সাংবিধানিকভাবেই আগামী নির্বাচন হবে
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০১৩, ২২:৫১
সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিকভাবেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সূচনা বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে উচ্চ আদালতের রায়ের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। এটা কেন অনেকে ভুলে যান? দেশে যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সূচনা ঘটেছে সেটাকেও অব্যাহত রাখতে হবে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগকে ম্যান্ডেট দিয়েছে। আমরা জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার নিশ্চিত করেছি। তার ধারাবাহিকতাও ধরে রাখতে হবে। দেশ সাংবিধানিকভাবেই এগিয়ে যাবে। সংবিধান অনুযায়ী একবার না একবার তো নির্বাচন করতে হবে। এই সংবিধান জনগণের।
সূচনা বক্তব্যের পর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে দেশের সর্বশেষ রাজনীতি, আগামী নির্বাচন, নির্বাচনের প্রচারের কৌশলসহ আগামী নির্বাচনে বিরোধী দলকে মোকাবেলার কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডকে জায়েজ করার জন্য এখনো অনেকে অনেক কথা বলেন; কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি প্রতিশোধ নেয়ার জন্য এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন এটাই বাস্তবতা। অনেকেই এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে কারণ দেখানোর চেষ্টা করে, আসলে তাদের উদ্দেশ্যটা কী? তিনি বলেন, আমরা সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেছি। আমরা তো এটুকু এগিয়েছি যে, কেউ আর অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতায় আসতে পারবে না। অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতা দখল করে জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারবে না। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ মাটি ও মানুষের মধ্য থেকে উঠে আসা দল। এই কারণেই জনগণের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। আর কেউ যদি উড়ে এসে জুড়ে ক্ষমতায় বসে, তাহলে তার জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকে না। এ কারণেই আগে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল ও পরে সেই ক্ষমতাকে বৈধ করা- এই উল্টো স্রোতই এদেশে চলে এসেছ। আওয়ামী লীগ সরকার এই অবস্থা থেকে পরিবর্তন ঘটাতে পেরেছে। এখন জনগণের ভোটেই প্রতিনিধি নির্বাচিত হবে। এ কারণেই এই সরকারের সময় অনুষ্ঠিত সব নির্বাচনই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু প্রবর্তিত বাকশাল ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, বাকশাল কোনে একদলীয় ব্যবস্থা ছিল না। বরং বাকশালের মাধ্যমে বহু দলের কাছে ক্ষমতার বন্টন করে বঙ্গবন্ধু জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন।
সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমালোচকদের উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা চোখ থাকতে অন্ধ, তাদের হাজার চেষ্টা করেও সরকারের উন্নয়ন দেখাতে পারব না। কিন্তু তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। জনগণ যেন তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ‘ক্ষমতালোভী’ সুশীলদেরও সমালোচনা করেন।
শেখ হাসিনা বিরোধী দলীয় নেতার সমালোচনা করে বলেন, বিরোধী দলীয় নেত্রী ১৫ আগস্টকে জন্ম তারিখ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। সত্যি হলে কথা ছিল, কিন্তু তিনি কোথাও তার জন্ম তারিখ হিসেবে ১৫ আগস্ট দেখাতে পারেননি। স্কুলের রেজিস্ট্রেশনে ৫ সেপ্টেম্বর, কাবিননামায় জন্ম তারিখ ভিন্ন, পঁচাত্তরের পর যখন জিয়া ক্ষমতা দখল করে বিদেশ সফরে যান সেই সময় পাসপোর্টে ছিল ভিন্ন জন্ম তারিখ। ৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হবার পর খালেদা জিয়ার মা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় যে সাক্ষাত্কার দিয়েছেন, সেখানেও জন্ম তারিখ ভিন্ন দেখিয়েছেন। অথচ ৯১ সালে ক্ষমতায় আসার এক বছর পরই হঠাত্ করে ১৫ আগস্টকে বেছে নিলেন জন্মদিন উদযাপন করার জন্য। এটার অর্থ খুনিদের উত্সাহ যোগানো, শক্তি দেয়া।