জর্ডান গিয়ে স্বপ্নভঙ্গ নরসিংদীর রুবির

একটু ভালো করে বাঁচার আশায় ধার-দেনা করে জর্ডান যান রুবি বেগম। তবে জর্ডানে গিয়েই স্বপ্নভঙ্গ হয় তার। যে চাকরির কথা বলে, যে বেতনের কথা বলে তাকে নেয়া হয় জর্ডান, গিয়ে দেখেন সবই মিথ্যা। বলা হয়েছিল বিউটি পার্লারে কাজ করতে হবে। কোথায় কি? একটি প্রতারক চক্র তাকে হোটেলে আটকে রেখে করাচ্ছেন অবৈধ কাজ। নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাঙ্গালিনগর গ্রামের রিকশা চালক দানিশ মিয়ার স্ত্রী রুবি বেগম (২২)। তাদের রয়েছে তিন শিশু সন্তান। আছে বৃদ্ধ বাবা-মা। সম্প্রতি রুবি এক বিদেশি ব্যক্তির মোবাইল ফোন থেকে ফোন করে তার স্বামী দানিশ মিয়াকে ঘটনাটি জানান। বলেন তার দুর্বিষহ দিনগুলোর কথা। স্বামীকে বলেন তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যেতে। পরে দানিশ মিয়া মোসলেহ উদ্দিন ও তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের কাছে যান। এই দুজনই রুবির কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নিয়ে তাকে পাঠায় জর্ডান। তারা দানিশ মিয়াকে সাহায্য না করে উল্টো তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। নরসিংদী প্রতিনিধি নিবারন রায় জানান, রুবিকে মোসলেহ উদ্দিন ও তার স্ত্রী বলেছিল, জর্ডানে গিয়ে চাকরি করতে হবে একটি বিউটি পার্লারে। থাকা-খাওয়া ফ্রি এবং প্রতিমাসে ২০ হাজার টাকা বেতন দেয়া হবে। লোভে পড়ে এক মাস আগে রুবি জর্ডানে যান। সম্প্রতি রুবি ইন্দোনেশিয়ার এর নাগরিকের মোবাইল ফোন নিয়ে তার স্বামীকে ফোন করেন। পরে তার স্বামী দানিশ প্রতারক মোসলেহ উদ্দিন ও তার স্ত্রীর কাছে গেলে তারা বলে, ‘এ বিষয় নিয়ে বাড়বাড়ি করবি না। যদি করিস, তোকে জানে মেরে ফেলব।’ দানিশ মিয়া তার স্ত্রীর জন্য পুনরায় চাপ দিলে তারা বলে, ‘তোকে আমরা ৫০ হাজার টাকা দিব। আর যদি তোর বৌকে দেশে আনতে চাস তাহলে দেড় লক্ষ টাকা দিতে হবে। ২/৩ মাস সময় লাগবে।’ দানিশ মিয়া গত বুধবার নরসিংদী প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের এ কথা জানান। জানা গেছে, নারী পাচারকারী মোসলেহ উদ্দিন ও তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম বাঙ্গালিনগর গ্রামে থেকে এর আগে আরো অনেককে আকর্ষণীয় বেতন ও খাওয়া-থাকা ফ্রি এ ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে পাচার করেছে। মোসলেহ উদ্দিনের মেয়ে শরিফা বেগম গত ৬-৭ বছর ধরে জর্ডানে রয়েছেন। তিনি সেখানে একটি চক্র গড়ে তুলেছেন। এ চক্রে রয়েছে ঢাকার রিক্রুটিং এজেন্সি সোমাইয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক মিজানুর রহমান ও তার পার্টনার তারেক। এদিকে, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো সূত্রে জানা যায়, একটি চক্র মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে গার্মেন্টস ও বিউটি পার্লারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আকর্ষণীয় বেতনে চাকরি দেয়ার কথা বলে নারী পাচার করছে। বিমান বন্দরের ইমিগ্রেশনসহ সংশ্লিষ্ট শাখার এক শ্রেণির কর্মকর্তা এর সঙ্গে জড়িত। সাধারণত রাতে কয়েকটি ফ্লাইটে করে ওই তরুণীদের বিদেশে পাঠানো হয়। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত তরুণীদের পরিবারের পক্ষ থেকে আমার বরাবর আবেদন করলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অবৈধভাবে বিদেশ নিলে সর্বোচ্চ ১০ বছর সাজা দেয়ার বিধান হয়েছে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো থেকে প্রায়ই আমরা বলে আসছি, প্রতারক চক্রের মাধ্যমে কেউ বিদেশ যাবেন না। মন্ত্রী জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রকৃত তথ্য জেনে বিদেশ যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানান।