম চৌধুরী আগের মতোই নিজেকে নিরপরাধ দাবি করে বলেছেন, ‘আমি ম্যাচ ছেড়ে দিলে আমার লাভ কী? আমি কারো কাছ থেকে টাকা নিয়েছি বা কোনো লাভ করেছি, এমন কোনো কিছু আইসিসিও দাবি করেনি।’ শিহাব চৌধুরী মালিক, ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স শিহাব চৌধুরীও যে অভিযোগপত্র পেয়েছেন, সেটা নিশ্চিত করেছেন তার বাবা সেলিম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এ অপরাধ উল্লেখ করে তার ছেলেকেও ‘চার্জ লেটার’ দেয়া হয়েছে। ছেলের ব্যাপারেও নিজের মতোই নিরপরাধ বলে দাবি করা সেলিম চৌধুরী বলেছেন, ‘আশা করি ট্রাইব্যুনাল শুরু হলে সব সংশয় কেটে যাবে। ড্যারেন স্টিভেন্স অলরাউন্ডার, ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স ইংল্যান্ডের এ ক্রিকেটারকে অবশ্য প্রত্যক্ষ ম্যাচ পাতানোর দায়ে অভিযুক্ত করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে আকসুর অভিযোগ, তিনি সব জেনেও চুপ করে ছিলেন; আইন অনুযায়ী আকসুকে জানাননি। ফলে তাকে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। আর অভিযোগপত্র প্রাপ্তির কথা নিজেই এক বিবৃতি দিয়ে স্বীকার করেছেন স্টিভেন্স। তবে স্টিভেন্সকে আপাতত খেলা থেকে দূরে রাখা হয়নি বলে তিনি খেলা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। গৌরব রাওয়াত প্রধান নির্বাহী, ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স গৌরবের বিপক্ষে ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের হয়ে ম্যাচ পাতানোয় জড়িত থাকার অভিযোগ। সরাসরি এ ভারতীয় কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করা না গেলেও তিনিও যে অভিযোগপত্র পেয়েছেন, সেটা দলের মালিক সেলিম চৌধুরীই নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের তিন জনের বিপক্ষে একই অভিযোগ আনা হয়েছে। গৌরবের বিপক্ষেও ওই অভিযোগ।’ গৌরব এখন আইনজীবী নিয়োগ করবেন কি না বা তার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে; সেটা অবশ্য জানা যায়নি। এ সাত জন ছাড়াও আইসিসিই জানিয়েছে, আরো দুজন অভিযোগপত্র পেয়েছেন। সেই দুজন কারা এ নিয়ে গুঞ্জন আছে। অনেকের অনুমান ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের বোলিং কোচ মোহাম্মদ রফিক ও দলটির শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার কৌশল লুকারোয়াচ্চিই সেই বাকী দুজন। তবে এ ব্যাপারে কোনো নিশ্চিত তথ্য এখনো মেলেনি।