হলমার্ক মামলার চার্জশিট এ মাসেই
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০১৩, ২১:৫৪
ব্যাংকিং ইতিহাসে মহাকেলেঙ্কারিতে পরিণত হওয়া বহুল আলোচিত হলমার্ক ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় দায়ের করা ১১টি মামলার চার্জশিট এ মাসেই দাখিল করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের তদন্ত দল ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে। এখন প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। অপর দিকে এ চার্জশিটে চমক থাকছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট দুদক কর্মকর্তারা। তবে কি ধরনের চমক থাকছে তা নিয়ে এখনই কিছু বলতে রাজি নন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। চার্জশিটের ব্যাপারে দুদকের চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান জানান, হলমার্কের ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় দুদকের দায়ের করা মামলার তদন্ত কাজ প্রায় শেষ। এমাসের মধ্যেই চার্জশিট দেয়া সম্ভব হবে।
দুদকের তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, হলমার্ক গ্রুপের বিরুদ্ধে ১১ মামলায় এজাহারভুক্তদের বাদ পড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে নতুন করে আরো দেড় ডজন আসামি চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এর মধ্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক ব্যক্তির নাম থাকতে পারে। দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় যারা প্রভাব বিস্তার করেছে তাদের নাম চার্জশিটে থাকতে পারে। তবে কারা নতুন করে মামলার চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন তদন্তের স্বার্থে নামগুলো জানাননি ঐ কর্মকর্তা।
চার্জশিটে নতুন কোন নাম যোগ হবে কি না জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক তদন্ত কর্মকর্তা (উপ-পরিচালক) বলেন, অপরাধের সঙ্গে এজাহারের বাইরে আরো ১২ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। চার্জশিটে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। আমাদের তদন্তে যার নামই আসুক না কেন কোন ছাড় দেয়া হবে না।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছর ধরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ নিয়ে অনুসন্ধান ও তদন্ত করে যাচ্ছে। অনুসন্ধান শেষে ফান্ডেড ১ হাজার ৯শ ৪১ কোটি ৩১ লাখ ৭১ হাজার ৮০২ টাকা জালিয়াতির জন্য ১১টি মামলা দায়ের করেছে। এছাড়া রয়েছে নন-ফান্ডেড ১ হাজার ৫শ ১০ কোটি টাকা যা এখনো অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে। দুই পর্যায়ের কাজ নিয়ে দুদক তদন্ত দলকে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে। নন-ফান্ডেড অংশের জালিয়াতির অনুসন্ধান কাজের ধীরগতি নিয়ে জানতে চাইলে দুদকের ঐ উপ-পরিচালক বলেন, নন-ফান্ডেড অংশের ব্যাপকতা এত বেশি যে চাইলে তা দ্রুত শেষ করা যাচ্ছে না। তারপরও আমরা আমাদের কাজকে গতিশীলভাবে এগিয়ে নিতে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি।
এদিকে দুদক সূত্র আরো জানিয়েছে, হলমার্ক জালিয়াতির ঘটনায় ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড মিলিয়ে ৩৭টি ব্যাংকের দেড় শতাধিক শাখার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সরকারি ৭টি ব্যাংক, বেসরকারি ২৫টি ব্যাংক এবং বিদেশি ৫টি ব্যাংকের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এসব ব্যাংকের মধ্যে ফান্ডেড সোনালী ব্যাংক রূপসী বাংলা শাখা থেকে ছাড়কৃত অর্থের পরিমাণ হলো-১ হাজার ৯শ ৪১ কোটি ৩১ লাখ ৭১ হাজার ৮০২ টাকা।
উল্লেখ্য, ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় রাজধানীর রমনা থানায় দুদকের ছয় কর্মকর্তা বাদী হয়ে হলমার্ক গ্রুপের ৭ এবং সোনালী ব্যাংকের শাখা ও প্রধান কার্যালয় মিলে ২৭ জনের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা করে দুদক। ২৭ জনের মধ্যে ১৮ জন ১১টি মামলাতেই আসামি। মামলার আসামিদের মধ্যে হলমার্ক গ্রুপের আছে হলমার্কের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম, এমডি তানভীর মাহমুদ এবং জিএম তুষার, গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আনোয়ারা স্পিনিং মিলসের স্বত্বাধিকারী মো. জাহাঙ্গীর আলম, ম্যাক্স স্পিনিং মিলসের স্বত্বাধিকারী মীর জাকারিয়া, সেঞ্চুরি ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মো. জিয়াউর রহমান, এ্যাপারেল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. শহিদুল ইসলাম।
অপর আসামিরা হচ্ছেন সোনালী ব্যাংক রূপসী বাংলা শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক একেএম আজিজুর রহমান, এজিএম মো. সাইফুল হাসান (সাময়িক বরখাস্ত), নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন (সাময়িক বরখাস্ত), জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন্নেসা মেরী, অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র অফিসার মো. ওয়াহেদুজ্জামান এবং ব্যাংকটির হেড অফিসের ডিএমডি মো. মাইনুল হক (বর্তমানে ওএসডি), ডিএমডি মো. আতিকুর রহমান (ওএসডি), জিএম আনম মাশরুর উল হুদা সিরাজি, জিএম ননী গোপাল নাথ (ওএসডি), ডিজিএম ভগবতী মজুমদার (সাময়িক বরখাস্ত), সাবেক জিএম সবিতা সিরাজ, ডিজিএম ফাতেমা চৌধুরী, এজিএম মো. কামরুল হোসেন খান (সাময়িক বরখাস্ত), এজিএম আশরাফ আলি পাটোয়ারি (সাময়িক বরখাস্ত), এজিএম মো. আবুল হাসান ও এজিএম মো. খুরশীদ।