সংবিধান সংশোধন করবে না সরকার
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪৭
নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সংবিধানে আর কোন সংশোধনী আনবে না সরকার। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালে বর্তমান সংসদ বহাল থাকবে কিনা, তা সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে। জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থায় আর কোন পরিবর্তন আনা হবে কিনা, জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ এই তথ্য জানান।
এদিকে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, সংসদ বহাল রেখে নির্বাচনের বিধান সংসদীয় গণতন্ত্রের কোন দেশে নেই।
তবে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে ঘোষণা করেছিলেন, ২৫শে অক্টোবর বর্তমান সংসদ ভেঙ্গে দেয়া হবে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমান জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনেই নির্বাচনের বিধান পুনঃপ্রবর্তন করা হয়। আদালতের নির্দেশনায় অবশ্য আগামী দুইটি জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে বলে অভিমত ছিল। নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে পঞ্চদশ সংশোধনীর অস্পষ্টতা দূর করতে সংসদের শেষ অধিবেশনে একটি বিল আনা হবে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেছিলেন। কিন্তু আইনমন্ত্রী জানান, নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে পঞ্চদশ সংশোধনীর অস্পষ্টতা দূর করতে সংবিধান সংশোধনের কোন প্রয়োজন হবে না।
সংবিধানের ৫৭ (৩) ধারা অনুযায়ী পরবর্তী সরকার দায়িত্বগ্রহণ না করা পর্যন্ত বর্তমান প্রধানমন্ত্রী স্বীয় পদে বহাল থাকবেন। ২০০৯ সালের ২৫শে জানুয়ারি বর্তমান জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসেছিল। এই সংসদের মেয়াদ শেষ হবে ২০১৪ সালের ২৪শে জানুয়ারি। পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী বর্তমান সরকারও ঐ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারবে। তবে এ বছরের ২৬শে অক্টোবর থেকে আগামী বছরের ২৪শে জানুয়ারির মধ্যে জাতীয় সংসদের নির্বাচন করতে হবে এবং ২৫শে জানুয়ারির মধ্যে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।
আইনমন্ত্রী ইত্তেফাককে জানান, সংশোধিত সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সংসদ এবং মন্ত্রিসভা বহাল রেখে নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোন বাধা নেই। তবে প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছা করলে প্রেসিডেন্টকে সংসদ ভেঙ্গে দেয়ার পরামর্শ দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট সংসদ ভেঙ্গে দিবেন এবং সংবিধানের ৫৬ (৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান সংসদ ভেঙ্গে যাওয়ার অব্যবহিত পূর্বে যারা সংসদ সদস্য ছিলেন তাদের নিয়ে ছোট আকারের একটি মন্ত্রিসভা গঠন করে সরকার পরিচালনা করবেন। অর্থাত্ নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থায় বর্তমান সংসদ ও মন্ত্রিসভা বহাল থাকবে কিনা, তা সম্পূর্ণই প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।
নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সংবিধানে আর কোন সংশোধনী না আনার বিষয়ে বিএনপির প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, একজন সংসদ সদস্য থেকে নির্বাচন করবেন এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী সংসদ সদস্য না থাকা অবস্থায় নির্বাচন করবেন, এটি সকলের জন্য সমান সুযোগ, এই মৌলিক গণতান্ত্রিক বিধানের পরিপন্থি। এজন্যই আমরা সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।