বিনম্র শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করল জাতি
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪৮
যথাযোগ্য মর্যাদা ও বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৮তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করল জাতি। সর্বস্তরের মানুষ জোরদাবি জানালেন জাতির পিতার পলাতক খুনিদের দেশ ফিরিয়ে এনে দ্রুত ফাঁসির রায় কার্যকর করার। একই সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতেও সরকারের প্রতি আহবান জানালেন আপামর জনসাধারণ।
গতকাল দিনব্যাপী কোরআন তেলাওয়াত, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার, তার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, কালো ব্যাজ ধারণ, মিলাদ মাহফিল, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, রক্তদান কর্মসূচি, আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণের মধ্য দিয়ে রাজধানীর সর্ব-স্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
শোক দিবস উপলক্ষে গতকাল ভোরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দলের ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন ইউনিট কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনে শোক দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা সরাসরি সমপ্রচারসহ বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে। বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোও বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করে।
সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীসহ সর্বস্তরের মানুষ জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পরে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরিন শারমীন চৌধুরী জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময়ে ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলী ও চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিজড়িত ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবনে গিয়ে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের কালরাতে ওই ভবনের যে সিঁড়িতে বঙ্গবন্ধুর লাশ পড়ে ছিল, সেখানে গোলাপের পাপড়ি ছিটিয়ে দেন। পরে তিনি ওই ভবনের একটি কক্ষে বসে কিছু সময় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ত্যাগ করার পরপরই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতির জনকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়ক থেকে প্রধানমন্ত্রী বনানী কবরস্থানে যান। যেখানে ১৫ আগস্ট নৃশংসভাবে নিহত তার মা, ভাই, পরিবারের অন্য সদস্য ও আত্মীয়দের দাফন করা হয়। শেখ হাসিনা এ কবরস্থানে সকাল সাড়ে ৭টায় তার পরিবারের সদস্যদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এখানে ১৫ আগস্ট নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়। আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ বনানী কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন।
গতকাল রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে টুঙ্গিপাড়ায় যান। সেখানে বঙ্গবন্ধুর মাজারে প্রথমে রাষ্ট্রপতি এবং পরে প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
শোক দিবসে রাজধানী জুড়ে নানা আয়োজন
বঙ্গবন্ধুর আত্মার শান্তি কামনায় গতকাল সকালে প্রার্থনা করেছেন বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিরা। জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সমাজের আয়োজনে এই প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে ১৫ আগস্ট নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আসীম কুমার উকিল, কেন্দ্রীয় নেতা সুজিত রায় নন্দি, যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কলাবাগান খেলার মাঠের সামনে গতকাল আলোচনা সভা করেছে কৃষক লীগ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বক্তব্য রাখেন। সভায় কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্ল¬ার সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামছুল হক রেজা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু করেছে গণজাগরণ মঞ্চ। ‘উদিত সূর্য’ শীর্ষক এই প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর ৫১টি বিরল আলোকচিত্র স্থান পায়। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবুল বারাক আলভী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সকালে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন শিল্পী জামাল চৌধুরী।
গতকাল বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দুঃস্থ ও গরিব মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়। আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দরিদ্রদের মধ্যে খাবার বিতরণের ব্যবস্থা করে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর থানা ও ওয়ার্ড ইউনিটগুলো। সবকটি থানা-ওয়ার্ড জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পালন করে। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কেও খাবার বিতরণ ও রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এখানে স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ‘ইতিহাস কথা কয়’ শীর্ষক একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত স্বেচ্ছা রক্তদান কর্মসূচি ও অসহায়দের মধ্যে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বাংলাদেশ ব্যাংক চত্বরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীল দল ফোরামের সভাপতি ও মহাব্যবস্থাপক এম আব্দুল ওয়াদুদ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের বাংলাদেশ ইউনিটের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন রাজীব, গভর্নর সচিবালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক ও ভারপ্রাপ্ত প্রটোকল কর্মকর্তা জিএম আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।
সেগুন বাগিচা হাইস্কুলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আলোচনা সভার আয়োজন করে। আনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন।
শিশু চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী। অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল আহাদের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিক-উল-ইসলাম এবং শিশু একাডেমীর পরিচালক মো. নূরুজ্জামান। বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ বাদ আছর বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।
ট্রাস্ট কলেজ কোরআন তেলাওয়াত, আলোচনা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে। গতকাল সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন ট্রাস্ট কলেজের অধ্যক্ষ বশির আহাম্মেদ ভুঁইয়া। উপস্থিত ছিলেন কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা।
বঙ্গবন্ধুর ৩৮তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গতকাল জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে কোরআনখানি ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
১৫ আগস্ট শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা এবং দেশ ও জাতির উন্নতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব প্রফেসর মাওলানা মুহাম্মদ সালাহউদ্দিন। ফাউন্ডেশনের ডিজি শামীম মোহাম্মদ আফজাল, পরিচালক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকালে বনানী কবরস্থানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কোরআনখানির আয়োজন করে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্মচারী কল্যাণ সমিতি বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্ট শহীদদের কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জাতীয় শোক দিবস পালন
জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঢাকা জেলা কার্যালয়। এ উপলক্ষে গতকাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শীর্ষক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন, বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠান ও বাদ আছর মিলাদ এবং বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা রেঞ্জ পরিচালক মো. ফিরোজ খান, বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা রেঞ্জ উপ-পরিচালক মোল্লা আমজাদ হোসেন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ঢাকা রেঞ্জ উপ-পরিচালক মোল্লা আমজাদ হোসেন এবং ঢাকা জেলা কমান্ড্যান্ট মো. খলিলুর রহমান খান।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শোক দিবস পালন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৮তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। বেলা ১১টায় উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি শোকর্যালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে যায়। সেখানে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। বাদ আছর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাফেটেরিয়ায় বঙ্গবন্ধুর আত্মার মাগফেরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে এদিন প্রশাসনিক ভবন ও আবাসিক হলসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। উপাচার্য অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন গতকাল সকাল সাড়ে ৭টায় ঢাকায় বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।
বরিশাল অফিস জানায়, যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৮তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরনের নেতৃত্বে শোক মিছিল শেষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানায় মহানগর আওয়ামী লীগ। এর আগে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য তালুকদার মোঃ ইউনূসের নেতৃত্বে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া জেলা ও মহানগর যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন এ দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করে। নগরীর কালিবাড়ী রোড ও সোহেল চত্বরস্থ দলীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।
সিলেট অফিস জানায়, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সকালে নগরীর রেজিস্ট্রি মাঠ থেকে শোক মিছিল বের করে। এটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ ীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সভা হয়। সভা শেষে বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ানের সভাপতিত্বে আয়োজিত শোক সভায় বক্তব্য রাখেন জেলার সাধারণ সমপাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী এমপি, জেলার সহসভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট নিজাম উদ্দিন, অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, মাসুক উদ্দিন আহমদ, শাহ ফরিদ, হুমায়ন ইসলাম কামাল প্রমুখ।
মহানগর আওয়ামী লীগ: সকাল ১০টায় নগরীর কোর্ট পয়েন্ট থেকে শোক মিছিল বের করে। সিলেট নগরী প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে এটি শেষ হয়। মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও সাধারণ সমপাদক আসাদ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষপার্ঘ্য অর্পণ করে মহানগর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বাদ জোহর হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগা মসজিদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্ট নিহতদের স্মরণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
চট্টগ্রাম অফিস জানায়, চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর জেলা ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, মিলাদ মাহফিল, জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, বঙ্গবন্ধুর আলোকচিত্রের প্রদর্শনী।
এ উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি জাতীয় জীবনে চির অম্লান হয়ে থাকবে। একাত্তরে যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে মেনে নিতে পারেনি বঙ্গবন্ধুকে তারাই রাতের অন্ধকারে কাপুরুষের মতো হত্যা করে তাদের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে চেয়েছে। কিন্তু জাতি আজ ঘাতকদের বিচার চায়। যাদের বিচার এখনো কার্যকর হয়নি এবং যেসব ঘাতক দেশের বাইরে পালিয়ে ঘাপটি মেরে রয়েছে তাদেরকে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর করে জাতিকে কলংকমুক্ত করার জন্য বক্তারা আহ্বান জানান।
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ মহানগরীসহ চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল গতকাল জাতীয় শোক দিবস পালনের জন্য টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থান করছিলেন। তারা সেখানে জাতির জনকের মাজারে ফাতেহা পাঠ ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নেয়া ছাড়াও তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় সর্বস্তরের মানুষের জন্য ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রামের মেজবানের আয়োজন করেন।
অধ্যক্ষ আল্লামা মুহাম্মদ জালালুদ্দিন আল কাদেরীর সভাপতিত্বে জামেয়া ক্যাম্পাসে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ডিপ্লে¬ামা প্রকৌশলী পরিষদ চট্টগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে এক আলোচনা সভা আই.ডি.ই.বি ভবন চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে পটিয়ায় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সামশুল হক চৌধুরী এমপি।
রাজশাহী অফিস জানায়, রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠন, জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড, বিভিন্ন উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান দিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল সূর্যোদয়ের সময় সকল ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালোপতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শোক মিছিল, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা, কাঙালীভোজ, শহীদ মিনার আলোকায়ন, সড়ক ও সড়ক দ্বীপে কালোপতাকা দ্বারা সজ্জিতকরণ প্রভৃতি।
মহানগর আওয়ামী লীগ: জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালোপতাকা উত্তোলন, কালোব্যাজ ধারণ, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, শোক মিছিল, আলোচনা সভা।
জেলা প্রশাসন: জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা ও মিলাদ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও জেলা শিশু একাডেমিতে শোক দিবসের কবিতা পাঠ ও চিত্রাংকন, হামদ ও নাত প্রতিযোগিতা, মিলাদ, বাদ যোহর সকল মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রার্থনা।
বঙ্গবন্ধু পরিষদ: জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদ সকালে আলুপট্টিস্থ বঙ্গবন্ধু চত্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান এবং বিকালে মিয়াপাড়া সাধারণ গ্রন্থাগারে আলোচনা সভা।
ইলামিত্র শিল্পী সংঘ : ইলামিত্র শিল্পী সংঘ সকালে কুমারপাড়াস্থ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে থেকে শোক মিছিল এবং বিকালে ফুদকিপাড়ার উন্মুক্ত মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
পিরোজপুর অফিস জানায়, সকালে জেলা প্রশাসন এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক অনল চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় অংশ নেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম এ আউয়াল এমপি, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এডভোকেট আকরাম হোসেন, পুলিশ সুপার আক্তারুজ্জামান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মতিউর রহমান সরদার প্রমুখ। এর আগে শহরে এক বিরাট শোক মিছিল বের হয়। মিছিল শেষে সিও অফিস মোড়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও মোনাজাত করা হয়। ভোরে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হয়।
আমাদের স্টাফ রিপোর্টার জানান, সাভারের বিভিন্ন স্থানে উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ কোরআনখানি, মিলাদ মাহফিল ও কাঙালী ভোজের আয়োজন করে। সাভার উপজেলা প্রশাসন এ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মাঝে রচনা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও উপজেলা পরিষদ চত্বরে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মোল্লা উপস্থিত ছিলেন।