হাতিয়া উপকূলে ছয় মাসে অর্ধশত ফিশিং ট্রলার ছিনতাই

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার উপকূলীয় মেঘনায় ও বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গত ছয় মাসে ওই এলাকায় জলদস্যুরা অর্ধশতাধিক ফিশিং ট্রলার ছিনতাই করে কয়েক লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, জলদস্যুদের আলাদা আলাদা সশস্ত্র সিন্ডিকেট হাতিয়া উপকূলীয় মেঘনায় ও সাগরে মাছ ধরার সময় ট্রলারগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। নোয়াখালীর রাণী বাহিনী ও টাইগার বাহিনী, হাতিয়ার কালাম ও এমরান বাহিনী এদের মধ্যে অন্যতম। দীর্ঘদিন ধরে এরা মেঘনায় ও বঙ্গোপসাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। স্থানীয় মত্স্যজীবী সমপ্রদায়ের ধারণা শুধু গত ৫ বছরেই বঙ্গোপসাগরে এদের হাতে তিন শতাধিক মাঝি-মাল্ল¬া নির্মমভাবে নিহত হয়েছে। শত শত জেলে চিরদিনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেছে। সূত্র জানায়, জলদস্যুরা বিভিন্ন কলা-কৌশল অবলম্বন করে গভীর সমুদ্র হতে মাছ ধরা অবস্থায় নৌ-যানগুলো দখল করে নেয়। এ সময় তারা মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে নিরীহ জেলেদের অত্যাচার-নিপীড়ন করে নৌযানের ইঞ্জিন, জাল, আহরিত মাছ ও জ্বালানি তেলসহ সকল প্রকারের ফিশিং সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়। সামান্য প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে মাঝি-মাল্লাদের হাত-পা বেঁধে সাগরে নিক্ষেপ অথবা মত্স্য সংরক্ষণ কক্ষে আবদ্ধ করে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এদিকে অরক্ষিত বিশাল সমুদ্রে জলদস্যুদের এসব নৃশংস ঘটনার দায়-দায়িত্ব উপকূলীয় এলাকার কোন থানাই নিতে চায় না বলে জানা গেছে। নদী ও সমুদ্র এলাকায় দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন প্রকার নিয়ন্ত্রণ নেই বললেই চলে। অবশ্য সাগরে যাতায়াতের জন্য উল্লেখযোগ্য কোন নৌযান না থাকাই মামলা না নেয়ার অন্যতম কারণ বলে সংশ্লি¬ষ্ট উপকূলীয় থানাসমূহ থেকে দাবি করা হয়েছে। এমনকি কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী বা অন্যান্য সরকারি সংস্থাও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও জলদস্যুদের দমনে কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না।