এবার রিওতে চোখ, সময়ের সেরা বোল্টের

আরেকটি বড় চ্যাম্পিয়নশীপ; উসাইন বোল্টের আরেকটি চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্স; অতিমানবীয় প্রতিভার আরেকটি নিদর্শন। তাহলে কি জ্যামাইকান এই গতি সম্রাটকে সময়ের সেরা ক্রীড়াব্যক্তিত্ব বলে ঘোষণা দিয়ে দেয়া যায়? এ নিয়ে যদি বিতর্ক থাকেও অন্তত একটা ব্যাপার নিশ্চিত করে বলে দেয়া যায় যে ক্রীড়াঙ্গনে অমরত্বের পথেই হাঁটছেন বোল্ট। শুধু তাই নয় এখন তার চোখ ব্রাজিলের রিও ডে জেনিরোয় অনুষ্ঠেয় অলিম্পিক আসরটির দিকেও। বোল্ট গত শনিবার টানা তৃতীয়বারের মত ২০০ মিটারে বিশ্ব সেরার মুকুট জেতার পর নিজের মহাপরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। ১৯.৬৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে দূরত্বটি পার হওয়ার পর বলেছেন ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে নিজের শিরোপা ধরে রাখাই এখন তার লক্ষ্য। শুধু তাই নয়, ডিয়েগো ম্যারাডোনা, পেলে, মাইকেল জর্ডানদের মতো কিংবদন্তীদের তালিকায় নাম লেখাতে মুখিয়ে আছেন এই বুধবারে ২৭ বছরে পা দিতে যাওয়া বোল্ট। রিও অলিম্পিকের কথা মাথায় রেখে তিনি বলেন, ‘আগামী অলিম্পিকে নিজের শিরোপা ধরে রাখাই এই মুহূর্তে আমার মূল লক্ষ্য। এখন পর্যন্ত এটা কেউ করতে পারেনি। আর সেই লক্ষ্য পূরণে প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে বিশ্ব আসরে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন। স্বর্ণপদক ধরে রাখার জন্য আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি। বিশ্ব আসরে আমি অপরাজিত থাকার পরে অলিম্পিকে ১০০ ও ২০০ মিটারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছি।’ জ্যামাইকান তারকাটি এ নিয়ে বিশ্ব আসরে সপ্তমবারের মতো শিরোপা জিতলেন। এর আগে ২০০৯ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে বার্লিনে ১০০ ও ২০০ মিটারে, ২০১১ সালে দায়েগুতে ২০০ মিটারে এবং গত রবিবার মস্কোতে ১০০ মিটারে স্বর্ণ জেতেন। এছাড়া ২০০৯ ও ২০১১ সালের আসরে ৪০০ মিটারে রিলেতে স্বর্ণজয়ী জ্যামাইকা দলের সদস্য ছিলেন তিনি। এবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে বোল্টের কীর্তি একদিকে যেমন তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমান করলো, তেমনি থমকে থাকা ক্রীড়াবিশ্বের জন্যও আনলো বড় এক বিস্ময়। সামপ্রতিক সময়ে অ্যাথলেটিকসে ড্রাগ কেলেঙ্কারির পর আরেকটি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ দিয়ে বোল্ট এনে দিলেন স্বস্তির বাতাস। তাই তিনিই যে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের ইতিহাসে সেরা অ্যাথলেট সেটা নিশ্চিত প্রায়। ছয়টি অলিম্পিক স্বর্ণের সাথে সমানসংখ্যক বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা আর এই ‘রাশিয়া কান্ডে’র আগে আরো কিছু শিরোপা জয় মিলিয়ে বোল্ট এখন সত্যি সবাইকে ছাপিয়ে গেছেন। রেকর্ড ভাঙা সময় নিয়ে জয় করেছেন ১০০ ও ২০০ মিটারের শিরোপা। একবারই মাত্র ১০০ মিটারের শিরোপা জিততে পারেননি এই জ্যামাইকান। সেটি ছিল দু’বছর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার দায়েগুতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে, যেখানে তিনি ‘ফলস স্টার্ট’ এর জন্য বাদ পড়েছিলেন। বোল্টের রেকর্ডে আরেকটি বিস্ময়কর ব্যাপার হল, গত চারবছরে ৩৯টি ১০০ মিটারের ফাইনালে মাত্র চারজন অ্যাথলেট তাকে হারাতে পেরেছেন। সেই চারজনই ইয়োহান ব্লেক, টাইসন গে, আসাফা পাওয়েল ও জাস্টিন গ্যাটলিন আবার ড্রাগ টেস্টে ব্যর্থ হওয়ায় এবারের আসরটিতে নেই। অ্যাথলেটিকসের ইতিহাসে বোল্টকে সবচেয়ে উপরে রাখার অর্থ হল- জেসি ওয়েন্স, মাইকেল জনসন, সের্গেই বুবকা ও কার্ল লুইসদের আগে তার নাম উচ্চারিত হওয়া। তবে, শুধু ট্র্যাকের কীর্তিই বোল্টকে অন্যদের থেকে এগিয়ে রাখেনি। গোটা বিশ্বেই বোল্ট এখন একজন ভালবাসা ও শ্রদ্ধার পাত্র। এ ব্যাপারে বোল্ট বলেন, ‘আমি জানি অনেক শিশুই আমাকে অনুসরণ করে। আমি যখন জ্যামাইকাতে নিজের বাড়িতে যাই সে সময় অনেক মেয়েকেও বলতে শুনি ‘আমি বোল্টের মতো হতে চাই’। আমি জানি আমাকে দেখে অনেকেই উদ্বুদ্ধ হয়। সব সময়ই তাদের আমি অনেক পরিশ্রম করার পরামর্শ দেই। ফেসবুকেও কোচিংয়ের পরামর্শ চেয়ে অনেকে আমার কাছে মেসেজ পাঠায়। আমি সবাইকেই উদ্বুদ্ধ করতে চেষ্টা করি।’ সমর্থকদেরই নিজের শক্তি মানছেন বোল্ট, ‘আমি অনেক বেশি পরিশ্রম করি। কারণ, আমি জানি সমর্থকরা আমাকে জোরে দৌড়াতে দেখতে পছন্দ করে। সব সময় এমন হবে না। মূল কথা হল কে কতো বেশি একাগ্র থাকতে পারে।’ গত বছর লন্ডন অলিম্পিকে ১০০ মিটারে স্বর্ণ জয়ের পর ‘কিংবদন্তী’ হওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন বোল্ট। এবারও সেই পুরনো কথারই পুনরাবৃত্তি করে বললেন, ‘এবার আমি ম্যারাডোনা, পেলে, মাইকেল জর্ডানের মতো গ্রেটদের তালিকায় নাম লেখাতে চাই। আর এভাবে মানুষের মনে বেঁচে থাকতে হলে অবশ্যই আমাকে স্বর্ণচূড়ায় উঠতে হবে।’ রিও অলিম্পিকেও স্বর্ণ জয় করতে পারলে বোল্টের অমরত্ব নিয়ে যে কোন বিতর্কেরই অবকাশ থাকবে না সেটা এখনই নিশ্চিত করে বলা যায়।