কাউখালীতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষে শোক দিবসের সভা পণ্ড

পিরোজপুরের কাউখালীতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে জাতীয় শোক দিবসের সরকারি আলোচনা সভা পণ্ড হয়ে গেছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি সংগঠনের কাউখালী উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ও উপজেলায় ছাত্রলীগের সকল কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে। এ ঘটনায় দিনভর হামলা-পাল্টা হামলায় ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের দুই নেতাসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। সকালে প্রশাসনের আয়োজনে শোক মিছিলের পর উপজেলা মিলনায়তনে ইউএনও হাসান হাবিবের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা শুরু হলে ছাত্রলীগের বিবদমান দুই গ্রুপের বক্তাদের নাম ঘোষণা নিয়ে আপত্তি উঠে। তখন উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত সাবেক প্রচার সম্পাদক মাহফুজুর রহমান শাওনকে (২৮) শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতরা হলেন শাওন সিকদার (২২) হানিফ (৩৫) ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পলাশ সিকদার (৩৭) ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মোঃ সুমন খন্দকার (২৮)। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তা, ছাত্রছাত্রী ও দর্শক শ্রোতা দিকবিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। তাত্ক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকে কিছু যুবকের উচ্ছৃঙ্খলতার কথা উল্লেখ করে অনুষ্ঠান স্থগিত ঘোষণা দিয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন। এসময় মঞ্চে থানা ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাসহ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুজ্জামান পল্টন, কাউখালী ইউপি চেয়ারম্যান ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আমিনুর রশীদ মিল্টনসহ রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে বিকালে ছাত্রলীগের এক গ্রুপের নেতা সোহাগকে বিপক্ষ বেদম প্রহার করলে তাকে প্রথমে কাউখালী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিত্সার পর বরিশালে উন্নত চিকিত্সার জন্য পাঠানো হয়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি এক প্রেসবিজ্ঞপ্তি দিয়ে সুমন খন্দকারের নেতৃত্বাধীন কাউখালী উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ও উপজেলায় সংগঠনের সকল কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেন বলে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম ইত্তেফাককে জানান। সন্ধ্যার পর কাউখালী শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়। উল্লেখ্য, কাউখালী সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও সাবেক সভাপতি আমিনুর রশীদ মিল্টন ও সাবেক সম্পাদক পলাশ সিকদারের নেতৃত্বাধীন দীর্ঘদিনের উপজেলা ছাত্রলীগ কমিটি সমপ্রতি ভেঙ্গে দিয়ে সুমন খন্দকারকে আহ্বায়ক করে কমিটি করা হয়েছিল। এর পর থেকে এখানে ছাত্রলীগের মধ্যে চরম কোন্দল চলছিল। আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম হায়দার লাঞ্ছিত পিরোজপুরে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পালনকালে জেলা ছাত্রলীগ নেতাদের হাতে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাবেক সভাপতি গোলাম হায়দার লাঞ্ছিত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের রাজারহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গোলাম হায়দার রাজারহাটে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ মাহফিল ও কাঙ্গালী ভোজে যোগদানের জন্য এলে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান আম্মান লিটন, সম্পাদক খায়রুল ইসলাম মিঠু’র নেতৃত্বে ছাত্রলীগের ১৫/২০ জন নেতা-কর্মী অতর্কিতভাবে সেখানে গিয়ে তাকে টানা-হেচড়া করে লাঞ্ছিত করে। খবর পেয়ে র্যাব-পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা চলে যায়। পরে র্যারের পাহারায় গোলাম হায়দার শংকরপাশাস্থ তার বাসভবনে চলে যান। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম হায়দার অভিযোগ করেন, মিলাদ মাহফিল শেষে কাঙ্গালী ভোজের তবারক বিতরণের আগে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সেক্রেটারির নেতৃত্বে একদল ক্যাডার তাকে লাঞ্ছিত করে এবং পিরোজপুর থেকে চলে যাওয়ার হুমকি দেয়। তবে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান আম্মান লিটন এ অভিযোগ অস্বীকার করেন।