মালয়েশিয়াগামী গাংনীর ৮ যুবক আড়াই মাস নিখোঁজ
গাংনী (মেহেরপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০১৩, ২২:২৭
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার খড়মপুর গ্রামের সাদাত আলীর ছেলে আসান আলী (৩০)। ঘরে রয়েছে স্ত্রী নার্গিস ও দু’সন্তান। পরিবারের সচ্ছলতা আনতে কখনও ব্যবসা কখনও বা দিনমজুরের কাজ করতেন। এর মাঝে সুখ নামের সোনার পাখিটি ধরার ইচ্ছা পোষণ করে যোগাযোগ করেন একই গ্রামের আদম ব্যবসায়ী আহম্মদ আলীর সাথে। সে মালেশিয়ায় ভাল চাকুরির প্রলোভন দিয়ে দাবি করেন সাড়ে ৩ লাখ টাকা। প্রথমে জমি বিক্রি করে এক লাখ টাকা আহম্মদ আলীর হাতে তুলে দেন আসান। বাকি টাকা মালেশিয়ায় গিয়ে পরিশোধ করা হবে বলে গোপন চুক্তি হয়। এভাবে আড়াই মাস আগে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়া হয় ঢাকায়। আজো তার সন্ধান মেলেনি। শুধু আসান আলী নয় তার মতো একই গ্রামের জাকিরুল ইসলাম (৩৮), ওয়াসিম হোসেন (২৩), কসবা গ্রামের জিয়াউর রহমান (৩৬), শানঘাট গ্রামে সাইফুল ইসলাম (২২), পাকুড়িয়া গ্রামের রুস্তুম আলী (২৮), আড়পাড়া গ্রামের মিনারুল ইসলাম (৩১) ও মেহেরপুর জেলা সদরের আমদহ গ্রামের লালন বিদেশে যাবার কথা বলে আদম ব্যবসায়ী আহম্মদের সাথে বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন। তাদের কোন খোঁজ মেলেনি।
গাংনীর আড়পাড়া গ্রামের নিখোঁজ মিনারুলের ভাই আব্দুল হালিম জানান, মাস তিনেক আগে মালেশিয়ায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে খড়মপুরের আদম ব্যবসায়ী আহম্মদ আলী ৩ লাখ টাকা দাবি করেন। প্রথমে এক লাখ টাকা দেয়া হয় এবং বাকি টাকা পরে দেয়া হবে বলে চুক্তি করা হয়। একই ভাবে অন্যদের কাছ থেকেও টাকা নেয়া হয়। আড়াই মাস আগে তাদেরকে বিমান যোগে না নিয়ে নদীপথে মালেশিয়ায় নেয়ার কথা প্রকাশ পেয়ে যায়। কোন উপায় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সবাই রওনা দেন নদীপথে। আজো তাদের কোন সন্ধান মেলেনি।
এ ব্যাপারে নিখোঁজ ৮ পরিবারের পক্ষ থেকে গাংনী থানায় পৃথক পৃথক জিডি করা হয়েছে। গাংনী থানার ওসি মাসুদুল আলম জানান, জিডির সূত্র ধরে আদম ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।