উত্তরাঞ্চলে ভাদর কাটানী উত্সব শুরু

আবহমান গ্রামবাংলার চিরায়ত উত্সবের মতো স্বামীর মঙ্গল কামনায় গতকাল শুক্রবার হতে ডোমারসহ উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় শুরু হয়েছে ভাদর কাটানী উত্সব। প্রচলিত এ প্রথাটি যুগ যুগ ধরে এ অঞ্চলে চলে আসছে। যার কোন সঠিক তথ্য কারো জানা নেই। নববধূরা বাংলা ভাদ্র মাসে তাদের স্বামীর মুখ দেখবে না। নববধূরা স্বামীর বাড়ি থেকে ভাদ্র মাসের জন্য নাইওর যায় বাপের বাড়িতে। গত বছরের বাংলা আশ্বিন মাস হতে এ বছরের শ্রাবণ মাস পর্যন্ত যাদের বিয়ে হয়েছে তাদের নিয়ে এ আয়োজন। এ অঞ্চলে বিশ্বাস রয়েছে যে, বিয়ের পর স্বামী স্ত্রী জীবনের প্রথম ভাদ্র মাসের কোথাও তিনদিন, সাতদিন আবার কোথাও পুরো মাস স্বামী স্ত্রীর মুখ দেখলে স্বামীর চোখ অন্ধ হয়ে যাবে, অমঙ্গল হবে, ঝগড়া-বিবাদসহ তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হবে না—এমন বিশ্বাস থেকে পুরো উত্তরাঞ্চলজুড়ে শ্রাবণ মাসের শেষদিন নববধূরা পুরো ভাদ্র মাসের জন্য বাপ-মায়ের বাড়িতে নাইওর যায়। ভাদ্র মাসকে স্থানীয়ভাবে ভাদর মাস বলায় এ আয়োজনকে ভাদর কাটানী বলা হয়। দরিদ্ররা বাড়ির হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল বিক্রি করে অথবা এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়েও এ উত্সব পালন করে আসছে। ইসলামী ব্যক্তিত্ব অধ্যক্ষ মাওলানা শামসুদ্দিন হোসাইনী জানান, এটা হিন্দু সংস্কৃতির একটি অংশ। ভাদর কাটানী বলে কোন উত্সবের অস্তিত্ব ইসলামে নেই। বিভিন্ন স্থানীয় গবেষকদের মতে হিন্দু সংস্কৃতি ও আচার থেকে ভাদর কাটানী উত্সবের জন্ম হলেও বর্তমানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে মিলে পালন করছে এ উত্সব।