এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথমপত্র
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০১৩, ১৯:৫৫
বাংলা প্রথমপত্র
মোস্তাফিজুর রহমান লিটন
সিনিয়র শিক্ষক : বাংলা
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা
কমলাকান্তের জবানবন্দি
১.নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও
নিলয় মদ্যপায়ী, তাকে সকলেই মন্দ ছেলে বলে জানে। গ্রামের জমিদার রায়বাহাদুরের কাছ থেকে সে সহজে মদের জোগান পায়। অথচ রায়বাহাদুরের চড়া সুদে টাকা দেওয়া, যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া সম্পর্কিত নানা অপকর্মের কথা অটলই শুধু জনসমক্ষে প্রকাশ করে। কিন্তু সে মদ্যপ ও কিছুটা অস্বাভাবিক থাকে বলে তার কথা সত্য হলেও অনেকে মেনে নেয় না।
ক.‘কমলাকান্তের জবানবন্দি’র মূল শিরোনাম কী ছিল? খ. লেখক কমলাকান্তকে দূর থেকে দেখতে লাগলেন কেন?
গ. উদ্দীপকের অটলের সঙ্গে কমলাকান্তের সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য তুলে ধরো।
ঘ. ‘অসংলগ্ন মানুষ সমাজের অসংগতি প্রকাশে অনেক সময় ভূমিকা পালন করলেও তা কোনো কাজে আসে না’
উদ্দীপক ও ‘কমলাকান্তের জবানবন্দি’ রচনার আলোকে উক্তিটির তাত্পর্য লেখো। ৪
১ নম্বর প্রশ্নের ‘ক’-এর উত্তর
‘কমলাকান্তের জবানবন্দি’ রচনার মূল শিরোনাম ছিল ‘কমলাকান্তের জবানবন্দি’।
২ নম্বর প্রশ্নের ‘খ’-এর উত্তর
লেখক কমলাকান্তকে দূর থেকে প্রত্যক্ষ করেছেন, কারণ কাছে থাকলে কমলাকান্ত লেখককে জামিন হতে বলতে পারে।
অনেকদিন পর ফৌজদারি আদালতে অবস্থানকালে লেখক দেখতে পান যে, কমলাকান্ত গাছের গুড়িতে ঠেস দিয়ে চোখ বুজে তামাক টানছে। কিন্তু সেখানে লেখক উল্লে¬খিত কারণে বেশি সময় দাঁড়ান নি। তাই তিনি দূর থেকে কমলাকান্তকে দেখতে লাগলেন।
মূলকথা : লেখক কমলাকান্তের জামিন হওয়ার ঝামেলা এড়াতে তাকে দূর থেকে দেখতে লাগলেন।
১ নম্বর প্রশ্নের ‘গ’-এর উত্তর
‘কমলাকান্তের জবানবন্দি’ রচনায় কমলাকান্ত তার বক্তব্যের মাধ্যমে আদালতের নানা অসংগতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে; উদ্দীপকের নিলয় চরিত্রও সমাজের অপ্রিয় সত্য কথাগুলো সর্বসম্মুখে প্রকাশ করে, তবে এক্ষেত্রে দুজনের মধ্যে কিছু সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকের নিলয় মদ্যপায়ী; সে রায়বাহাদুরের কাছে থেকে মদের জোগান পায়। তার মুখ থেকে জমিদার রায়বাহাদুরের এসব অজানা কথা মানুষ শুনলেও বিশ্বাস করে না, কারণ অটল সবসময় মদ্যপ ও কিছুটা অস্বাভাবিক থাকে। পাঠ্য রম্যরচনার কমলাকান্তও সবসময় অটলের মতো ঈষত্ অপ্রকৃতিস্থ থাকে।
কমলাকান্ত আফিম সেবন করে এবং বসে বসে ঝিমায়; নিলয় মতো সেও চারপাশের অসংগতিগুলোকে চোখে আঙুল দিয়ে প্রকাশ করে। তবে দুজনের অসংগতি প্রকাশের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। আদালতে সাজানো-গোছানো গালভরা কারবার যে কৃত্রিম আনুষ্ঠানিকতা মাত্র তা আমরা কমলাকান্তের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে উপলব্ধি করি। আফিম-এর নেশায় কমলাকান্ত অপ্রকৃতিস্থ থাকলেও, শে¬ষাত্মক উক্তির মাধ্যমে আদালতের অসংগতিগুলোকে সে সবার সামনে তুলে ধরেছে। তার অসংলগ্ন কথাবার্তার আড়ালে রয়েছে সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গি। তাই উদ্দীপকের নিলয়ের সঙ্গে কমলাকান্তের সাদৃশ্য রয়েছে। তবে নিলয় ও কমলাকান্তের কথা বলার স্থান ও বিষয় এক নয়। কমলাকান্ত তার বক্তব্য উপস্থাপন করেছে আদালতে; পক্ষান্তরে নিলয় তার বক্তব্য উপস্থাপন করেছে জনসমক্ষে। উভয়ের বক্তব্য উপস্থাপনের স্থান ও বিষয় ভিন্ন। সংগত কারণেই উভয়ের মধ্যে বৈসাদৃশ্যও লক্ষ করা যায়।