ম্যান ইউ’র শুভ সূচনা, অঘটনের শিকার আর্সেনাল

ডেভিড ময়েস প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ হিসেবে প্রথম পরীক্ষায় উতরে যাওয়ায় হাফ ছেড়ে বাঁচলেন। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের এই উত্তরসুরি ময়েসের অধীনে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড গত শনিবার রাতে সোয়ানসির বিরুদ্ধে অনায়াস জয়ে শুরু করলো ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা ধরে রাখার কাজ। এ রাতের খেলায় বড় দলগুলোর মধ্যে লিভারপুল ১-০ গোলে স্টোক সিটির বিরুদ্ধে জয় পেলেও প্রথমে এগিয়ে গিয়েও অ্যাস্টন ভিলার কাছে বাজেভাবে হারে আর্সেনাল। রবিন ফন পার্সি ও ড্যানি ওয়েলবেক উভয়ে দু’টি করে গোল দিলে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের উত্তরসুরি ময়েস ৪-১ ব্যবধানের জয় পান। আইভরি কোস্টের স্ট্রাইকার উইলফ্রাইড বোনি স্বাগতিকদের সান্তনার গোলটি এনে দেন। ওয়েন রুনি দলবদলের বাজারে চেলসিতে যোগদান নিয়ে গুঞ্জরনের মধ্যে থাকলেও এদিন মাঠে নেমে শেষ দু’টি গোলের উত্স রচে দেন। এ ব্যাপারে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের দলটির নতুন কোচ ম্যান ইউ টিভিকে বলেন, ‘আপনি সবসময়েই নিজের প্রথম খেলায় জিততে চাইবেন। তাছাড়া আপনি যখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ তখন তো আপনার কাজই হবে খেলাগুলোয় জেতা। আমি এ ব্যাপারটা ওয়াকিবহাল আছি। খেলোয়াড়রাও আজ তাই করেছে এবং সত্যি ভাল খেলেছে।’ ফার্গুসন ২৭ বছর ম্যান ইউ’তে থাকার পর গত বছর অবসর নেন। এই সময়ে তিনি ৩৮টি বড় শিরোপা জেতেন। ১৯৮৬ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ফার্গুসন। অবসরের আগেও গেল মৌসুমে দলকে শিরোপা জেতানো ফার্গুসনের অভাবটা অবশ্য মোটেও বুঝতে দেননি ময়েস ও তার শিষ্যরা। এমনকি বিপক্ষের মাঠে খেলা হবার পরও। লিভারপুলও ড্যানিয়েল স্টুরিডজের দেয়া একমাত্র গোলে স্টোক সিটিকে হারিয়ে ভাল সূচনা পায়। ভাগ্য সহায় না থাকলে এক পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়তে হতো তাদের। কারণ শেষ মুর্হূতে পেনাল্টি পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি স্টোক সিটি। তবে দুই বড় ক্লাবের জয়ের রাতে হারের লজ্জা পেল আর্সেনাল। নিজেদের মাঠে অ্যাস্টন ভিলার কাছে ৩-১ গোলে হারে আর্সেন ওয়েঙ্গারের দল। অ্যাস্টন ভিলা লিগের প্রথম দিনেই অঘটনের জন্ম দেয়। গত মৌসুমে পয়েন্ট টেবিলে ১৫তম স্থানে থাকা অ্যাস্টন ভিলার বিরুদ্ধে দাপুটে শুরুর পরও আর্সেনালের এই হারে কোচ ওয়েঙ্গার রেফারিকে দুষলেও সমর্থকরা অবশ্য খেলোয়াড় কেনার জন্য দাবি জানায় খেলা চলাকালেই। ফরাসি স্ট্রাইকার অলিভার গেরুদ ষষ্ঠ মিনিটে দলকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেয়ার পর বেশিক্ষণ থাকেনি এই অগ্রগামিতা। বেলজিয়াম স্ট্রাইকার ক্রিস্টিয়ান বেনটেক একাই দুই গোল করেন। শেষ বাঁশির পাঁচ মিনিট আগে আর্সেনালের কফিনে শেষ পেরেক ঠোকেন ডিফেন্ডার আন্তনিও লুনা। ওয়েঙ্গার অবশ্য পেনাল্টি থেকে পাওয়া বেনটেকের দ্বিতীয় গোলটি নিয়ে রেফারির সিদ্ধান্তে প্রশ্ন তোলেন। মূলত এ গোলটিই গানার্সদের খেলায় ফেরার সকল সম্ভাবনা শেষ করে দেয়। কেননা বিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের সাথে লরেন্ত কোসিয়েলনির সংঘর্ষের পর এই পেনাল্টিটি বরাদ্দ করা হয়। অথচ ওই বল দখলের লড়াইয়ে দৃশ্যতই ফরাসি খেলোয়াড়টি জিতেছিলেন। কিন্তু রেফারি শুধু পেনাল্টিই দেননি, লরেন্তকে হলুদ কার্ডও দেখান। এই ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যে ডিফেন্ডারটি আরো এক দফা হলুদ কার্ড দেখলে মাঠ ছাড়া হন। তখন খেলার ৬৭ মিনিট চলছিল। এই হারে হতাশ ওয়েঙ্গার বলেন, ‘যারা ক্লাবটিকে ভালোবাসে এমন হারের ফলে তারা সবাই খুবই কষ্ট পেয়েছে। সেই সাথে আমিও হতাশ। লিগের প্রথম ম্যাচেই হেরে যাওয়ায় ভক্তদের কিছু বলার ভাষা খুেঁজ পাচ্ছি না আমি।’ বাসস/ফক্সস্পোর্টস