দক্ষিণাঞ্চলের লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়

ঈদের ছুটি ও জামায়াতের ডাকা টানা ৪৮ ঘণ্টা হরতালের পর দক্ষিণাঞ্চলের নৌবন্দরসহ বিভিন্ন লঞ্চ স্টেশনের লঞ্চগুলোতে জায়গা পেতে গতকাল শুক্রবার দুপুরের পর পরই টার্মিনালে ঢাকাগামী হাজার হাজার যাত্রীর ঢল নামে। গতকাল সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীমুখী কর্মস্থলগামী মানুষের সঙ্গে অতিরিক্ত যাত্রী হিসাবে বরিশাল নৌ বন্দরে অবস্থান নেয় আটকেপড়া এসব যাত্রী। ঢাকার সদরঘাট থেকে ফিরে লঞ্চগুলো বরিশাল নৌবন্দরে নোঙ্গর করার সাথে সাথেই টার্মিনালে অপেক্ষারত যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে পড়েন। টার্মিনালসূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার মোট ১১টি লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এসব লঞ্চে তখন সব যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার নাগাদ বরিশাল নৌবন্দরে আটকা পড়েছিলো প্রায় ৫ সহস্রাধিক যাত্রী। এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সুন্দরবন নেভিগেশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইত্তেফাককে জানান, ঐদিন বৃষ্টির কারণে কোনো লঞ্চের ছাদে যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হয়নি। এ কারণেই যাত্রীরা আটকা পড়েছে। যাত্রীদের ভিড় সামাল দিতে যে লঞ্চ শনিবার সকাল ৯টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা ওই লঞ্চকে গতকাল সন্ধ্যা ৬টার আগেই ঘাট ছেড়ে যেতে হয়েছে। সম্রাট-২ নামের লঞ্চটি ছেড়ে যাওয়ার পর একে একে সুন্দরবন ৭ ও ৮, সুরভী ৭ ও ৮, কীর্তনখোলা ১ ও ২, পারাবত ৯-১০-১১, টিপু-৭, কালামখান ও দ্বীপরাজ নির্ধারিত সময়ের এক থেকে দেড় ঘণ্টা আগেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে। ঝালকাঠী থেকে টিপু ও সুন্দরবন কোম্পানির যে লঞ্চগুলো বরিশাল ঘাটে যাত্রী পরিবহন করতে নোঙ্গর করেছিলো তাতেও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। লঞ্চ মালিক ও ঘাট শ্রমিকরা জানিয়েছেন, ঈদের পর সবচেয়ে বেশি যাত্রীর ভিড় ছিলো গতকাল। তারা জানান, বৃহস্পতিবার প্রবল বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক যাত্রী আটকা পড়ায় গতকাল ১৫টি লঞ্চ সার্ভিস দিয়েও যাত্রীদের ভিড় সামাল দেয়া সম্ভব হয়নি। সরেজমিনে টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, মানুষ লঞ্চের মূল সিঁড়ির পরিবর্তে বিভিন্ন ফাঁক-ফোকর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে উঠে কোনোরকম দাঁড়িয়ে বা বসে জায়গা করে নিচ্ছেন। পন্টুনে নারী ও শিশু যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিলো ভয়াবহ। লঞ্চগুলো নির্ধারিত সময়ের আগেই ছেড়ে যাওয়ায় অনেকেই শেষ দিনেও কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে পারেননি। এদিকে টার্মিনালে অপেক্ষমাণ হাজার হাজার যাত্রীর ভিড় সামাল দিতে র্যাব-পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়েছে। নৌবন্দর সংলগ্ন সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করেও যাত্রী দুর্ভোগ কমানো যায়নি।