ডেইরি খামারগুলো
হুমকির মুখে
সৈয়দ আবদুল ওয়াজেদ, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০১৩, ২২:০১
সময়মতো প্রয়োজনীয় টিকা প্রদান এবং প্রান্তবর্তী অঞ্চল পর্যন্ত চিকিত্সা সুবিধা পৌঁছানোর অভাবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ব্যাপক সম্ভাবনাময় ডেইরি খামারগুলো হুমকির মুখে। বিশেষত: দুধ উত্পাদন ও গবাদিপশু লালনপালনের জন্য ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের দাবিদার আনোয়ারা উপজেলা ও পশ্চিম পটিয়ার দুধের খামারগুলোসহ গরু-মহিষ-ছাগল-ভেড়া লালনপালনকারী কৃষকেরা এই সংকটের মুখে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার ফলে গবাদিপশু থেকে দুধ উত্পাদন হ্রাস এবং বিভিন্ন সময় ভ্যাক্সিন ও চিকিত্সার অভাবে গবাদিপশুর মৃত্যুতে খামারি ও ছোটোবড়ো পশুপালনকারী কৃষকরা বিপুল আর্থিক ক্ষতি গুণছে বলে সূত্রগুলো জানায়।
খামারি ও ক্ষতিগ্রস্ত পশুপালনকারী কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলা পশুসম্পদ কর্মকর্তারা উপজেলার ইউনিয়ন ও প্রান্তবর্তী এলাকাসমূহে পশুচিকিত্সায় মোটেও তদারকি করেন না। অন্যদিকে উপজেলা পশুসম্পদ কর্মকর্তারা জানান, তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট সংবাদ আসলে তারা পশুচিকিত্সার যথাসাধ্য উদ্যোগ নিয়ে থাকেন। প্রান্তবর্তী অঞ্চলের ছোটো খামারীদের মতে তাদের গবাদিপশুগুলো সরকারি চিকিত্সা সুবিধার বাইরে। আনোয়ারা উপজেলার পার্কি এলাকার খামারী কৃষক নুরুল আনোয়ার অভিযোগ করেন, ক্ষুরের মধ্যে সংক্রমণ সৃষ্টির কারণে সমপ্রতি তার কয়েকটি ছাগল-ভেড়া মারা যাওয়ায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। ইতিপূর্বেও ক্ষুরা রোগের জন্য সময়মতো টিকাদানের অভাবে তার ও আশেপাশের অনেক প্রান্তিক খামারীর দুধের গাভী ও মহিষের মৃত্যুতে বিপুল আর্থিক ক্ষতির তিক্ত অভিজ্ঞতা আনোয়ারা উপজেলায় গবাদিপশু লালনপালন ও দুধ উত্পাদন উদ্যোগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে তিনি জানান। তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বরাত দিয়ে জানান, সরকারের সদিচ্ছার আলোকে আনোয়ারা উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নের মতো ১নং বৈরাগ ইউনিয়নেও উপজেলা কমপ্লেক্স গঠিত হয়েছে। সেখানে পশুসম্পদ কর্মকর্তাদের বসা ও চিকিত্সার কাজ করার জন্য কক্ষ বরাদ্দ হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তাকে সেখানে উপস্থিত হতে দেখা যায়নি। তার অভিযোগ সরকারি ভ্যাক্সিন দেয়া হলেও তা পশুর শরীরে রোগবালাই প্রতিরোধে কাজ করে না। ফলে বড় খামারীরা নিজেরাই বিদেশ থেকে আমদানীকৃত ১৫/২০ ডোজের একেকটি ভ্যাক্সিন ১২শ’ টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকায় কিনে নিজেদের গবাদিপশু বাঁচাতে প্রয়োগ করছেন।
এদিকে পটিয়া উপজেলার জুলধা ইউনিয়নের ‘হাকিম শরিফ ডেইরি ফার্ম’-এর মালিক হাকিম শরিফ ইত্তেফাক-কে জানান, চরলক্ষ্যায় কয়েক মাস আগে স্থাপিত সরকারি মিল্কভিটা দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্টের উদ্যোগে গত রোজার ঈদের আগে খামারীদের জন্য ভ্যাক্সিন বিনামূল্যে বিতরণ করা হলেও এপর্যন্ত তিনি পাননি। তিনি জানান, এই ভ্যাক্সিন কেউ কেউ পেয়েছে, সবাই পায়নি। আনোয়ারা উপজেলা পশুসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মুজিবুর রহমান ইত্তেফাক-কে জানান, উপজেলায় সব গবাদিপশুকে একবারে দেয়ার মতো ভ্যাক্সিন সরকারি বরাদ্দ থেকে আসে না। যে পরিমাণ ভ্যাক্সিন আসে তার চেয়ে এখানে গবাদিপশুর সংখ্যা অনেক বেশি।