নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে বড় করদাতাদের উপর
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪৬
বৃহত্ করদাতাদের কাছ থেকে কাঙ্খিত হারে কর পাওয়া যাচ্ছে না। তারা বড় অংকের কর দিচ্ছে। কর ফাঁকিও দেয়া হচ্ছে সমানতালে। এ মতামত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)। সমপ্রতি রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কৌশল ঠিক করতে উচ্চ পর্যায়ের এক সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে, আরো বেশি কর আদায়ের লক্ষ্যে তাদের উপর বিশেষ নজরদারি শুরু করা হবে। বোর্ডের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বিশেষ নজরদারি শুরুর জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কর্মকর্তারা মত প্রকাশ করেন, গত অর্থ বছরে বড় ভ্যাট প্রদানকারী সিগারেট ও মোবাইল ফোন খাত থেকে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ভ্যাট আসেনি। চলতি অর্থ বছরে ভ্যাট আদায় বাড়াতে এসব খাতসহ সিমেন্ট, ভোজ্যতেল, লৌহজাত দ্রব্য খাতের উপর তদারকি বাড়ানোর প্রস্তাব দেন তারা। সভায় কর ফাঁকি বন্ধে দেশের সব কমিশনার কার্যালয়কে কার্যকর কৌশল নিতেও নির্দেশ দেয়া হয়।
এছাড়া মামলা জটে আটকে থাকা প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে সালিশী পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য তাগিদ দেয়া হয়। অন্যদিকে শুল্ক ফাঁকি রোধ এবং ভ্যাট ফাঁকি রোধ ও ভ্যাট আদায় বাড়াতে পরিদর্শন ব্যবস্থা জোরদার করা, ইসিআর মেশিন (ইলেক্ট্রনিক ক্যাশ রেজিস্ট্রার) ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার উপরও জোর দেয়া হয়। বৈঠকে এনবিআর সদস্যসহ কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক কেন্দ্র ও উপজেলা পর্যায়ে পাইলট ভিত্তিতে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করার প্রস্তাবও আসে বৈঠকে।
চলতি অর্থবছরে এনবিআর রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯০ কোটি টাকা। সদ্য সমাপ্ত ২০১২-১৩ অর্থবছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে এনবিআর। যদিও এর আগের তিন অর্থ বছরে ধারাবাহিকভাবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সমর্থ হয়েছিল তারা। গত অর্থবছরে ১ লাখ ১২ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছিল প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থ বছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে আগের অর্থ বছরের চেয়ে প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি রাজস্ব আদায় করতে হবে। সামনে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশংকা থাকায় এই লক্ষ্য অর্জনের ব্যাপারে রাজস্ব কর্মকর্তারা চিন্তিত। কারণ রাজনৈতিক অস্থিরতায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়। রাজস্ব আদায়ও কমে যায়। মূলত এই পরিস্থিতিতে রাজস্ব আদায় চাঙ্গা রাখতে কি করা যায় সে সব বিষয়ে উল্লেখিত বৈঠকে আলোচনা হয়।
চলতি অর্থবছরে আয়কর প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে সবচেয়ে বেশি। গত অর্থ বছরের চেয়ে ৩৬ শতাংশ বেশি আয়কর আদায় করতে হবে এই অর্থবছরে। গেল জুলাই মাসে রাজস্ব আদায়ে ২৪ শতাংশ বেড়েছে। আয়কর আদায়ে উেস কর কর্তনের বিষয়ে তদারকি আরো বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।