পিঁয়াজের ঝাঁজ উপমহাদেশ জুড়ে
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০১৩, ২৩:২৫
রান্নার অন্যতম অনুষঙ্গ পিঁয়াজের ঝাঁজে পুড়ছে পুরো উপমহাদেশ। শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারত, পাকিস্তান এমনকি মধ্যপ্রাচ্যেও পিঁয়াজের দাম বাড়ছে হু হু করে। ভারতে পিঁয়াজের দামকে ঘিরে রাজনীতি জমে উঠেছে বেশ। সেখানকার গণমাধ্যমগুলো বলছে, দামের এ প্রভাব আগামী নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। কাশ্মীর সীমান্তে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করলেও পিঁয়াজকে ঘিরে দু’দেশের কূটনীতি জমে উঠেছে। ইতিমধ্যে অভ্যন্তরীণ বাজার সামাল দিতে পাকিস্তানকে পিঁয়াজ রপ্তানির আনুষ্ঠানিক আহবান জানিয়েছে ভারত। কিন্তু দু’ সপ্তাহের ব্যবধানে পাকিস্তানের বাজারে পিঁয়াজের দাম ২০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় আপাতত সেটা আর হচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যেও পিঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে ২০ শতাংশ। চীন থেকেও পিঁয়াজ আমদানির চেষ্টা করছে ভারত।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, ‘পিঁয়াজ নামক বস্তুটি এখন সরকারের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতের রাজনীতিবিদরা অতীত থেকে শিক্ষা নেয়নি। অতীতের কথা উল্লেখ করে পত্রিকার খবরে বলা হয়, পিঁয়াজের দাম ক্রমাগতভাবে বেড়ে যাবার কারনে ১৯৮১ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতা হারিয়েছিলো। সে সময় এটিকে ‘ওনিয়ন ইলেকশন’ বলা হয়েছিলো।
উপমহাদেশের সিংহভাগ পরিবারের কাছে পিঁয়াজের গুরুত্ব অনেক বেশি। গত কয়েকদিনে ভারতে প্রতিকেজি পিঁয়াজের দাম ২০ রুপি থেকে বেড়ে প্রায় একশ রুপিতে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানেও একই অবস্থা। সপ্তাহখানেক আগে সেখানে প্রতিকেজি পিঁয়াজ বিক্রি হয়েছিলো ১৯৬ টাকায়। গতকাল তা বিক্রি হয়েছে ২৪০ টাকায়। বাংলাদেশেও আমদানিকৃত পিঁয়াজের দাম লাফাতে লাফাতে উঠে এসেছে ৯০ টাকার উপরে।
ইকোনোমিক টাইমস এক প্রতিবেদনে লিখেছে, ১৯৮৯ সালে উত্তর প্রদেশে বিজেপি সরকারে ছিলো। তরকারি এবং সালাদের অন্যতম অনুষঙ্গ পিঁয়াজের দাম বেড়ে যাবার কারণে সেবার মসনদ হারায় বিজেপি। এখন দিল্লীতে কংগ্রেস সরকারে রয়েছে। চলতি বছরের নভেম্বরে দিল্লীতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কংগ্রেস সরকারও এবার পিঁয়াজের দামের কারণে ভয়ের মধ্যে রয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, দিল্লীতে দাম যাতে সহনীয় থাকে সেজন্য সেখানে প্রতিদিন ৫০টি ট্রাকে করে ন্যায্যমূল্যে পিঁয়াজ বিক্রির ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
তবে, ভারতের পিঁয়াজ সংকটকে সংবাদমাধ্যমগুলো বিশেষ করে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো আরো উস্কে দিচ্ছে বলে রিপোর্ট করেছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। তাদের রিপোর্টে বলা হয়, খরার কারণে ভারতের সবচেয়ে বেশি পিঁয়াজ উত্পাদনকারী অঞ্চল মহারাষ্ট্রে এবার ফলন কম হয়েছে। এছাড়া অতিবৃষ্টির কারণেও দেশটির অন্যান্য অঞ্চলের ফসল মার খেয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি এতটা খারাপ হবার নয় বলে দাবি করছে রয়টার্স। মুম্বাই এর গৃহবধূ রাধিকা প্যাটেলের সাথে কথা বলে বার্তাসংস্থাটি জানিয়েছে, রাধিকা গত শনিবার মুম্বাই এর সুপারমার্কেট থেকে ১০ কেজি পিঁয়াজ কিনেছেন। সাধারণত: এর আগে তিনি প্রতিসপ্তাহে দু’কেজি করে পিঁয়াজ কিনতেন। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো পিঁয়াজের দাম বেড়ে গিয়ে একশ টাকা হয়েছে-এমন রিপোর্ট করার পর রাধিকা বাজারে ছুটে গিয়েছেন। কিন্তু তিনি প্রতিকেজি পিঁয়াজ ৫৮ টাকা করে কেনার পরদিনই পিঁয়াজের দাম বেড়ে গিয়েছে। ভারতের একজন বিশ্লেষকও রয়টার্সকে বলেছেন, জনবহুল দেশটিতে কোন গুজব চাউর হতে সময় লাগে না। শেষ পর্যন্ত তা খারাপ ফল নিয়ে আসে।
এদিকে, পিঁয়াজের ঝাঁজ কমাতে পাকিস্তানের ব্যবসায়ীদের আরো বেশি করে পিঁয়াজ রপ্তানির আহবান জানিয়েছে ভারত সরকার। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত আসেনি। অনেকে মনে করছেন, যেহেতু পাকিস্তানেও পিঁয়াজের দাম বাড়তির দিকে সেহেতু ভারতের আহবানে সেখানকার ব্যবসায়ীরা সাড়া নাও দিতে পারেন। ইতিমধ্যে ভারত পিঁয়াজ রপ্তানির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলেও কয়েকদিনের মধ্যে দেশটি রপ্তানিও বন্ধ করে দিতে পারে।
তবে ভারতীয় সরকার মনে করছে, চীন বা পাকিস্তান যেখান থেকেই হোক পিঁয়াজ আমদানি সম্ভবপর হবে। এতে করে পিঁয়াজের দাম অর্ধেকে নেমে আসবে। ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল কো-অপারেটিভ মার্কেটিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (নাফেদ) পিঁয়াজ আমদানির উত্স খুঁজতে মরিয়া চেষ্টা করছে। পাকিস্তান বা চীন যেখান থেকেই হোক তারা এ বস্তুটি আমদানি করতে চান। নাফেদ এর চেয়ারম্যান বিরেন্দ্রর সিং জানিয়েছেন, এখন আর দরপত্র আহবানের সময় নেই। ওপেন মার্কেট থেকে আমরা পিঁয়াজ আমদানি করতে চাই।