মিসরে জরুরি বৈঠকে বসছে মন্ত্রিসভা

মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির পক্ষে আন্দোলন নিয়ে সৃষ্ট সহিংসতা বন্ধের উপায় নিয়ে দেশটির মন্ত্রিসভা গতকাল রবিবার জরুরি বৈঠকে বসেছে। বৈঠকে মুরসির রাজনৈতিক দল মুসলিম ব্রাদারহুডকে ফের নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। এদিকে ব্রাদারহুড এর আগে কায়রোতে বিক্ষোভের যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল নিরাপত্তার কারণে তা স্থগিত করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, সামপ্রতিক সহিংসতার কারণে তারা মিসরের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও সিএনএন’র। সেনা সমর্থিত অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হাজেম আল-বেবলাউয়ি মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ করার যে প্রস্তাব শনিবার করেছেন, বৈঠকে তা বিবেচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মুরসিকে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়ার আন্দোলনের পেছনে প্রধান শক্তি যোগাচ্ছে ব্রাদারহুড। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর একের পর এক হুমকি এবং শত শত লোকের প্রাণহানি সত্ত্বেও গতকাল রাজধানী কায়রোসহ বিভিন্ন শহরে মুরসি সমর্থকরা বিক্ষোভের কর্মসূচি দিয়েছিল। অ্যান্টি ক্যু অ্যালায়েন্স নামের সংগঠনের ব্যানারে জোহরের নামাজের পর কায়রোর কাছে গির্জায় সুপ্রিম সাংবিধানিক আদালতের বাইরে জামায়াতের ডাক দেয়া হয়েছিল। কায়রোতেও এ ধরনের তিনটি বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু গতকালই কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়া হয়। এমনকি সংবাদ সম্মেলনও করা সম্ভব হয়নি। যে পথ দিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিল সেসব স্থানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ফলে আবারো রক্তপাত হতে পারে এই আশঙ্কায় কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। একই সময় ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিসরের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক রাখা না রাখার বিষয়টি নতুন করে ভেবে দেখবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেবলাউয়ি বলেছেন, যাদের হাত অনবরত রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে এবং যারা রাষ্ট্র ও তার প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অস্ত্র তাক করে আছে তাদের সঙ্গে কোনো সহাবস্থান নয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মুখপাত্র শেরিফ শায়োকি বলেন, ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে অপেক্ষাকৃত সহনশীল অবস্থানে থাকা ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী জেয়াদ বাহা এলদ্বীন মন্ত্রিসভার বৈঠকে একটি সমঝোতামূলক প্রস্তাব দেবেন বলে জানা গেছে। জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার, মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা এবং সব রাজনৈতিক দলের সহঅবস্থানের রূপরেখা থাকবে তার প্রস্তাবে। মিসরের ইতিহাসে প্রথম অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনে এগিয়ে থাকা মুসলিম ব্রাদারহুডকে এর আগে ১৯৫৪ সালে নিষিদ্ধ করে তত্কালীন সামরিক সরকার। এরপর ২০১১ সালে গণবিক্ষোভের মুখে দেশটির তিন দশকেরও বেশি সময়ের শাসক হোসনি মোবারকের পতন হলে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আবারও ফিরে আসে দলটি। সমপ্রতি একটি বেসরকারি সংস্থা হিসাবে আবার নিবন্ধিত হয় ১৯২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত গোষ্ঠীটি। এ সময় গোষ্ঠীর রাজনৈতিক শাখা ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি গঠন করে রাজনৈতিক দল হিসাবে তার নিবন্ধন নেয়। গত ৩ জুলাই গণবিক্ষোভের মুখে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে ক্ষমতাচ্যুত মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট মুরসি ব্রাদারহুডেরই একজন শীর্ষনেতা। তার ক্ষমতাচ্যুতির মধ্য দিয়েই রক্তক্ষয়ী রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখে পড়ে দেশটি।