ঠাকুরগাঁওয়ে তামাকসেবী বাড়ছে

ঠাকুরগাঁও জেলায় বর্তমানে তামাকসেবীর সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ। এই সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ধূমপানসহ বিভিন্ন ধরনের তামাক ব্যবহার বেড়ে গেছে। ফলে বেড়ে গেছে মানুষের ক্যান্সার, হূদরোগ, অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসের সমস্যাসহ নানা রোগ। ধূমপান না করেও পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন আরো কয়েক লাখ নারী, পুরুষ ও শিশু। কিন্তু ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন এখানে তেমন কার্যকর নয়। ঠাকুরগাঁও জেলায় ১৪ লাখ জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৯ লাখ। সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী ৪ লাখ ৪৫ হাজার নারী-পুরুষ তামাক ব্যবহার করেন। তবে ঠাকুরগাঁওয়ে তামাক ব্যবহারের প্রবণতা বেশি হওয়ায় এই সংখ্যা সাড়ে ৪ লাখেরও অধিক বলে চিকিত্সকদের ধারণা। ঠাকুরগাঁওয়ে যক্ষ্মা রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ আবু মোঃ খয়রুল কবীর জানান, তামাকজনীত কারণে আক্রান্ত রোগীর সঠিক সংখ্যা জানা না গেলেও তামাক সেবনের জন্য বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত প্রায় ২৫০ রোগী প্রতি মাসে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। সদর হাসপাতালেই এই সংখ্যা গড়ে প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ জন। এদের মধ্যে হার্ট এ্যাটাক, হাঁপানী ও ফুসফুসে যক্ষ্মায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। তিনি জানান, ধূমপান, তামাক সেবন ও গুল ব্যবহার করার কারণে অনেকের মৃত্যু হয়েছে। কিছুদিন আগে রায়পুর এলাকার তোফাজল ও চিলারং এলাকার সাদেক আলী অতিরিক্ত ধূমপানের কারণে মারা যান। তোফাজল হার্ট এ্যাটাকে ও সাদেক যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ডাঃ কবীর জানান, ঠাকুরগাঁও জেলায় যক্ষ্মায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। ধূমপানে অভ্যস্ত হওয়ায় ৫০ শতাংশ রোগীর যক্ষ্মা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গ্রামাঞ্চলে বিড়ির ব্যবহার বেশি। ট্যাক্স কম হওয়ায় বিড়ির দামও কম। সচেতনতার অভাবে ও ধূমপানের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তেমন ধারণা না থাকায় গ্রামের কৃষক, দিন মজুর অবিরাম বিড়ি পান করে চলেছেন। ট্যাক্স কম হওয়ায় গরীবের উপকারের পরিবর্তে তারা মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে। সদর হাসপাতালের হূদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ আব্দুল মান্নান জানান, গ্রামের হাজার হাজার লোক বিড়ি পান করার জন্য হূদরোগে ভুগছে। ঠাকুরগাঁও জেলায় মহিলাদের মধ্যে জর্দা, তামাকপাতা ও গুল ব্যবহার অনেক বেশি। ফলে তারা সরাসরি তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সিভিল সার্জন জানান, অনেক মহিলা দাঁতের ব্যথা থেকে সাময়িক উপশম লাভের জন্য গুল ব্যবহার করেন। কিন্তু এতে মুখের, শ্বাসনালীর ও মাড়ির ক্যান্সার হওয়ার আশংকা থাকে। তিনি এ ধরনের যত রোগী দেখেছেন, তাদের বেশিরভাগই গুল, জর্দা বা তামাক পাতা ব্যবহারে অভ্যস্ত।