আইবিপিতে এস আলম গ্রুপের ১৭ হাজার কোটি টাকা অনিয়ম!

এস আলম গ্রুপের ১৭ হাজার কোটি টাকা ইনল্যান্ড বিল পার্চেজ (আইবিপি) অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জনতা ব্যাংকের চট্টগ্রামের একটি শাখা থেকে এস আলম গ্রুপের সাতটি প্রতিষ্ঠান সাড়ে ১২ কোটি টাকার মূল্যের বন্ধকের বিপরীতে এক হাজার ৯৩২ কোটি টাকা ঋণ নেয়। এই অভিযোগ দুদকে জমা পড়লে দুদক প্রাথমিক অনুসন্ধান করে। এরপর দুদক কর্মকর্তারা অভিযোগটিসহ এস আলম গ্রুপের ১৭ হাজার কোটি টাকা আইবিপিতেও অনিয়মের খোঁজ পায়। গতকাল সোমবার দুদক এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে জমা পড়া সব অভিযোগ খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। দুদকে জমা পড়া একটি অভিযোগে বলা হয়, জনতা ব্যাংক নিয়ম বহির্ভূতভাবে এস আলম গ্রুপের সাতটি প্রতিষ্ঠানকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সাড়ে ১২ কোটি টাকা মূল্যে জমির বিপরীতে এক হাজার ৯৩২ কোটি ৯২ লাখ টাকা ঋণ ছাড় করে। কিন্তু ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, এ পরিমাণ টাকা ঋণ ছাড় করতে দুই হাজার ৫৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকার সম্পত্তি বন্ধক রাখতে হতো। নিয়ম অনুযায়ী সম্পত্তি বন্ধক না রেখে এস আলম গ্রুপ ও ব্যাংক কর্মকর্তারা অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে বিপুল অঙ্কের ওই ঋণ ছাড় করে। এরপরও ঋণের টাকা ১৮০ দিনের মধ্যে শোধ করার নিয়ম থাকলেও এস আলম গ্রুপ নিয়মিত এ সময় বাড়ানোর চেষ্টা করে এবং এক পর্যায়ে খেলাপি হয়। দুদক কর্মকর্তারা অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর দুদক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ১৭ হাজার কোটি টাকা আইবিপিতে অনিয়মের অভিযোগের খোঁজ পান। দুদক কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের হিসাব শাখা থেকে জানতে পারেন এস আলম গ্রুপ কেবল ইনল্যান্ড বিল পার্চেজ করেই নিয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখা, আগ্রাবাদ শাখা, রূপালী ব্যাংক আন্দরকিল্লা শাখা, লালদীঘির পূর্বপাড় শাখা, খাতুনগঞ্জ শাখা, আমিন মার্কেট শাখা, জনতা ব্যাংক লালদীঘির পাড় ও আগ্রাবাদ শাখা, অগ্রণী ব্যাংক লালদীঘির পাড় শাখাসহ সেখানকার আরো একটি শাখা থেকে এসব টাকা নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, এস আলম গ্রুপ কয়েক হাজার ব্যাংক হিসাব খুলেছে। ওই সব হিসাবে বিভিন্নভাবে টাকা লেনদেন হচ্ছে। তারা ব্যাংক থেকে বিভিন্ন ধরনের ঋণ নেয়া ছাড়াও এলসি, এলডিআর করা, বিল ইস্যুকরণসহ বিভিন্নভাবে ঋণ নিচ্ছে। বন্ধক বা এলসির বিপরীতে ছাড় করা প্রায় প্রতিটি ঋণের পরিমাণ দুই হাজার কোটি টাকা। ব্যাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে আরো জানা গেছে, এস আলম গ্রুপের নামে আগে এলসি, বিল ও ঋণের ব্যাপারে অনেক অনিয়ম ছিল।