ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও দৌলতদিয়া ঘাটে দীর্ঘ যানজট
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪৪
ঈদ শেষ হতে না হতেই শুরু হয় জামায়াতের টানা ৪৮ ঘন্টার হরতাল। ফলে ঈদের পর বেশিরভাগ মানুষ আটকা পড়ে গ্রামের বাড়ি। হরতাল শেষে তাই ঢাকামুখী মানুষের চাপে মহাসড়কগুলো যেনো অনেকটাই বেসামাল হয়ে পড়েছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাড়ি বিকল হয়ে দীর্ঘ ৭০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। আর মাওয়া-কাওড়াকান্দি ও গোয়ালন্দ-দৌলতদিয়া রুটে তিন থেকে চার কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে নদী পারাপারের অপেক্ষায় কয়েক হাজার যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক অপেক্ষায় আছে। মহাসড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটের কারণে ঢাকামুখী যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ও মির্জাপুর সংবাদদাতা জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও বঙ্গবন্ধু সেতু একসেস রোডে প্রায় ৭০ কিঃমিঃ এলাকা জুড়ে দীর্ঘ যানজটের ফলে ঈদে কর্মস্থলে ফেরা হাজার হাজার যাত্রী সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে যানজট সৃষ্টি হয়েছে বলে বাসযাত্রী পরিবহন শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে। যানজট ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ছাড়িয়ে চন্দ্রা-গাজীপুর-জয়দেবপুরের ২০ কিঃমিঃ ও চন্দ্রা-বাইপাইল-নবীনগর রোডের ১৫ কিঃমিঃ ছাড়িয়ে গেছে।
গতকাল শুক্রবার মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বাসযাত্রী ও পুলিশের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, গতকাল রাতে করটিয়া, জামুর্কি, গোড়াই ও ক্যাডেট কলেজ এবং কালিয়াকৈর এলাকায় মহাসড়কের পাশে ৪/৫টি মালবাহী ট্রাক এবং একটি বিআরটিসি বাস বিকল হয়ে পড়লে এ যানজটের সৃষ্টি হয়। মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে দুই পাশে তীব্র যানজট। মির্জাপুর থানা পুলিশ, বাসাইল থানা পুলিশ, দেলদুয়ার থানা পুলিশ, টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ, কালিহাতী থানা পুলিশ ও হাইওয়ে থানা পুলিশ যানজট নিরসনের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন।
যানজটের ফলে ঈদে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের অসহনীয় দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে বেশি। যানজটের কারণে বিশেষ করে শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। দিনাজপুর থেকে ঢাকাগামী এক বাসযাত্রী ফায়জুর রহমান জানান, তিনি রাত ৩টার দিকে মির্জাপুরের গোড়াই এসে যানজটে আটকা পড়েন। সকাল পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। বেল্লাল হোসেন নামে অপর এক যাত্রী রাত ১১টায় ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে রওনা হন। চন্দ্রা যানজটে আটকা পড়ে বসে থাকেন মাঝরাত পর্যন্ত। পরে সেখান থেকে এসে আবার মির্জাপুরে আটকা পড়েন। অবশেষে টাঙ্গাইল এসে পৌঁছান সকাল সাড়ে আটটার দিকে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুরের গোড়াই হাইওয়ে পুলিশের ওসি জোবায়দুল আলম জানান, বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে কালিয়াকৈর ব্রিজের উপর একটি বাস বিকল হয়ে যায়। ফলে মহাসড়কের উভয়পাশে এলেঙ্গা থেকে গাজীপুরের চন্দ্রা পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। এক ঘন্টা পর ব্রিজের উপর থেকে বিকল বাসটি সরিয়ে নিলেও যানজট নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। শনিবারের মধ্যে এ রোডের যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের খবরে বলা হয়, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ড থেকে দৌলতদিয়া ঘাট পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে আটকে পড়া যানবাহনের শত শত ঢাকাগামী যাত্রী বাস থেকে নেমে ২/৩ কিলোমিটার পথ হেঁটে ফেরি ও লঞ্চে উঠছেন।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান বলেন, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পাঁচ শতাধিক ছোট বড় বাস, ট্রাক ও প্রাইভেটকার পারাপারের জন্য অপেক্ষা করছে। ঈদের ছুটি এবং টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল শেষে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে। ফলে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যানবাহনের বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। বর্তমানে দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌপথে ১০টি রো রো এবং তিনটি কে টাইপ ফেরি পারাপারে নিয়োজিত রয়েছে।
মাওয়া-কাওড়াকান্দি
রুটেও দীর্ঘ যানজট
মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, মাওয়া-কাওড়াকান্দি রুটে গতকাল শুক্রবার দীর্ঘ যানজটের কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঢাকামুখী যাত্রীদের অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়কে দিনভর যানজট ছিল।
বিআইডব্লিউটিএ’র কাওড়াকান্দি ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক এমএ বাতেন সাংবাদিকদের জানান, এ রুটের পদ্মায় নতুন দুটি ফেরিসহ ১৬টি ফেরি চলাচল করছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত বাস, ট্রাকসহ সহস্রাধিক ছোট-বড় যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে।
বাসযাত্রীরা প্রায় ২ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে ফেরি ও লঞ্চে ওঠানামা করেছে। তবে ফেরি পারাপার গাড়ির যাত্রীদের বসে থাকতে হয়েছে কয়েক ঘন্টা। দীর্ঘ যানজটের কারণে নারী ও শিশুদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।