মোটা অংকের চাঁদা দাবি পরে খাগড়াছড়িতে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ

একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের মোটা অংকের চাঁদা দাবির পর খাগড়াছড়িতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ওষুধ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে ওষুধ কোম্পানিগুলোর বিক্রয় প্রতিনিধিদের সংগঠন ‘ফারিয়া’। ফার্মেসি মালিকরা জানায়, গত বুধবার সকাল থেকে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা জেলা ও উপজেলার কোন ফার্মেসি থেকে ওষুধের চাহিদাপত্র নিচ্ছে না। চাহিদার বিপরীতে কোন ওষুধও সরবরাহ করা হচ্ছে না। এ ব্যাপারে স্থানীয় ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধিদের সংগঠন ‘ফারিয়া’ সভাপতি ও ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি মোঃ বেলায়েত হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ইউপিডিএফ চাঁদা দাবি এবং হুমকি দেয়ায় আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নিরাপত্তার কারণে বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়নি। অন্য বিক্রয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে তারা নিজ নিজ কোম্পানিকে অবহিত করেছে। তারা আরো জানায়, যতদিন পর্যন্ত এই সমস্যার সমাধান না হবে ততদিন এই অবস্থা অব্যাহত থাকবে। এদিকে ইউপিডিএফ এর খাগড়াছড়ি সংগঠক ও প্রেস বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা “ফারিয়া”র অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ওষুধ মানুষের জীবন রক্ষা করে। আর যারা ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করে তারাও মানুষের জীবন রক্ষার কাজে নিয়োজিত। তাদের কাছ থেকে ইউপিডিএফ চাঁদা চাইবে কেন? খাগড়াছড়িতে কর্মরত কয়েকটি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে টেলিফোনে জানান, নিয়মিতভাবে আঞ্চলিক ঐ রাজনৈতিক দলের নামে চাঁদা নেয়া হয়। আগে চাঁদার পরিমাণ ছিল মাসে এক লাখ টাকা। এখন সেটা বাড়িয়ে পাঁচ লাখ করায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। তাছাড়া অতি সম্প্রতি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেড় কোটি টাকা চাঁদা দিতে ব্যর্থ হলে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ করে দিতে বলেছে দলটির নেতারা। এদিকে বিষয়টি সম্পর্কে প্রশাসনকে কেউ কোনভাবে অবহিত করেননি বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মোঃ মাসুদ করিম। তবে তিনি অবিলম্বে জনগুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান । এ ব্যাপারে খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার শেখ মোঃ মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। আর কেউ এখনো অভিযোগও করেনি। কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।