বারতোলির সিদ্ধান্তে হতবাক টেনিস বিশ্ব
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০১৩, ২২:১০
উইম্বল্ডন চ্যাম্পিয়ন মারিয়ন বারতোলির অপ্রত্যাশিত অবসরের ঘোষণায় টেনিসের সাবেক এবং বর্তমান তারকাদের বিস্ময়ের ঘোর যেন কাটছেই না। অবসরের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনাও করতে বলছেন তাদের কেউ কেউ। তবে একজন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিদায় নিতে পারায় বারতোলির সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাই ঝরছে তাদের কণ্ঠে।
বুধবার সাউদার্ন ওপেনের দ্বিতীয় রাউন্ডে সিমোনা হালেপের কাছে হারের ঘন্টাদুয়েক পরই ২৮ বছর বয়সী এই ফ্রেঞ্চ তারকা হাজির হন সংবাদ সম্মেলনে। এরপর সবাইকে চমকে দিয়ে ঘোষণা করেন, ‘আমার মনে হয় আমার অবসরের এটাই সঠিক সময়।’
ফেসবুক, টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর হাত ধরে মুহূর্তেই সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে বিষয়টি। ভক্ত-সমর্থকরা তো বটেই কোচ, ধারাভাষ্যকার, সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়রা সবাই একযোগে তাদের বিস্ময় প্রকাশ করতে থাকেন।
তাদেরই একজন মহিলা টেনিসের সাবেক বিশ্বসেরা কিম ক্লাইস্টার্স। এই বেলজিয়ান বলেন, ‘মারিয়ন বারতোলির অবসরের সংবাদে ঘুম ভাঙ্গা সত্যিই আশ্চার্যের। কিন্তু তার এই অনুভূতিটা আমি উপলব্দি করতে পারছি।’
উইম্বলডন ফাইনালে যাকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের উল্লাসে মেতেছিলেন সেই স্যাবাইন লিসিকির টুইট ছিল, ‘তোমার ক্যারিয়ার সত্যি অবিশ্বাস্য এবং তোমার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পেরেছো। তোমার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করছি।’
টেনিস বিশ্বের সব খবরকে ছাপিয়ে আলোচনার তুঙ্গে বারতোলির অবসরের খবর। বিশ্বের দুই নম্বর টেনিস তারকা ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা বলেন, ‘আমি খবরটা টুইটারে দেখেছি। এটা সতিই আশ্চার্যজনক। আমার মনে হয় এটা নিয়ে সকলেই কমবেশি অবাক হয়েছে।’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘এভাবে অবসর নেয়া সাহসের ব্যাপার। আমার মনে হয় সে দীর্ঘদিন ধরে যে স্বপ্ন লালন করে আসছিল তা বাস্তবে ধরা দিয়েছে। যেটা তাকে খুশি করতে পারবে সেটাই সে করেছে। তবে নিঃসন্দেহে বলা যায় তার অবসরের খবরে সকলে অবাক হয়েছে।’
ছয় সপ্তাহ আগে উইম্বল্ডনের সেন্টার কোর্টে বারতোলির সাথে দ্যুতি ছড়িয়েছিলেন টুর্নামেন্টটির পুরুষ এককের শিরোপাজয়ী অ্যান্ডি মারে। আর মারে মনে করছেন অসন্তুষ্টি কিংবা অপূর্ণতা নয় বরং বিজয়ীর বেশে খেলা ছাড়তে পারাই বারতোলির সবচেয়ে বড় অর্জন, ‘এটা অবাক করা একটি খবর। কিন্তু আমি আগেও বলেছি, আপনি একজন এ্যাথলেটকে তথনই সর্বোচ্চ অভিবাদন জানাতে পারেন যখন সে নিজের সর্বোচ্চ অর্জন করতে সক্ষম হয়। আমি মনে করি মারিয়ন সেটাই করেছে’— এভাবেই নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন মারে। তিনি আরো যোগ করেন, ‘নিজের যথাযোগ্য অবস্থানে পৌঁছাতে সে অমানুষিক পরিশ্রম করেছে। অন্তত একটি গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা তার প্রাপ্য ছিল এবং সেটা অর্জন করার পরই সে অবসর নিয়েছে। কিন্তু সাধারণত আপনি এটা দেখবেন না যে কোনো অ্যাথলেট সফলতার শীর্ষে থেকে অবসর নিচ্ছে।’
বছরের পর বছর ধরে ইনজুরিকে পরাস্থ করে আসা বারতোলির প্রশস্তি ঝরলো তরুণ আমেরিকান জন ইসনারের কণ্ঠেও, ‘তার ক্যারিয়ারটা ছিল এককথায় অসাধারণ। এখানে আমি হারের কথা বলছি না, উম্বল্ডনে তার জয়ের কথা বলছি। খুব কম মানুষই আছেন যারা নিজেদেরকে গ্র্যান্ড স্লামের মালিক বলতে পারেন। আর মারিয়ন সেই বিরলদেরই একজন।’
উইম্বলডনের ২০০০ আসরের চ্যাম্পিয়ন গোরান ইভানোভিচের মতামত অবশ্য কিছুটা ভিন্ন। ইনজুরির কারণে পরের বছর শিরোপা রক্ষার লড়াইয়ে নামতে না পারা ইভানোভিচ ধারণা বারতোলি চাইলে আরেকবার ভেবে দেখতে পারেন সবকিছু। তিনি বলেন, ‘আমি বারতোলির অর্জনের প্রসংশা করছি। তবে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে উইম্বলডনে খেলার অনুভূতির কোন তুলনা নেই। আমার ধারণা বারতোলি এটা অনুভব করবে।’