পোশাক শিল্পের উন্নয়নে বিদেশি ক্রেতাদের অবদান রাখতে হবে
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০১৩, ২১:১৯
অর্থনীতিবিদ ড. রেহমান সোবহান বলেছেন, পোশাক কারখানার কমপ্লায়েন্স রক্ষায় ফান্ড দেয়ার মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবদান রাখতে হবে। পাশাপাশি দেশি উদ্যোক্তাদেরকেও আন্তরিক হতে হবে। রানা প্লাজার মতো ঘটনা বন্ধ করতে দেশি-বিদেশি সব পক্ষের আন্তরিকতা ও দক্ষতা বাড়ানোরও পরামর্শ দেন তিনি। রাজধানীর একটি হোটেলে সোমবার আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত মধ্যাহ্ন ভোজসভায় তিনি এ কথা বলেন।
‘রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির শিক্ষা’ শীর্ষক ঐ আলোচনায় ড. রেহমান সোবহান বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক বৈদেশিক বাজারে যে দামে বিক্রি হয় তার ২৮ থেকে ২৯ শতাংশ পায় দেশি উত্পাদকরা। আর ৬৩ শতাংশই পায় বিদেশি খুচরা বিক্রেতারা। ফলে গ্লোবাল মার্কেটের যুগে বাংলাদেশের পোশাক কারখানার কমপ্লায়েন্স রক্ষায় বিদেশি বিক্রেতাদেরকে বড় অবদান রাখতে হবে। এক্ষেত্রে তাদের মুনাফার একাংশ কমপ্লায়েন্স রক্ষায় ব্যবহার করার তাগিদ দেন ড. রেহমান সোবহান।
বাংলাদেশের শ্রমবাজার এখনও প্রতিযোগিতামূলক হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বাজার থাকলে শ্রমিকরা নন-কমপ্লায়েন্ট কারখানায় কাজ করতে অনাগ্রহী হবে। ফলে মালিকরা নিজ থেকেই কমপ্লায়েন্স পালনে সচেষ্ট হবেন।
রানা প্লাজার মতো দুর্ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করে ড. রেহমান সোবহান বলেন, বাংলাদেশের সার্বিক সিস্টেমেই ত্রুটি রয়েছে। জমি অনুমোদন, বিল্ডিং অনুমোদন এবং বিল্ডিং পরিস্থিতি পরিদর্শনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ত্রুটি ও অনিয়মের কারণে কমপ্লায়েন্স পালন করা হচ্ছে না। এ অবস্থায় বিজিএমইএ-এরও (বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন) তদারকি বাড়াতে হবে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়ারও পরামর্শ দেন ড. রেহমান সোবহান।
অ্যামচেমের প্রেসিডেন্ট আফতাব-উল-ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান, গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এবং বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনসহ আরো অনেকে।
ড. কামাল হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, পোশাক কারখানার কমপ্লায়েন্স রক্ষায় অগ্রাধিকারভিত্তিতে সরকারের কাজ করা উচিত। কারণ এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক জড়িত। তাছাড়া দেশের অর্থনীতিতেও এ খাতের অবদান অনেক বেশি। স্পেক্ট্রাম ও তাজরিনের ঘটনার পরও কোন উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি হওয়া উচিত।