নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে দুই নেত্রীর সমঝোতা অপরিহার্য

গত ১ আগস্ট রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। জামায়াতের গঠনতন্ত্রে সংবিধান পরিপন্থি নীতি থাকায় তা হাইকোর্টের রায়ে অবৈধ ঘোষিত হয়। আর কয়েক মাস পরেই দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই মুহূর্তে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা সরকারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবেই বিবেচিত হবে। নির্বাচন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সঙ্গে সঙ্গে এখন নতুন করে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের মাধ্যমে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি হলো। এসব সমস্যা মোকাবিলা করে সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে ধাবিত হওয়াই সরকার ও বিরোধী দলের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত। সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো নীতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বৈধ উপায়ে ক্ষমতায় যাওয়াই যে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রধান উদ্দেশ্য। গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক প্রেক্ষাপটে বৈধভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার একমাত্র পদ্ধতি হলো নির্বাচন। নির্বাচন ছাড়া বৈধভাবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলো সবসময়ই বৈধ উপায়ে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে বৈধভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নানাবিধ সংঘাত-সহিংসতার ঘটনা নতুন কিছু নয়। ৯০-পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাসে বরাবরই ক্ষমতাসীন দলগুলো শেষ সময়ে এসে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরতে চায়, অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে সেই দিক থেকে আস্থার সংকটে পড়ে। মহাজোট সরকারের শেষ সময়ে এসেও একই ধরনের সংকট ও অনাস্থার দোলাচলে নিমজ্জিত সরকারি দল ও বিরোধী দল। ক্ষমতাসীন দল গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষার নিমিত্ত সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতিকে বাতিল করে দেয়। অন্যদিকে বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি সংবিধানে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে। এদিকে চূড়ান্ত আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। সরকারের অবস্থানও অনড় সংবিধান মোতাবেক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে। বিরোধী দল বরাবরই আলটিমেটাম দিয়ে চলেছে যে, নির্বাচনকালীন সমঝোতার সরকার ব্যতিরেকে কোনোভাবেই তারা নির্বাচনে যাবে না। যদি তাই হয় অর্থাত্ প্রধান বিরোধী দল ছাড়া নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে সেটাও এক প্রশ্ন। অন্যদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতাদের কারাগারে বন্দি থাকা এবং সম্প্রতি তাদের নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে গণতন্ত্রকামী দল ও জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। সম্ভাব্য এসব রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দ্রুত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে মহাজোট নেতা (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) ও ১৮ দলীয় জোট নেতা (বিরোধী দলীয় প্রধান) উভয়ের এগিয়ে আসার বিকল্প নেই। দেশ, জাতি এবং সর্বোপরি গণতান্ত্রিক ধারাকে অক্ষুণ্ন রাখতে দুই নেত্রীর সমঝোতা অপরিহার্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন তথা জনগণের নিরাপত্তা যেন অনিশ্চিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে সরকারি ও বিরোধী দল উভয়কেই। এজন্য উভয় দলেরই প্রচণ্ডভাবে সহনশীল হওয়া দরকার। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়