চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিলতা হল
আমাদের ভালো থাকার গল্প
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০১৩, ১৯:২৮
বাস্তব একটা জীবনের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ করে দেয় হল জীবন। বন্ধুদের সঙ্গে অনেক রাত জেগে আড্ডা দেয়া। ছাদে বৃষ্টিতে ভেজা। জ্যোছনা উপভোগ করা। একসঙ্গে সবাই মিলে হঠাত্ কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা করা। ক্যান্টিনে বসে বিকালের নাস্তা করা। বড়দের সম্মান করা। ছোটদের স্নেহ করাসহ অনেক কিছুরই সুযোগ করে দেয় এই হল জীবন। ছেলেদের সাথে সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরা। বিভিন্ন পেশায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছেন তারা। ‘বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।’ কবির কথার বাস্তব রূপায়ণ করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরা।
প্রীতিলতা হলের ছাত্রী জিনিয়া, ঈশিতা, রেনু, মোবাশ্বেরা, লাবনী, তানিয়াসহ আরও অনেকে তাদের হল জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন। হলে সিট সঙ্কট থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় হল জীবনের প্রথম বছর অনেকের কাটে গণরুমে। এছাড়াও প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদের কিছু কিছু কাজে থাকে প্রতিকূলতা। তবে গণরুমে অনেক মজাও রয়েছে। এখানে ঘুমানোর জায়গা কম হলেও আনন্দের পরিসীমা অনেক বিস্তৃত। হাসি-ঠাট্টা, মারামারি, নাচ-গান, একজনের খাবার অন্যজন জোর করে খাওয়া, বিশেষ করে আচার আনলে তো কথাই নেই। সেই সঙ্গে মাঝেমধ্যে মান-অভিমান, কিছু খুনসুটিও রয়েছে গণরুমে। তারপর ছয় মাস বা একবছর পর সুযোগ হয় ব্লকে থাকার। ব্লকের রুমের জীবন আবার সম্পূর্ণ আলাদা।
বিশ্ববিদ্যালয় হল জীবনের আনন্দময় অভিজ্ঞতা টিভিরুম। প্রিয় দলের খেলা, হৈ হুল্লোড়, খেলা শেষে আনন্দ মিছিলও করা হয় অনেক সময়। সে এক অন্যরকম অনুভূতি— ভাষা দিয়ে বুঝানো সম্ভব নয়। আর খেলা শেষে বিশ্লেষকের কোন অভাব হয় না। এই নিয়ে চলে অফুরন্ত আড্ডা। কমনরুমে রয়েছে ইনডোর খেলার নানা সামগ্রী। টেবিল টেনিস, ক্যারাম, দাবা, লুডু খেলায় মেতে থাকে ছাত্রীরা।
প্র্যাকটিক্যাল, নোট, অ্যাসাইনমেন্ট— ছাত্রীদের ব্যস্ততা আরও বাড়িয়ে দেয়। তারপরও আড্ডা গল্পের বিন্দুমাত্র কমতি নেই হলে। একবার শুরু হলে তা আর শেষ হবার নয়। কত যে বিষয় নিয়ে আড্ডা হয় তার কোন ইয়ত্তা নেই। মধুময় এ সময়গুলো খুবই মজাদার এবং কখনই ভুলবার নয়। যত গভীর রাতেই ঘুমাক না কেন সকাল ৮টায় চোখ মুছতে মুছতে সবাই ক্লাসে যায় ঠিকই।
হল জীবনের আরও একটি উপভোগ করার মতো বিষয় হলো ফিস্ট, এতে অনেক আনন্দ, আড্ডা, নাচ-গান, বিকালে শাড়ি পরে ঘুরতে বের হওয়া, সন্ধ্যায় প্রতিযোগিতামূলক খেলা, মজার মজার খাবার খাওয়া, সবকিছু মিলে অতুলনীয়। তবে ছোটদের সবসময় সতর্ক থাকতে হবে যেন কোন বড় আপু যেকোন ভাবেই হোক কষ্ট না পায়, প্রচুর সম্মান দিতে হবে তাদের। তারা যেমন কটাক্ষ করে কথা শোনায় তেমনি আবার স্নেহও করেন। এটা তেমন কোন ব্যাপার না। কেননা, টক-ঝাল-মিষ্টি তো থাকবেই, না থাকলেই বা কেমন হবে।