কে এই তরুণী?
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪৯
রাজধানীর গুলশানে একটি আবাসন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে এক তরুণীর কর্মকাণ্ড বেশ আলোচিত ঘটনা হয়ে পড়েছে। তবে এর নেপথ্যে অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে নানা কাহিনী। তরুণী ইতিপূর্বে বেশ কয়েকটি প্রতারণার কৌশলে ফেলে নামিদামি লোকজনের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অবশেষে আশিয়ান গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে ওই ধরনের ব্ল্যাকমেইলিং করতে গিয়ে ধরা পড়ে যায়। যদিও তরুণীর পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই প্রতিষ্ঠানে সে অনৈতিক কাজে রাজি না হওয়ায় তিনি চাকরি ছেড়ে চলে আসেন।
আশিয়ান সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, তার প্রতিষ্ঠানে সুশিক্ষিত অনেক মেয়ে চাকরি করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। তাদের পক্ষ থেকে এই ধরনের অভিযোগ কেউ করেনি। এখানে হয়রানি করা কিংবা কোন অযৌক্তিক কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। তবে ওই তরুণী মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে মোটা অংকের টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যায়। এখানেই ক্ষান্ত হয়নি ইশারা ফাহিমা জাহান সিদ্দিকা ওরফে ইশারা। তিনি পাল্টা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। আশিয়ান সিটির পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
ইত্তেফাকের প্রতিনিধি সাতক্ষীরা শহরে ইশারা সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন যে তার মা সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আয়া ছিলেন। দ্বিতীয় স্বামীর ঘরে ইশারাসহ তিন সন্তানের জন্ম হয়। ইশারার অপর ভাই সাইফুল সাতক্ষীরার মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক শম আলাউদ্দিন হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি। ইশারা সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকটি নামিদামি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রভাবশালী নেতাদের কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ কোন ব্যবস্থা নিতে সাহস পায়নি। তার প্রতারণার টার্গেট হচ্ছে নামিদামী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী। তবে ইশারা ও তার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।