নবম-দশম শ্রেণির পড়াশোনা- বাংলা

মো. মিজানুর রহমান

সহকারি শিক্ষক (বাংলা)

গাইবান্ধা সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়।

পয়লা বৈশাখ

 

বন্ধুরা, ইত্তেফাক পত্রিকার ‘অনুশীলন পাতায়’ প্রকাশিত নবম-দশম শ্রেণির মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য বইয়ের ‘পয়লা বৈশাখ’ প্রবন্ধের নমুনা উত্তর লেখার নির্দেশনা অনুযায়ী উত্তর লেখার আয়োজন করে গাইবান্ধা সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়। সেখানে তোমাদের যে বন্ধুটি সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে তার প্রশ্নোত্তরটি আজ উপস্থাপন করা হলো।

 

দৃশ্যকল্প -১           

কবিদের এক মহান রাজা রবীন্দ্রনাথ

তোমার কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন কর জোড়ে যা পুরানো শুষ্ক মরা, অদরকারি

কাল বোশেখীর একটি ফুয়ে উড়িয়ে দিতে।

দৃশ্যকল্প - ২

ধ্বংস যদি করবে তবে শোনো তুফান

ধ্বংস করো বিভেদকারী পরগাছাদের

পরের শ্রমে গড়ছে যারা মস্ত দালান

বাড়তি তাদের বাহাদুরী গুড়িয়ে ফেলো

ক. বাঙ্গালির এক অনন্য উত্সবের নাম  লেখ।

ক. অসামপ্রদায়িক চেতনা বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

গ. দৃশ্যকল্প -১ এর সাথে ‘পয়লা বৈশাখ’ প্রবন্ধের মিল বা অমিল এর পক্ষে যুক্তি দাও।

ঘ. দৃশ্যকল্প- ২ ‘পয়লা  বৈশাখ’ প্রবন্ধের মূল চেতনার প্রতিনিধিত্বকারী কিনা? ব্যাখ্যা করো।

 

১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর:

ক.বাঙালির এক অনন্য উত্সবের নাম পয়লা বৈশাখ।

খ. অসামপ্রদায়িক চেতনা বলতে জাতি, ধমর্, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের ঐক্য ও সংহতিকে বোঝানো হয়েছে।

‘পয়লা বৈশাখ’ প্রবন্ধটিতে কবি অসামপ্রদয়িক চেতনার কথা উল্লেখ করেছেন। অর্থাত্ এ উত্সব শুধু হিন্দু বা মুসলমান, কিংবা বৌদ্ধ খ্রিস্টানদের নয় এ উত্সব সমগ্র বাঙালির। এ উত্সব শুধু বিত্তবান, মধ্যবিত্ত বা হত দরিদ্র কৃষকের নয়, এ উত্সব বাংলাভাষী এবং বাংলাদেশে বসবাসকারী সমস্ত মানুষের উত্সব। তাই অসাম্প্রদায়িক চেতনা বলতে মূলত সকল সমপ্রদায়ের মানুষের একতার মনোভাবকে বোঝায়।

গ. দৃশ্যকল্প-১ এর সাথে ‘পয়লা বৈশাখ’ প্রবন্ধের মিল রয়েছে।

‘পয়লা বৈশাখ’ প্রবন্ধের প্রাবন্ধিক বলেছেন, নববর্ষ হলো নবজন্ম বা পুনর্জন্ম। পুরাতন জীবনের ধারণা, অস্তিত্বকে বিদায় দিয়ে সজীব নবীন এক জীবনের মধ্যে প্রবেশ করার আনন্দ । ‘পয়লা বৈশাখ’ বাংলা নববর্ষ বাঙালির অন্যতম জাতীয় উত্সব। এর ঐতিহ্যও সুপ্রাচীন ও গৌরবমণ্ডিত। এ উত্সব শুধু হিন্দু, মুসলিম বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এ উত্সব সমগ্র বাঙালির। ধর্মীয় সংকীর্ণতা অতিক্রম করে বাংলা নববর্ষ উত্সব আজ আমাদের জাতীয় চৈতন্যের ধারক ও বাহক হয়ে উঠেছে । প্রাবন্ধিক প্রবন্ধটিতে পয়লা বৈশাখের জয় গান গেয়ে এরই প্রতিধ্বনি করেছেন।

 

দৃশ্যকল্প-১ এর সাথে ‘পয়লা বৈশাখ’ প্রবন্ধটির পুরোপুরি মিল রয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই পুরনো সবকিছুকে ত্যাগ করে নতুনকে গ্রহণ করার প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে। তাই বলা যায় দৃশ্যকল্প-১ এর সাথে ‘পয়লা বৈশাখ’ প্রবন্ধের সাথে মিল রয়েছে।

ঘ. হ্যাঁ, দৃশ্যকল্প-২ ‘পয়লা বৈশাখ’ প্রবন্ধের মূল চেতনার প্রতিনিধিত্বকারী। দৃশ্যকল্প-২ এর মূল প্রতিপাদ্য বিষয়টি হলো বিভেদকারী মানুষের ধ্বংস যা পরোক্ষভাবে অসামপ্রদায়িক চেতনাকে প্রস্ফুটিত করে। আর ‘পয়লা বৈশাখ’ প্রবন্ধে এই অসামপ্রদায়িকতা ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এজন্য দৃশ্যকল্প-২ প্রবন্ধের মূল বক্তব্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কযুক্ত ।

‘পয়লা বৈশাখ’ প্রবন্ধের লেখক বলেছেন বৃহত্তর জন জীবনের সঙ্গে শ্রমজীবী মানুষের অন্তরাত্মার সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপন করতে হবে। বাংলা নববর্ষের উত্সব বিশেষভাবে ঐশ্বর্যমণ্ডিত। সকল শ্রেণির সকল মানুষের উত্সব এটি।  ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র যে একটি সমাজে অত্যন্ত তাত্পর্যবহ তা জোরের সাথে বলা হয়েছে।  প্রবন্ধটিতে প্রাবন্ধিক ধনী-দরিদ্র , উঁচু-নিচু, মালিক - শ্রমিক ইত্যাদি বিভেদের সংকীর্ণতার বৃত্ত ভেঙ্গে বাংলা নববর্ষ সার্বজনীন রূপ পেয়েছে বাঙালি সমাজে।

 

দৃশ্যকল্প-২ টিতেও সমাজে বিভেদ সৃষ্টিকারী পরগাছা শ্রেণিকে ধ্বংস করার আহ্বান জানানো হয়েছে। যারা পরের শ্রমে দালান কোঠা বানিয়ে সমাজে  প্রভাব বিস্তার করে তাদের অহংকারকে ধ্বংস করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সমাজের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টিকারী পরগাছাদের এড়িয়ে সাম্যের সমাজ গড়ার কথা বলা হয়েছে। যাতে মানব সমাজের কল্যাণ সাধন হয়।

সুতরাং বলা যায় যে, দৃশ্যকল্প-২ টিও ‘পয়লা  বৈশাখ’ প্রবন্ধের মূল চেতনার প্রতিনিধিত্বকারী।