একযুগেও কমিটি হয়নি ফরিদপুর ছাত্রলীগের

২০০১ সালে ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তারপর কেন্দ্রীয় কমিটি কয়েকবার বদল হলেও বদল হয়নি ফরিদপুরের ছাত্রলীগের কমিটি। ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের রাজনীতি এখন অ-ছাত্র, ব্যবসায়ী আর বিবাহিতদের হাতে জিম্মি। দলীয় কর্মসূচিতে নেই জেলা কমিটির শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণ। আর এসব কিছু নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের এ ছাত্র সংগঠনের জেলার সাংগঠনিক কার্যক্রম আজ স্থবির। সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে কোন সমন্বয় না থাকা, কর্মীদের মূল্যায়ন না করা, দলের স্থায়ী কোন কার্যালয় না হওয়া, জেলার ৯টি উপজেলা, ৪টি পৌর ও ১৪টি কলেজ কমিটি না করাসহ বিবিধ কারণে ক্ষোভ, অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা এখন চরম পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। ছাত্রলীগের নবীন কর্মীরা কোন পদে আসতে পারছে না, নতুন কমিটি না হওয়ায়। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জেলার ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম। স্থবির ছাত্রলীগকে বিভক্তমুক্ত ও নতুন মেধাবী নেতৃত্বের জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সাধারণ কর্মীরা। জানা যায়, বর্তমান জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. মনির হোসেন মনির ৮ বছর আগে বিবাহ করেছেন, তিনি বর্তমানে এক সন্তানের জনক, ঠিকাদারী ব্যবসার সাথে জড়িত। সাধারণ সম্পাদক সত্যজিত্ মুখার্জী দুই সন্তানের জনক, তিনি বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বর্তমান প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর এপিএস হিসাবে কর্মরত রয়েছেন। এছাড়াও ১১ জন সহ-সভাপতির মধ্যে ৯ জন বিবাহিত, এলাকায় থাকেন না ৫ জন। পেশায় সকলেই ব্যবসায়ী। ৫ জন সহ-সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে ৩জন এলাকায় থাকেন না, অন্যরা ব্যবসায়ী এবং বিবাহিত। ৬ জন সাংগঠনিক সম্পাদকের মধ্যে একজন মারা গেছে, অন্যরা সকলেই বিবাহিত। এদের কেউ ব্যবসায়ী কেউবা রয়েছে চাকরিরত। এছাড়াও ১৩টি সম্পাদক ও সহ-সম্পাদকের অধিকাংশই এলাকার বাইরে অবস্থান করছে। জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বাবু নিজেকে ছাত্রনেতা বলতে এখন লজ্জা পান জানিয়ে বলেন, আর ছাত্রলীগ করতে চাই না এখন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ে ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের কমিটি না হওয়ায় দলের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হচ্ছে না। এতে করে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়ছে।