আমাদের প্রিয় ক্যাম্পাস
পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০১৩, ১৯:৩০
বিশ্ব মানচিত্রে ছোট্ট একটি ভূখন্ডের দেশ বাংলাদেশ। এই ভূখন্ড ছোট হলেও এর সৌন্দর্যের বৈশিষ্ট্য পাহাড় সমান। আর বাংলাদেশের এই বৈশিষ্ট্য যদি ব্যাখ্যা করা হয় সেক্ষেত্রে এর দক্ষিণ অঞ্চলকে বাদ দিয়ে চিন্তা করা প্রায় অসম্ভব। বাংলাদেশের মায়াবী স্রোতের ধারা বাহিত বরিশালের একটা জেলা পিরোজপুর। এই চারণভূমির একটা বড় পাঞ্জেরি হলো ‘সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ’।
অনেক গুণী ও শিক্ষানুরাগী লোকের হাত ধরে এই কলেজ পথ চলা শুরু করে যেমন, আব্দুল হাকিম মোক্তার, মোবারক আলি মোক্তার, পিরোজপুর তথা বাংলার কৃতী সন্তান পূর্ব বাংলার তত্কালীন গভর্নর শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, শিক্ষাবিদ প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁ, শিক্ষামন্ত্রী সৈয়দ আজিজুল হক নান্না মিয়া, এ্যাডভোকেট নিজামউদ্দিন হায়দার, মো. জয়নুল আবেদীন মোক্তার, এ. কে. ফজলুল হকের খালাম্মা শাসছুন্নেছা প্রমুখ।
অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই কলেজ তার গর্ভ থেকে অনেক মহান নেতা ও সমাজসেবককে জন্ম দিয়েছে যারা দেশ ছাড়িয়ে বহিঃবিশ্বে বিজয়ের মুকুট জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। যাদের এ কলেজ যোগ্য মানুষ রূপে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে তারা সত্যিই বাঙালি জাতিকে নেতৃত্ব দিয়ে সামনে নিয়ে চলছে। সাবেক অর্থসচিব ড. জাকির আহমেদ খান, অধ্যাপক ড. তারেক শামছুর রাহমান, বিশ্বখ্যাত জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ এদের বিশাল দলের একটা ক্ষুদ্র অংশ মাত্র।
মাত্র এগারো একর জমির উপর মাথা উঁচু করে আছে এই কলেজ। কলেজ ক্যাম্পাসে আছে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিশাল নীল দীঘি হোস্টেলের সামনে আছে আরও একটি দীঘি। একটি প্রশাসনিক ভবন ও চারটি একাডেমিক ভবনে চলে এই কলেজের প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম। ছাত্রদের আবাসিক সুবিধার জন্য আছে ‘শহীদ ওমর ফারুক ছাত্রাবাস’। প্রশাসনিক ভবনের সামনের পুকুরের পূর্ব পাশে আছে কলেজ জামে মসজিদ ও পশ্চিমে আছে ছাত্রসংসদ ভবন। লাইব্রেরি, সেমিনার, কমনরুম তো আছেই, আছে বেশ বড় একটা খেলার মাঠও। প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীদের পদচারণায় সব সময় মুখরিত থাকে এই কলেজ ক্যাম্পাস। চৌদ্দটি বিষয়ে এখান থেকে স্নাতক ডিগ্রী দেয়া হয়।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ফারজানা রিমা বলেন, ‘আমার কলেজ আমার কাছে অনেক কিছু, এই কলেজকে নিয়েই আমি স্বপ্ন দেখি।’ কলেজের পুকুরদ্বয়ের পাড়ের তাল, মেহগনি, শিরিষ গাছের নিচে দেখা যায় অনেক ছোট-বড় দলের আড্ডা। এই গাছতলা, মাঠের পাশেই অনেকের হয়েছে আড্ডাবাজি যারা চোখ বুজে সেই স্মৃতি রোমন্থন করেন। ‘এই স্থান থেকেই আমার পথচলা শুরু চোখ বুজলে যেন এর স্নেহ পাই, এই কলেজে অনেক সমস্যা আছে যার সমাধান জরুরী।’ বলছিলেন এই কলেজের সাবেক ছাত্র ও ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আসাদুল্লাহ। এই অঞ্চলে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার ক্ষেত্রে অনেক ভূমিকা পালন করছে বলে দাবি করেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক গনেশ চন্দ্র অধিকারী। এই কলেজ যেন সব শিক্ষার্থীর অন্তরে সব সময় মিশে থাকে। এর স্থান যেন সবার অন্তরের মধ্যখানে।