পড়াশোনার চাপ উন্নতির নিয়ামক

২০১৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ক্যামব্রিয়ান স্কুল এন্ড কলেজ থেকে জিপিএ -৫ প্রাপ্ত এইচএসসি পর্যায় ছাত্র জীবনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। এক বছর আগেও আমার বোধে, অনুধাবনে তেমন জাগরুক ছিল না। প্রাথমিক, মাধ্যমিক স্তর থেকেও ভিন্নতার অনুভূতি আমাকে এনে দেয় । আবেগ, চঞ্চলতার গণ্ডি থেকে আমাকে কিঞ্চিত ধীরতা ও দায়িত্বশীলতার স্তরে প্রবেশ করতে হয়েছে। উচ্চশিক্ষা প্রবেশের ঠিক আগ মুহূর্তটি যে কত গুরুত্বপূর্ণ তার উপলব্ধি আমার এমনি এমনি হয়নি। শিক্ষা পদ্ধতিতেই আমাদেরকে জ্ঞানস্তর আয়ত্ত করে সেটি অনুধাবনের মাধ্যমে প্রয়োগ ঘটাতে হয় চূড়ান্ত মূল্যায়ন পর্যায়ে। উপরন্তু পারিবারিক, প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশও এর পেছনে কাজ করেছে। গ্রামে ছিলাম তিন চার কিলোমিটার হেঁটে কখনো রিকসায় আসতে হতো স্কুলে। মাধ্যমিকের পর চলে এলাম ঢাকায়। পবিবারের সবার ইচ্ছা ভালো পরিবেশ ভালো কলেজে পড়ে নিজেকে গড়ে তুলি। তার জন্য আমার উপর চাপও ছিল প্রচুর যেমনটি ছিল কলেজের তেমনটি পরিবারের । আমি সে চাপকে আমার উন্নতির নিয়ামক হিসেবেই দেখেছি। আমি কখনো এগুলোকে চাপ বলে বিবেচনায় আনিনি। এগুলোকে আমি নিজের উন্নতির উদ্দীপক হিসেবে দেখেছি। বিভিন্ন মনের বিভিন্ন বন্ধুদের সাথে মিলতে পেরে জীবনের অনেক বিষয় সর্ম্পকে জানতে পেরেছি। যা হোস্টেল ছাড়া কোথাও মনে হয় সম্ভব হতো না। কলেজ হোস্টেল সে এক অন্য রকম অনুভূতি। হোস্টেলের বন্ধুদের সাথে মিশে অনেক বিষয়ে শিক্ষা লাভ করেছি। ছাত্রজীবন- এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শৃঙ্খলাবোধ। যা মানুষের জীবনকে অনেক সুন্দর করে, সেই শৃঙ্খলাবোধই পেয়েছিলাম হোস্টেলে। হোস্টেলটিতে ছিল শিক্ষার পরিপূর্ণ পরিবেশ। যা এখনও আমি বেশি অনুভব করি। হোস্টেলের এই শৃঙ্খলাবোধের কারণেই আমি আমার পড়াশোনার বাধাগুলোকে অতিক্রম করতে পেরেছি। স্কুল জীবনে মা বাবার সাথে ছিলাম। তখন ছিলাম তাদের অভিভাবকত্বে কিন্তু কলেজ এর হোস্টেলে গিয়ে নিজের অভিভাবকত্ব নিজেই গ্রহণ করলাম। এ কঠিন দায়িত্বটা নেয়ার মনমানসিকতা আমি হোস্টেল থেকেই শিখেছিলাম। হোস্টেলে আমরা গ্রুপ অনুযায়ী পড়াশোনা করে অনেক মজা করে অনেক কিছু শিখতে পারতাম। তাছাড়া টিচারদের সর্বাত্মক আন্তরিকতা তো ছিলই। তাঁরা আমাদেরকে নিজেদের ছেলে-মেয়ের মতো ভাবতেন। টিচারদের আন্তরিকতা এবং বন্ধুদের সাহায্য নিয়ে অনেক কঠিন বিষয়গুলো সমাধান করতে পারতাম। যেটা আমার ভালো করার জন্য সহায়ক ছিল। হোস্টেলে যে শুধু পড়াশোনাই করতাম তাও কিন্তু নয়। বন্ধুদেরকে বিভিন্ন বিষয়ে সাহায্য করেছি এবং তাদের কাছ থেকে সাহায্য নিয়েছি। আমরা বুঝতে পেরেছিলাম আদান-প্রদানই সমৃদ্ধ হয় সবকিছু। তাছাড়া হোস্টেলে ছিল আমাদের জন্য সকল বিনোদনের ব্যবস্থা, হোষ্টেল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতেন। আমরা তাতে অংশ নিতাম এবং অনেক মজা পেতাম। যা আমি কখনও ভুলতে পারব না। হোস্টেলের অনেক নিয়মকানুনের মধ্যেও কোন একটি দিন থাকত যা ছিল আমাদের জন্য খুশির দিন। সেই দিনটা বৃহস্পতিবার রাত এবং শুক্রবারের পুরোদিনটা। আমরা ওই দিনগুলোতে অনেক মজা করতাম। এতে আমাদের পুরো সপ্তাহের ক্লান্তি দূর হয়ে যেত। নতুন উদ্যমে পড়াশোনা করতে পারতাম। কিন্তু এতো কঠিন শৃংখলার মধ্যে থেকেও আমরা কখনো আনন্দ করা থেকে বঞ্চিত হতাম না বরং আনন্দটাই ছিল অন্য সবার থেকে বেশি। হোস্টেলের সবাই মোটামুটি আমার ভালো বন্ধু ছিল। এভাবেই দুইটা বছর কিভাবে যে কেটে গেল তা ভাবতেই অবাক লাগে। এখন আমাকে আরো অধিক পড়তে হবে উচ্চতর শিক্ষার জন্য। সামনের দিনগুলোতে উচ্চতর দক্ষতার পরিচয় বা প্রয়োগ ঘটাতে হবে নিজের ও দেশমাতৃকার উন্নয়নকল্পে।