গোপালগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিককে পিটুনি, হত্যার হুমকি
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০১৩, ২২:৫৮
গোপালগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসী দুই গ্রুপের সংঘর্ষে সাংবাদিক ও ছাত্রলীগ নেতাসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে সংবাদ সংগ্রহ ও ভিডিও চিত্র ধারণের সময় এনটিভির জেলা স্টাফ রিপোর্টার মাহবুব হোসেন সারমাতকে পিটিয়ে আহত করে একটি পক্ষের লোকজন। এছাড়া সংঘর্ষের দৃশ্য ধারণ করলে মিডিয়া কর্মীদের পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হবে বলেও তারা হুমকি দেয়। গতকাল শনিবার দুপুরে শহরের সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ চত্বর ও পোষ্ট অফিস মোড়ে স্থানীয় ঘোষেরচর এবং বেদগ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, সকালে শহরের সরকারি বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ চত্বরে ঘোষেরচর গ্রামের সাইফুল মোল্লা ও ইমরুল মিয়াকে বেদগ্রামের রিপন ও সোহাগ কুপিয়ে আহত করে। এ ঘটনার জের ধরে দুপুর পৌনে ১টার দিকে দু’ গ্রামের লোকজন কলেজ চত্বর ও পোষ্ট অফিস মোড়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় ২টি মোটর সাইকেল ভাংচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড শটগানের গুলি বর্ষণ করে।
এদিকে সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহ ও ভিডিও চিত্র ধারণের সময় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও স্কুল ছাত্র সাদ্দাম হত্যা মামলার আসামি শাহনেওয়াজ পুলিশের সামনেই সাংবাদিক মাহবুব হোসেন সারমাতের উপর হামলা চালায়। তাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। পরে গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) সেলিম রেজাসহ পুলিশ সদস্যরা তাকে রক্ষা করেন। এসময় ঘোষেরচরের হামলাকারীরা মিডিয়ায় তাদের সংঘর্ষের দৃশ্য ধারণ করলে মিডিয়া কর্মীদের পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়। পরে আহত সাংবাদিকসহ ৪ জনকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল হামিদও রয়েছেন।
আহত সাংবাদিক মাহবুব হোসেন সারমাত বলেন, বিগত কয়েকটি ঘটনার রিপোর্ট নিজেদের পক্ষে না যাওয়ায় শাহনেওয়াজ ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ওপর হামলা করেছে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) সেলিম রেজা সাংবাদিকের উপর হামলা ও গুলি ছোঁড়ার কথা স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।