বুদ্ধিজীবী হত্যার বিচার চাইলেন পান্না কায়সার

স্বামী শহীদুল্লাহ কায়সারসহ সব বুদ্ধিজীবী হত্যার বিচার চেয়েছেন পান্না কায়সার। আল বদর নেতা চৌধুরী মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে একাত্তরে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন পান্না কায়সার। সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের ১৩তম সাক্ষী হিসেবে বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ দেয়া জবানবন্দিতে তিনি বলেন, একাত্তর সালের ১৪ ডিসেম্বর শ্বশুরবাড়ি কায়েতটুলি থেকে সন্ধ্যায় মুখঢাকা চার-পাঁচজন সশস্ত্র যুবক আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে যায়। এ সময় তিনি ও তার ননদ মিলে একজনের মুখ খুলে ফেলেন। দেশ স্বাধীনের পরে তার স্বামীর ছোট ভাই জহির রায়হান এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসলে তিনি তাকে শনাক্ত করেন। তার নাম খালেক মজুমদার। ওই সময় খালেক বলেন, তিনি শহীদুল্লাহ কায়সারকে হত্যা করেননি। তাকে ধরে নিয়ে মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামানের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। এরপর তার আর খোঁজ মেলেনি। ১৯৭২ সালে দালাল আইনে খালেক মজুমদারের বিচার শুরু হলে তিনি আদালতে একই কথা বলেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে সাক্ষীকে জেরা করেন মুঈনুদ্দীন-আশরাফুজ্জামানের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আব্দুস শুকুর খান ও সালমা হাই টুনি। জেরা শেষে ট্রাইব্যুনাল মামলার কার্যক্রম আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। বর্তমানে চৌধুরী মুঈনুদ্দীন যুক্তরাজ্য ও আশরাফুজ্জামান খান যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। তাদের অনুপস্থিতিতেই এ বিচার চলছে।