গল্প নয় সত্যি
ভয়ংকর কীর্তি!
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০১৩, ২০:২২
ঘটনাস্থল আমেরিকার শিকাগোর প্রায় ৭০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ইলিনয়েসের সেরেনা শহর। এক অবিশ্বাস্য স্কাইডাইভারের কীর্তি দেখতে হাজির কয়েক শ’ মানুষ। অন্যদিকে তাদের দাঁড়িয়ে থাকা সমতল ভূমি থেকে সাড়ে চৌদ্দ হাজার ফিট উপরে বিমানে থাকা একদল স্কাই-ডাইভার ও ঘটনার নায়ক এন্থনি মার্টিনের জন্য তখন রূদ্ধশ্বাস প্রস্তুতির সময়। সবকিছু ঠিক থাকলে আর কিছুক্ষণের মধ্যেই এন্থনিকে একটি কফিনের ভেতরে হাতকড়া ও দড়ি দিয়ে বাধা অবস্থায় বিমান থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে শূন্যে। এ সময় কফিনটিকে আকাশে ভাসমান অবস্থায় স্থির রাখার জন্য সেটি ধরে থাকবেন চার-পাঁচজন স্কাইডাইভার। এমনকি কফিনটি মাটিতে পড়ে যেন কাউকে আহত না করতে পারে সেজন্য কফিনের সাথেও সংযুক্ত করা হয়েছে একটি প্যারাসুট। শুধুমাত্র কফিনের ভেতরে আটক এন্থনির নিরাপত্তার ভাবনাটাই যেন কারও মাথায় নেই। তিনি সময়মতো নিজেকে কফিন থেকে মুক্ত করে প্যারাসুট না খুলতে পারলে তার ভাগ্যে কী হবে সেই চিন্তাটাও যেন কারও হচ্ছে না। তবে চিন্তা হবেই বা কী করে! দুঃসাহসী এই স্টান্টের ফন্দিটা যে সজ্ঞানে আর ঠাণ্ডা মাথায় এন্থনির নিজেরই করা। প্রায় সাড়ে চৌদ্দ হাজার ফুট উপর থেকে ঘন্টায় ১৩০ মাইলেরও বেশি বেগে নেমে আসার এই সময়টাতে একটু হিসেবের ভুল হলেই যে মৃত্যু সেই কথাটা জানা এন্থনিরও। তবে মনে মনে নিজের আত্মবিশ্বাসের একটা ছকও নিশ্চয়ই ছিল এন্থনির মনে। আর এই মনের জোর এবং সূক্ষ্ম হিসেবের পথ ধরেই অবশেষে সবার চোখ কপালে তুলে নিজেকে মুক্ত করে মাটিতে নেমে আসেন এন্থনি। নিচে উপস্থিত শতাধিক দর্শক দেখেন, কী করে কোনো ধরনের ভাসমান জ্যাকেট ছাড়াই মুক্ত অবস্থায় পড়তে থাকা কফিনের সাথে লাগানো হাতকড়া থেকে নিজেকে মুক্ত করে প্যারাসুটের বোতাম চেপে নিরাপদে মাটিতে নামিয়ে আনেন এন্থনি। এরই সাথে অবিশ্বাস্য একটা রেকর্ড গড়েন উইসকনসিন নিবাসী ৪৭ বছর বয়সী এন্থনি। আর সেই সাথে যোগ হয় স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের লগ্নি করা অর্থও।