ফোরামকে প্রতিহত করবে ক্লাবগুলো
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০১৩, ২১:৩৬
জাতীয় রাজনীতির মতোই উত্তপ্ত পরিস্থিতি যেন এখন ক্রিকেট রাজনীতিতে। তবে এখানে লড়াইয়ের মাত্রাটা ভিন্ন—ফোরাম বনাম ঢাকার ক্লাব। মোটা দাগে এই দুই পক্ষ প্রতিদিনই প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করে তীব্র সব বক্তব্য দিচ্ছে; পরদিনই আবার আরো পাল্টা আক্রমণ শোনা যাচ্ছে প্রতিপক্ষ শিবির থেকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত পরশু সংবাদ সম্মেলনে দেয়া ফোরামের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানালো ঢাকার ক্লাবগুলো।
ক্লাবগুলোর পক্ষে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে আবাহনীর ইসমাইল হোসেন মল্লিক ও মোহামেডানের লোকমান হোসেন ভুঁইয়া পরিষ্কার বলে দিলেন, ফোরাম এমন বক্তব্য দেয়া অব্যাহত রাখলে তারা এই সংগঠনটিকে প্রতিহত করবেন। এমনকি ঢাকায় অন্তত ফোরামকে এরকম ‘অশালীন কথা’ বললে আর সভা করতে দেবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দিলেন ক্লাব কর্মকর্তারা।
নেতৃত্বের দিক থেকে দেখলে লড়াইটা মূলত ক্ষমতাসীন দলের দুই সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী বনাম নাজমুল হাসান পাপনের লড়াই। সেই লড়াইটা এখন পরিণত হয়েছে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠকের সংগঠন ফোরাম বনাম ঢাকার ক্লাব সমিতির লড়াইয়ে। যদিও দুই পক্ষই দাবি করে তাদের সঙ্গে আছে আসলে সারা দেশেরই সংগঠকরা। আগের দিন ফোরাম সংবাদ সম্মেলন করে বলেছে, তাদের সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্লাব আছে। কাল ক্লাবগুলো বললো, তাদের সঙ্গে বেশিরভাগ ক্লাব তো আছেই, আছেন অধিকাংশ জেলা ও বিভাগীয় সংগঠকও।
ফোরামের সভাপতি ইউসুফ জামিল বাবু আগের দিন বলেছেন, তারা আর যাই হোক নাজমুল হাসান পাপনকে সমর্থন দেবেন না; কারণ তার অভিজ্ঞতা নেই ও তার এডহক কমিটির বিপক্ষে দুর্নীতির অভিযোগ আছে। কাল দুটি যুক্তিই খন্ডালেন মল্লিক। তিনি বললেন, ‘ফোরামের সমর্থন এখানে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ না। আমি জানিয়ে রাখতে চাই, আমাদের সঙ্গে কিন্তু জেলা পর্যায়ের ক্রীড়া সংগঠকদের যোগাযোগ রয়েছে। প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ জন সেক্রেটারি পাপন ভাইকে সমর্থন দিয়েছেন। সামনে দেখতে পাবেন ওনারা প্রকাশ্যে এসে পাপন ভাইকে সমর্থন দেবে। পাপান ভাই যেহেতু দেশে নাই; উনি দেশে ফিরলে ২২ বা ২৩ তারিখ উনারা প্রকাশ্যে এসে একটা প্রোগ্রাম করবে। ফোরামের সমর্থন উনি কোনোদিন চায়ও নাই, ফোরামের সমর্থন উনার দরকারও নাই।’
একই সঙ্গে দুর্নীতি বিশেষ করে টেন্ডার ছাড়া কক্সবাজার ও বিকেএসপিতে কাজ করার অভিযোগ খন্ডন করে মল্লিক বললেন, আগের কমিটি কিছু সরাসরি ক্রয়ের নির্দেশ দিয়ে গেছে। আর বাকিটা টেন্ডার করা হয়েছে। এই জবাব দিতে গিয়ে আবারও ফোরামের বিপক্ষে পাল্টা দুর্নীতির অভিযোগ করলেন ক্লাব কর্মকর্তারা।
মোহামেডানের ডিরেক্টর ইন চার্জ ও বোর্ড পরিচালক লোকমান হোসেন ভুঁইয়া নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বললেন, ‘বাফুফে নির্বাচনে কি হয়েছে আপনারা জানেন। নির্বাচনের পর বাফুফের ইজিএমে কাউন্সিলররা যেভাবে বাবুকে অপমান করেছেন, তারপর তিনি কিভাবে কথা বলেন সেটা আমার প্রশ্ন। ফোরামের হাত থেকে ক্রীড়াঙ্গনকে বাঁচাতে হবে। বাবু যে বক্তব্য রাখছেন সেটা অচিরেই বন্ধ করা উচিত।’
একই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মল্লিক আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ইউসুফ জামিল বাবুর দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, ‘কাল বাবু বলেছেন উনার ৫০ কোটি টাকার বাড়ি আছে। বাড়ি তো থাকবেই, উনি প্রতিটি নির্বাচনে টাকা দিয়ে ভোট বিক্রি করে। উনার বাড়ি তো হবেই।’
একই সঙ্গে এই দুই সংগঠক দাবি করলেন, এই বোর্ড নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই তারা ফোরামের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের দাবি মতে জেলা থেকে ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট নয়, এমন সব লোক ফোরামের জোরে কাউন্সিলর হয়ে ক্রিকেটে ছড়ি ঘোরায়।
আর এসব আগ্রাসী কথাবার্তার ধারাবাহিকতায়ই মল্লিক পরিষ্কার ঘোষণা দিলেন, ফোরাম যদি ‘অশালীন কথাবার্তা’ চালিয়ে যায়, তাহলে তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন, ‘ওনারা এরকম দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তা বললে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। আমরা ঢাকায় আছি। ওনারা ঢাকায় এসে এরকম কথাবার্তা বলে যাবেন, তা হবে না।’