ওয়ারীতে বেডরুমে পিস্তলের গুলিতে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

রাজধানীর ওয়ারীতে আমির হোসেন সিয়াম (১৫) নামের দশম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ৪২ র্যাংকিন স্ট্রিটের নয় তলা অ্যাপার্টমেন্টের ২য় তলার ফ্ল্যাটে নিজের শোবার ঘরে পিস্তলের গুলিতে নিহত হয় সিয়াম। পুলিশ কপালে গুলিবিদ্ধ সিয়ামের লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে রাত আড়াইটার দিকে চিকিত্সকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ ধারণা করছে, ওই স্কুল ছাত্রকে কপালে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি আত্মহত্যা বলে দাবি করেছেন। পুলিশ এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা খতিয়ে দেখছে। তবে সেভেন পয়েন্ট সিক্স ফাইভ ক্যালিবারের ওই অত্যাধুনিক পিস্তলটি স্কুল ছাত্র কোথায় পেয়েছে তা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, সিয়াম স্বামীবাগের মিতালী স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র। সিয়ামের মায়ের সঙ্গে বাবার সম্পর্ক ছেদ হওয়ার পর তার মা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। ওয়ারীর ওই ফ্ল্যাটে সিয়াম তার মা ও সত্ বাবার সঙ্গে থাকত। নিহতের মামা পাশা ওরফে বিদ্যুত্ জানান, সিয়াম তার পিতৃ পরিচয় নিয়ে পারিবারিকভাবে অশান্তিতে ছিল। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ২টার দিকে সিয়ামের মা ফারহানা ইয়াসমিন একটি গুলির শব্দ শুনতে পান। পরে সিয়ামের ঘরে গিয়ে দেখেন যে তার ছেলে বেডরুমের বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানান। ওয়ারী থানার ওসি তপন চন্দ্র সাহা বলেন, ঘটনার পর সিয়ামের মামা বিদ্যুত্ বাদী হয়ে ওয়ারী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। পুলিশ সিয়ামের বেডরুম পরিদর্শন করেছে। সেখান থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পিস্তলে কোন গুলি ছিল না। সিয়ামের কপালে গুলিবিদ্ধ হওয়া স্থান পর্যবেক্ষণ করে ধারণা করা হচ্ছে তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করা হয়েছে। তবে সে আত্মহত্যা করেছে কিনা তারা নিশ্চিত নন। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। উদ্ধার করা পিস্তলটি সিয়াম কোথায় পেয়েছে তা-ও তদন্ত করা হচ্ছে বলে ওসি জানান।