জোকস

 লুইস ক্যারোলের ‘অ্যালিস ইন দ্য ওয়ান্ডারল্যান্ড’ প্রকাশের পর পাঠকমহলে তা ভীষণ সাড়া জাগায়। এমনকি ক্যারোলের এই বইটি অন্য অনেকের মতো দারুণভাবে মুগ্ধ করে রানি ভিক্টোরিয়াকেও। তিনি ক্যারোলের লেখায় এতটাই মুগ্ধ ছিলেন যে ক্যারোলের পরবর্তী বইটি কবে বেরুবে এটা নিয়েও তাঁর ভীষণ কৌতূহল ও আগ্রহ ছিল। রানির এই আগ্রহের কথা জেনেই ক্যারোলের পরবর্তী বইটি প্রকাশের সাথে সাথে রানির কাছে সেটি পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে এবার একেবারে বিপরীত চিত্র। বই পড়ে খুশি হবেন কি, বইটা ছুঁয়ে দেখারও আগ্রহ পাচ্ছিলেন না রানি। কেননা ক্যারোলের পরবর্তী বইটি ছিল, ‘ইউক্লিড অ্যান্ড হিজ মডার্ন রাইভ্যালস’ যা ছিল স্রেফ অংক-বিষয়ক কিছু তত্ত্বের আলোচনামূলক বই। তবে রাজ-কর্মচারীরা তো আর অতে সাত-পাঁচ ভাবেননি। আর তাই ক্যারোলের বই ভেবেই সেটিকে বিনা ভাবনায় পাঠিয়ে দিয়েছিলেন রানির কাছে।  একবার ফ্রান্সের রাজা হেনরি একটি এলাকা পরিদর্শনে গেলে সেখানে উপস্থিত জনগণের কাছে নিজের কথা তুলে ধরতে বিশাল এক বক্তৃতা শুরু করে দেন হেনরির প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট। এ বিষয়টি যে শুধু উপস্থিত সকলকেই বিরক্ত করছিল তা-ই নয়, বরং রাজা হেনরি নিজেও এতে বিরক্ত বোধ করছিলেন। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেটকে বক্তৃতার মাঝপথে এটা বলারও সুযোগ পাচ্ছিলেন না। অবশেষে তাকে সেই সুযোগ করে দিল একটি গাধা। বক্তৃতার মাঝপথে সমাবেশ স্থলের আশপাশের কোনো একটা স্থান থেকে একটি গাধা বিকট সুরে চিত্কার করতে শুরু করল। এতে ম্যাজিস্ট্রেটের বক্তব্যে কিছুটা ছেদ পড়লে হেনরি গাধাটির দিকে মুখ ঘুরিয়ে বেশ গম্ভীরভাবেই বলে উঠলেন, ‘একটু ধৈর্য ধরুন। একে একে সবারটাই আমি শুনব!’  ‘সায়েন্টিফিক আমেরিকা’ একবার এক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। প্রতিযোগিতার বিষয় তিন হাজার শব্দের মধ্যে কে কত সহজভাবে ‘আপেক্ষিকতার তত্ত্ব’ বুঝিয়ে বলতে পারে। এর-ওর কাছ থেকে বিষয়টা একসময় আইনস্টাইনেরও কানে এলো। তবে প্রতিযোগিতার বিষয় শুনে আইনস্টাইন বেশ হতাশ হয়েই বললেন, ‘আমার বন্ধু-বান্ধবরা সবাই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারলেও আমার পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ মাত্র তিন হাজার শব্দে এটা লেখা সম্ভব না।’