তিস্তা নিয়ে গেছে কলাগাছি গ্রাম

তিস্তার ভাঙ্গনে রংপুরের গঙ্গাচড়ার মানচিত্র থেকে কলাগাছি গ্রাম হারিয়ে গেছে। গ্রামটি গত দেড়মাসের ব্যবধানে হয়ে গেছে নিশ্চিহ্ন। স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি ইমান আলী বলেন, উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের উত্তর চরাঞ্চলের একটি গ্রামের নাম কলাগাছি। গ্রামটিতে প্রচুর কলা গাছ ছিল বলে গ্রামের নামটি রাখা হয়েছিল কলাগাছি। গ্রামটিতে ছিল ৫০ পরিবারের বাস। সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিস্তার করাল গ্রাসে ১ কিলোমিটার ব্যাসের কলাগাছি গ্রামটি আজ আর নেই। দেড়মাসের ব্যবধানে এই গ্রামের মনসুর, সাইয়েদুল, বাতেন, মজীদ, আজিদ, একরাম, জিয়ারুল, আমিরুল, আনারুল, মমিনুর, টেপা, শফিকুল, রফিকুল, জামান, সামসুল, চাঁদ, সামছুদ্দিন, সুজা, সাদেক, জামলু, হবি, বাউরা, হযরত, ভুট্টু, রবিউল, আজিজুল, মজিবর, খোকন মিয়া, ভুট্টু মিয়া, আজিজুল মিয়া, রব্বানী, হাসান, রেয়াজুল, ফুলবানু, মোশারফ, আজিজার, কান্দুরা, আহম্মদ, তৈয়ব আলী, মমিনুর ও আইয়ুব আলী ঘর-বাড়ি সরিয়ে নিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। স্থানীয়রা জানান, নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া এসব পরিবার বিভিন্ন স্থানে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে। বাঁধের ধারে কিংবা উঁচু জায়গায় কোন রকমভাবে তারা বেঁচে আছে। তারা আরো জানান, তিস্তা নদীতে সেতু হওয়ার কারণে চরাঞ্চলে জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় জমির মালিকরা আর আগের মতো লোকজনকে বাড়ি করতে দেয় না। এ কারণে নদী ভাঙ্গন কবলিত লোকজন মানবেতর জীবন যাপন করছে। তবে এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, কোন চেয়ারম্যান-মেম্বার আমাদের এই অবস্থা দেখতে আসে নাই। লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান ফয়সাল হাসান বলেন, তিস্তার ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাওয়া কলাগাছি গ্রামের লোকজন বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এসব পরিবারকে সরকারিভাবে পুনর্বাসন করা দরকার।